কোরবানীর সঙ্গে আকীকাহ!

কোরবানীর সঙ্গে আক্বীকা দেয়া যাবে কি ?

কিয়াছ বা আন্দাজিক ফতোয়া নয় আসুন জেনে নিই সুন্নাহ সম্মত আক্বীকা দেয়ার বিধানঃ
হযরত সামুরা রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন,
প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে রক্ষিত। অতএব সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে আকিকা কর, তার চুল কাট ও তার নাম রাখ। (আহমদ, তিরমিজি-সহিহ সূত্রে)

নবজাতকের চুলের ওজন পরিমাণ রৌপ্য সদকা করা সুন্নত। আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম হাসানের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে ফাতিমা, তার মাথা মুণ্ডন কর ও তার চুলের ওজন পরিমাণ রৌপ্য সদকা কর। (তিরমিজি)।

আক্বীকার বিধানঃ
আক্বীকার উপর রাসুল সঃ এর এসব গুরূত্ত্বারোপের উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ ইমাম আক্বীকা কে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন।

কোরবানী ও আক্বিকা দুটি ভিন্ন ইবাদত। কোরবানীর সাথে আক্বিকাকে এক করার কোন সুযোগ নেই। রাসুল (সাঃ) সন্তানের আক্বিকা সপ্তম দিনে করবার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর আক্বিকা হল সন্তানের নিরাপত্তা টিকা। এর মাধ্যমে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এখন ধরুন একটি বাচ্চার জন্ম হল কোরবানী ঈদের ১০ মাস আগে। যদি কোরবানীর সাথে তার আক্বিকা একসাথে করতে হয় তবে এই দশ মাস বাচ্চাটি নিরাপত্তাহীন থাকবে।

রাসুল(সাঃ) ছেলের জন্য দুটি ও মেয়ের জন্য একটি ছাগল আক্বিকার নির্দেশ দেন। কিন্তু কোরবানীর পশুর সাথে অংশীদারে আক্বিকা দেয়ার কোন বিধান হাদীসে নেই।

হযরত ইমাম আবু হানিফা রহঃ কোরবানীর সঙ্গে আক্বিকা দেয়া জায়েজ বললেও অন্য তিন ইমাম কোরবানীর সঙ্গে আক্বীকা দেয়া কে নাযায়েজ বলেছেন।

আক্বিকার সকল নিয়ম হাদীসে পরিষ্কার বর্ণীত থাকা সত্তেও আমরা ঐ নিয়মে না করে মানুষের বানানো নিয়মে কেন করবো?

তাই সকলের কাছে অনুরোধ কোরবানীর সাথে আক্বিকা একসাথে দিবেন না। কেননা, এতে করে সুন্নাতের অনুসরণ তো হয়ইনা বরং আক্বিকার শুদ্ধতা নিয়ে ও প্রশ্ন থাকে।
দেখুন এ বিষয়ে হাদীস কি বলেঃ

 عَنْ أُمِّ كُرْزٍ الْكَعْبِيَّةِ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ « عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاة
ٌ
উম্মে কুরযিল কা’বিয়্যাহ রাঃ বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, ছেলের জন্য দু’টি একইমানের বকরী ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী [আক্বিকা দিবে]।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৮৩৬, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৫১৩, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৯৬৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৩১৩, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪৬৪৮, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯০}

عن أم كرز قالت قالت امرأة من أهل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت امرأة عبد الرحمن غلاما نحرنا عنه جزورا فقالت عائشة : لا بل السنة عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة يطبخ جدولا ولا يكسر لها عظم فيأكل ويطعم ويتصدق يفعل ذلك في اليوم السابع فإن لم يفعل ففي أربع عشرة فإن لم يفعل ففي إحدى وعشرين

হযরত উম্মে কুরজ বলেন, আব্দুর রহমান বিন আবী বকরের পরিবারের এক মহিলা বলেন, আব্দুর রহমানের স্ত্রী ছেলে সন্তান প্রসব করে, তখন আমরা তার পক্ষ থেকে একটি ভেড়া জবাই করেছি। তখন হযরত আয়শা রাঃ বললেন-এমনটি নয়, বরং পদ্ধতি হল-ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি সমান পর্যায়ের বকরী আর মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী দিবে [আক্বিকা]।
তারপর এটিকে রান্না করবে, হাড্ডি কে ভাঙবেনা, তারপর তা নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে, এবং দান করবে।

একাজগুলো করবে সপ্তম দিন, সেদিন সক্ষম না হলে চৌদ্দতম দিন, সেদিনও সক্ষম না হলে একুশতম দিন করবে আক্বিকা। [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯২}

একুশ তম দিনে ও যদি কেউ আক্বীকা দিতে সক্ষম না হয় তাহলে যে কোন দিন দেয়া যায়।
আক্বীকার চামড়া বিক্রি করা বৈধ নয়, ছদকা করে দিতে হয়।

عن جعفر بن محمد عن أبيه أنه قال وزنت فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شعر حسن وحسين وزينب وأم كلثوم فتصدقت بزنة ذلك فضة

হযরত যাফর বিন মুহাম্মদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বলেছেন-হযরত ফাতেমা বিনতে রাসূল সাঃ হাসান, হুসাইন, জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চুল ওজন করে সে পরিমাণ রোপা সদকা করে দিয়েছেন।
{মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-১৮৩৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮২৬২, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৯০৭

এর পরে ও কি কোরবানীর সাথে আক্বিকা করবেন?

হাদীসে এতো সুন্দর আক্বিকার বিধান থাকার পরেও কেন ইন্ডিয়া বাংলাদেশে জনৈক আলেমের কিয়াছি ফতোয়া প্রচার করা হয় বুঝে আসেনা,
যে আমল রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি তাবে তবেয়ি, কারো যুগে হয়নি এবং আজ পর্যন্ত কোন আরব দেশে হচ্ছেনা অর্থাৎ কোরবানীর সাথে আক্বীকা সেটা আমরা করতে যাবো কোন দূখেঃ?

মোট কথাঃ
আক্বিকা করবো সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে ছেলে হলে দুইটি এক বছর বয়ষ্ক চাগল বা ভেড়া আর মেয়ে হলে একটি চাগল বা ভেড়া জবাই করে নিজে খাবো আত্মীয় স্বজন ও মিসকিন দের কেও খাওয়াবো এবং সন্তানের ভাল নাম রাখবো।

হে আল্লাহ তুমি আমাদের তোমার দ্বীনের সহীহ এলম দান করূূন - আমীন।
ছাঈদ কোদালাভী - ২২/১০/২০১৪ ইং

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ও রেজাল্ট বাংলা ভাষায় করা হোক!

কওমী মাদ্রাসা সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গঃ

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (ইত্তেহাদুল মাদারিস) মারকাজী পরীক্ষা-২০১৯ এর ফল প্রকাশ!