পোস্টগুলি

2016 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কওমী মাদ্রাসা সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গঃ (পর্ব-২)

ছবি
পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনাঃ এক সময় দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসার দাওরা ডিগ্রিধারীগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে গেষ্ট টিচার হিসাবে পাঠ দান করেছেন। তাদের মাঝে রয়েছেন মাওলানা যফর আহমাদ উসমানী, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক এবং সম্ভবত মাওলানা রেজাউল কারীম ইসলামাবাদী। সেখানে এ প্রশ্ন ওঠেনি তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাতিষ্ঠানিক কোন সার্টিফিকেট নেই। না অনার্সের, না মাস্টার্স-এর। তাঁরা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগে অনার্স ও এম এ-র ক্লাশ নেবেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ তখন শিক্ষা ও শিক্ষককে মূল্যায়ন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কি দেওবন্দ, কি দেশের কোন কাওমী মাদরাসার দাওরা ডিগ্রিধারীগণ সরকারী মাদরাসার ফাযিল ও পরবর্তিতে কামিল সমমান ধরে সরকারী আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করার সুযোগ পেতেন। এদের সংখ্যা প্রচুর ছিল। এখন অবশ্য এ ধারা অব্যাহত নেই। খতীব মাওলান উবাইদুল হক যিনি ছিলেন ঢাকা আলীয়া মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস। পরবর্তিতে আজীবন তিনি জাতীয় মাসজিদ বাইতুল মুকাররামের খতিবের দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। শুধু তাই নয়, ক্রান্তিকালে মুসলিম উম্মাহকে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন।...

কওমী মাদ্রাসা সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গঃ

ছবি
- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী শিক্ষার্থীরা যে কোন একটি বিষয় নিয়ে লেখা পড়া শুরু করে, সাইন্স কমার্স আর্টস ইত্যাদী বিষয়ে, লেখা পড়া শেষে কেউ ডাক্তার কেউ প্রকৌশলী আবার কেউ প্রফেসার বা অন্যান্য পেশায় জাতির খেদমতে নিয়োজিত হন। জাতির জন্য যেমন ডাক্তার ইন্জিনিয়ারের প্রয়োজন হয় তেমনি একটি আদর্শবান জাতি গঠন ও ধর্মীয় সকল কার্য্যাদী সমাধানে ধর্মীয় শিক্ষার ও ব্যাপক প্রয়োজন আছে, কারন আমাদের শতকরা ৯০ ভাগ নাগরীকই হচ্ছে মুসলিম। কওমী মাদ্রাসা গুলোতে "ইসলামীক ষ্টাডি ও আরবী সাহিত্যের" পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাংলা ইংরেজী ও অংক ইত্যাদী শিক্ষা দেয়া হয়। মূল বিষয় হচ্ছে ইসলামীক স্টাডি ও আরবী সাহিত্য। এবিষয়টি নিয়ে কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে, কাউকে ডাক্তার ইন্জিনিয়ার বানানোর জন্য অভিবাবকরা এখানে ছেলে মেয়েদের দেয়না। একটাই উদ্যেশ্য দ্বীনদার আদর্শবান নাগরিক বা "অলদে সালেহ" নেক সন্তান হিসেবে তৈরী করতে এসব কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি করান। আজ যারা কওমী মাদ্রাসার সেলিবাসে সমাজ বিজ্ঞান ও আধুনিক সেলিবাস সংযুক্ত করতে বলেন তাদের বলবো মানবতার মুক্তির সকল সমাধান কোরআন হাদীসেই নি...

আরাফা'র রোজা কবে রাখবেন?

ছবি
- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী আরাফা'র রোজা ও রমজানের রোজার মতো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। ৯ ই জিলহজ্ব "ইয়াউমুল আরাফাহ" নিজ নিজ দেশের ৯ তারিখেই রোজাটি রাখার বিধান। ইদানিং কিছু লোক সৌদি আরবের সঙ্গেই রোজাটি রাখার জন্য বিভিন্ন মিডিয়াতে জোর প্রচারনা চালাচ্ছে! অথচ সৌদি আরবের "লুযনাতুদ্দায়িমাহ'র গ্রান্ড মুফতিগন সহ বিশ্বের সকল ইসলামিক স্কলার আলেম ওলামাগন এবিষয়ে একমত পোষন করেছেন যে নিজ নিজ দেশের চন্দ্র তারিখ অনুযায়িই আরাফা'র রোজা পালন করতে হবে। বিভ্রান্তি দূরি করনে নিম্নে ফতোয়াগুলো শুধু মাত্র আলেম ওলামা, মুফতি ও ইসলামী গভেষকদের জন্য হুবুহু প্রকাশ করছি। এ বিষয়ে ড.শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল্ ওসাইমীন (রহ) এর ফতোয়াঃ- السؤال: إذا اختلف يوم عرفة نتيجة لاختلاف المناطق المختلفة في مطالع الهلال فهل نصوم تَبَعَ رؤية البلد التي نحن فيها أم نصوم تَبَعَ رؤية الحرمين؟ الإجابة: هذا يُبنى على اختلاف أهل العلم: هل الهلال واحد في الدنيا كلها أم هو يختلف باختلاف المطالع؟ والصواب أنه يختلف باختلاف المطالع، فمثلاً إذا كان الهلال قد رؤي بمكة، وكان هذا اليوم هو اليوم التاسع، ورؤي...

শ্বশুড় বাড়ীর গরু ছাগল দ্বারা আকিকা কোরবানী!

-শাইখ ছাঈদ কোদালাভী আসছে কোরবানী! বাড়ছে ফেরেশানী! চলতি বছরে চট্টগ্রামের যেসব হতদারিদ্র পিতা মাতা তাদের আদরের মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছেন তাদের চোখে ঘুম নেই! কোরবানীতে সামাজিক প্রথানুযায়ী মেয়ের শ্বশুড় বাড়ীতে গরু মহিশ বা ছাগল দিতে হবে সঙ্গে ময়মসল্লাও! এদিকে বরপক্ষ আনন্দে আত্মহারা এবছর কোরবানীতে গরু কিনতে হবেনা বেয়াই বাড়ীর গরুতেই কাজ সেরে ফেলা যাবে! যাদের অঢেল টাকা পয়সা আছে তাদের কষ্ট না হলেও গরীব ও মধ্যবিত্তদের এসব গরু ছাগল ও ময়মসল্লা যোগাড় করতে কতখানি কষ্ট হয় তা তারাই জানেন, কেউ জমি বা সোনা বন্ধক রাখেন আবার কেউ সুদি টাকা নিয়ে বেয়াই বাড়ীর সে খায়েশ পূর্ণ করেন। তেমনি মেয়ের প্রথম সন্তান জন্ম হতেই আকিকার গরু ছাগল নিয়ে হাজির হওয়া লাগে বেয়াই বাড়ীতে। শরীয়তে যেখানে আকীকা করা সন্তানের মা বাবার উপর কর্তব্য সেখানে তা চেপে দেয়া হয় নানা নানীর উপর। এখন প্রশ্ন হলো ইসলামী শরীয়তে এ জাতীয় কোরবানী ও আকিকা কতটুকু বৈধ? বিশ্বের বড় বড় মুফতিয়ানে কেরাম ও ইসলামীক স্কলারগন এসব উপঢৌকন কে ঘুশ ও যৌতুক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আর ঘুশ দ্বারা কোরবানী আকিকা কোনটাই বৈধ হবেনা। বরন ওসব গ্...

তামাত্তু হজ্বের সহজ নিয়ম!

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী সম্প্রতি দেখা গেছে অনেক হজ্ব পালনকারী নিজেও জানেনা সে কোন প্রকারের হজ্ব আদায় করছে! বিশেষ করে হজ্বের নিয়ম কানুন না জেনে যারা সৌদি আরব হতে মুয়াল্লীম বা গ্রোপবিহিন হজ্বে যায় তাদের এসব ভুল হয় অনেকাংশে, হজ্ব আদায়কালে আমি অনেক বাঙ্গালী হাজী ভাইদের জিজ্ঞেস করতাম" আপনি কোন ধরনের হজ্ব আদায় করছেন? প্রায় লোক তার জবাব দিতে পারেনি কারন তার নিয়তই সঠিক ছিলনা! আর নিয়ত সঠিক না হলে হজ্ব ও হবেনা কারন তিন প্রকারের হজ্বের নিয়মও কিন্তু তিন ধরনের, তাই হজ্বের ইহরাম বাঁধার পূর্বেই আপনাকে নির্ধারন করে নিতে হবে আপনি কোন ধরনের হজ্ব করবেন। নিজের এবিষয়ে জ্ঞান নাথাকলে কোন আলেম হতে জেনে নেবেন। আজকের প্রবন্ধে আমি শুধু মাত্র সৌদী আরবের বাহির হতে আগত বিশেষ করে বাংলাদেশী হাজীদের "তামাত্তু হজ্ব" সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও সহজ নিয়মটি উপস্হাপন করছি- মুসলিম উম্মাহর জন্য হজ্ব আদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ হজ্ব আদায়ের নিয়ম হচ্ছে তিনটি। তামাত্তু, ক্বিরান ও ইফরাদ। এ তিন ধরনের হজের মধ্যে তামাত্তু হজ আদায় সহজ। তামাত্তু হজঃ শাওয়...

হজ্বের ফজীলত ও জরুরী নিয়মাবলীঃ

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী হজ্ব ইসলামের বুনিয়াদী পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। হজ্বের মাধ্যমে দুনিয়ার সবকিছুর ঊর্ধ্বে মহান আল্লাহর নির্দেশ সমুন্নত রাখা, তাওহীদকে শিরোধার্য করা এবং আল্লাহ প্রেমের সর্বোচ্চ নিদর্শন পেশ করা হয়। লক্ষ লক্ষ লোক ঐক্যবদ্ধভাবে এক কণ্ঠে উচ্চস্বরে আল্লাহর তাওহীদ ঘোষণা করে। আল্লাহ প্রেমের অমিয় ধারা পান করতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে সৌদী আরবের মক্কায়। ফরযঃ ৯ম হিজরীতে হজ্ব ফরয হয়। বিত্তশীল ও সামর্থ্যবানদের উপর জীবনে একবার হজ্ব করা ফরয। হজ্বের ফযীলতঃ হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্ব করেছে হজ্বে কোন রকম অশ্লীল আচরণ করেনি এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়নি সে নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ অবস্থায় ফিরে আসবে যে দিন তার মা তাকে প্রসব করেছে (বুখারী মুসলিম)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে রসূল (স.) বলেন, মাবরূর তথা কলুষমুক্ত হজ্বের পুরস্কার হচ্ছে জান্নাত (বুখারী, মুসলিম)। পক্ষান্তরে হজ্ব ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করে রসূল (স.) তার প্রতি কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। আবূ উমামা (রা.) থেকে বর্ণি...

হজ্বের মিকাত ও ইহরাম!

শাইখ ছাঈদ কোদালাভী ইহরাম বাঁধার স্থানকে মিকাত বলে। হজ বা উমরাহ পালনকারীর জন্য বিনা ইহরামে মীকাত অতিক্রম করা জায়েয নয়। মীকাত পাঁচটিঃ ১. যুল হুলাইফা- মদিনাবাসী এবং এ পথে যারা আসবে তাদের মিকাত। এটা মদিনা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং মক্কা থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। ২. জুহফা- এটা সিরিয়াবাসী ও মিসরবাসীদের মিকাত। এ পথে যারা আসবে তাদেরও মিকাত এটা। এটা মক্কা থেকে ১৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এখন এর কাছে রাবেগ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা হয়। ৩. জাতু ইরক- এটা ইরাকবাসীদের মিকাত। এটা মক্কা থেকে ৯৪ কিলোমিটার সোজা উত্তরে অবস্থিত। ৪. কারনুল মানাজিল বা আসসায়েল কাবির- এটা নাজদবাসীদের মিকাত। এটা মক্কা থেকে ৭৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে তায়েফে অবস্থিত। ৫. ইয়ালামলাম- এটা ইয়ামেনবাসী ও পাক-ভারত উপমহাদেশের লোকদের মিকাত, যা মক্কা থেকে ৯২ কিলোমিটার সোজা দক্ষিণে। এর কাছে আস-সাদিয়াহ নামক জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়। মক্কা থেকে জেদ্দা ৭৩ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নিকটবর্তী ইয়ালামলাম মিকাতের মধ্যে। তাই এখানকার অধিবাসীরা এখান থেকে ইহরাম বাঁধবেন। যারা মিকাতের অ...

মহিলাদের জন্য হজ্বের ১০টি জরুরী বিষয়!

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী ১. নারী-পুরুষ পরস্পর পরস্পরের বদলি হজ করতে পারবে। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, ‘খাছআম গোত্রের এক মহিলা রাসুলকে সা. বলল, ‘আল্লাহ বান্দার ওপর যে হজ ফরজ করেছেন তা আমার বৃদ্ধ পিতার ওপর এমন সময় ফরজ হয়েছে, যখন বার্ধক্যের কারণে সে বাহনে চড়তে অক্ষম। আমি তার পক্ষ থেকে হজ করলে তার হজ আদায় হবে কি? তিনি সা. বললেন, হ্যাঁ! অবশ্যই হবে। (সহিহ বুখারি; ১৭৩৩; সহিহ মুসলিম, ১৩৩৪।) ইবনে মুনযির বলেন, এ ব্যাপারে আলেমদের কোন মতবিরোধ নেই। (ইবনে কুদামা, আল-মুগনি, ৫/২৭।) ২. হানাফী ও হাম্বলি বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম শর্ত। মাহরাম না থাকলে অঢেল সম্পত্তি থাকা সত্তেও তার ওপর হজ ফরজ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/১২৩।) কোন মহিলা যদি মাহরাম ছাড়া হজ করে তবে হজ আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু মাহারম ব্যতিত সফর করার কারণে গুনাহগার হবে। (হেদায়া, ১/২১৩।) ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রসুাল সা. বলেছেন, ‘মাহরাম ছাড়া কোন পুরুষ কোন নারীর সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না এবং কোন নারী মাহরাম ব্যতীত সফর করবে না। এক সাহবী বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার স্ত্রী হজ করতে যাচ্ছে আর আমি অমুক...

শরয়ী মানদণ্ডে “ডিজিটাল ছবি ভিডিও ও টেলিভিশন!

শরয়ী মানদণ্ডে “ডিজিটাল ছবি ভিডিও ও টেলিভিশন” সম্পর্কে জামিয়া দারুল উলুম করাচীর ফাতওয়া ******************************************* এই ফাতওয়ায় তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে: ১. প্রাণীর ছবি সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের মতামত। ২. ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে ডিস্ক ও সিডিতে ধারণকৃত দৃশ্যের হাকিকত। ৩. বর্তমানে টিভির শরয়ী বিধান। ************************** প্রথম অধ্যায়: ১. প্রাণীর ছবি সম্পর্কে ফুকাহায়ে কিরামের মতামত- প্রাণীর ছবি বানানো ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম এই হুকুম অসংখ্য সহীহ হাদীস, সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবেয়ীগণের বক্তব্য ও আমল দ্বারা প্রমাণিত। তাই চার মাযহাবের ইমামগণ এবং ফুকাহায়ে কিরাম একান্ত প্রয়োজন ব্যতীরেকে প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার উপর ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। তবে বিশ্লেষনের ক্ষেত্রে ফুকাহায়ে কিরামের মাঝে কিছু মতানৈক্য পাওয়া যায়। ফুকাহায়ে কিরামের মতামতের সারসংক্ষেপ হতে তিন ধরনের ছবির বর্ণনা পাওয় যায়। ১. দেহবিশিষ্ট বা ত্রিমাত্রিক ছবি ২. দেহবিহীন বা অংকিত ছবি। ৩. ফটোগ্রাফী ও ডিজিটাল ছবি। *******************************  দেহবিশিষ্ট ছবি- এমন ছবি, যাতে ক...

কৃপনের আকিকা! ঘরে নাদিয়ে মাদ্রাসায় দান!

ছবি
- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী বাড়ীতে রান্নার আয়োজন করলে ব্যয় একটু বেশি হবে তাই সুন্নাতি তরীকা বাদ দিয়ে আসল হক্বদার পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজন ও গরীব প্রতিবেশিদের মাহরোম করে আকিকার ছাগল পীর বাবার দরবার বা কোন এতিমখানায় দান করে দেয়া। ওখানে কেউ জবাই দেয় আবার কেউ বিক্রি করে আবার কখনো বেশি দিন বেঁধে রাখার কারনে ছাগলটা মরে যায়। কোরবানীর গোস্ত যেমন তিন ভাগ করা সুন্নাতি তরীকা আকিকার গোস্তের ও একি বিধান, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন এবং সন্তানকে সকল বিপদ আপদ হতে রক্ষার্থে ছেলে হলে দূটি আর মেয়ের হলে একটি (এক বৎসর বয়সি) ছাগল জবাই করে সুন্দর করে রান্না করে নিজেরা খাবে আত্মীয় স্বজন ও গরীবদের খাওয়াবে। এতিমখানায় দিতে চায়লে গোস্তের একতৃতীয়াংশ দেয়া যায়। হাদীস শরীফে আকিকার নিয়মটি দেখে নিন- عن أم كرز قالت قالت امرأة من أهل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت امرأة عبد الرحمن غلاما نحرنا عنه جزورا فقالت عائشة : لا بل السنة عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة يطبخ جدولا ولا يكسر لها عظم فيأكل ويطعم ويتصدق يفعل ذلك في اليوم السابع فإن لم يفعل ففي أربع عشرة فإن لم يف...

এতেকাফের ফজিলত ও বিধান

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী এতেকাফের সংজ্ঞাঃ বিশেষ নিয়তে বিশেষ অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এতেকাফের ফযীলতঃ এতেকাফ একটি মহান ইবাদত, মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছরই এতেকাফ পালন করেছেন। দাওয়াত, তরবিয়ত, শিক্ষা এবং জিহাদে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও রমজানে তিনি এতেকাফ ছাড়েননি। এতেকাফ ঈমানী তরবিয়তের একটি পাঠশালা, এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হিদায়াতি আলোর একটি প্রতীক। এতেকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্যান্য সকল বিষয় থেকে আলাদা করে নেয়। ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। এতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি মূখ্য সুযোগ। সকলের উচিত এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ঈমানী চেতনাকে প্রাণিত করে তোলা ও উন্নততর পর্যায়ে পৌছেঁ দেয়ার চেষ্টা করা। আল-কুরআনুল কারিমে বিভিন্নভাবে এতেকাফ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে, ইবরাহীম আ. ও ইসমাইল আ. এর কথা উল্লেখ করে এরশাদ হয়েছে : ‘এবং আমি ইবরাহীম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদে...

মাওঃ মুহিউদ্দীন খাঁন (রহঃ) ইসলামের খেদমতে তার কৃতিত্ত্ব ও অবদান!

ছবি
- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী শিক্ষা, ধর্মপ্রচার, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা তথা বাংলাভাষায় ইসলামী সাহিত্যের ব্যাপক চর্চা, প্রচার প্রসারে যিনি নিজস্ব পরিমন্ডল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন এমনি একজন জ্ঞান তাপস, গুণীজন হলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহঃ)। দেশ ও জাতির কল্যাণে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দিব্যাপী তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে যুক্তির আলোকে বিচার করলে নিঃসন্দেহে মূল্যায়নের মানদন্ডে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ) শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ কৃতী সন্তান। মাতৃভাষায় ইসলামী পঠন-পাঠনে তার অবদানের জাতীয় স্বীকৃতি সময়ের দাবি ছিল কিন্তু দেশ তাকে সে সম্মান দিতে পারেনি। বাংলাভাষা ভাষীদের মধ্যে সীরাত চর্চার বিরল নজীর তিনি স্থাপন করেছেন। তার লিখিত, অনূদিত গ্রন্থাবলী মুসলিম মিল্লাতের জন্য (আকর) লাইফ গাইড হয়ে থাকবে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বঙ্গানুবাদ তার জীবনের সাফল্যের এক মাইলফলক। এছাড়া দেশের প্রাচীনতম বাংলা পত্রিকা ‘মাসিক মদীনা'র মাধ্যমে মাতৃভাষায় দ্বীন ইসলাম প্রচারে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ) সকল মহলের নিকট একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও...