পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০১৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আশোরা'র প্রচলিত বিদআত ও কূসংস্কার!

- ছাঈদ কোদালাভী আশুরা'র রোযার সাথে হোসাইন (রাযিঃ) এর শাহাদাতের কোন সম্পর্ক আছে কি ? অনেককে এই দিনে রোযা রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতে শুনা যায়: এই দিনে হুসাইন (রা:) শহীদ হয়েছিলেন তাই আমরা রোযা আছি। দ্বীনের বিষয়ে এটি একটি বিরাট অজ্ঞতা। সাধারণ লোকদের এই উত্তরের পিছনে আছে শিয়া সম্প্রদায়ের কৃতিত্ব। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৌহিত্র হুসাইন (রা:) রাসুলের ইন্তেকালের ৫০ বৎসর পর এই দিনে ইরাকের কারবালা মাঠে মর্মান্তিক ভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তাই শিয়ারা এই দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকে। দেশে তাদের প্রোগ্রামগুলি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রচার করা হয়। এমনকি এই দিনে সরকারি ছুটিও থাকে। তাই সাধারণ লোকদের নিকট এই দিনটির পরিচয় এবং মর্যাদার কারণ হচ্ছে, হুসাইন (রা:) এর শাহাদত। আর এ কারণেই হয়ত: তারা বলে থাকে যে, হুসাইন (রা:) শহীদ হয়েছিলেন তাই রোযা করছি। দীনী ভাইয়েরা! এটি একটি বিরাট ভুল ধারণা। কারণ যেই দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল হলেন সেই দিন থেকে সমস্ত অহী (প্রত্যাদেশ) বন্ধ হয়ে গেছে যার ...

আশুরার রোজার ফযীলত

ছবি
- ছাঈদ কোদালাভী ইতিমধ্যে আপনারা মুহাররামের বিদআহ ও কূসংস্কার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, কিন্তু যে কাজটি এমাসে আমাদের করনীয় ও ফজিলত পূর্ণ তা হচ্ছে মুহাররমের ৯ ও ১০ তারিখের দূ'টি রোজা। হাদিসে এসেছে— عن أبي قتادة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صيام يوم عاشوراء، فقال يكفر السنة الماضية.رواه مسلم والترمذي. আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আশুরার রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, তিনি বললেন : ‘তা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা।’ ( মুসলিম, তিরমিজি) অন্য বর্ণনায় এসেছে— عن أبي قتادة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: صيام يوم عاشوراء احتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله. (رواه مسلم) ‘আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ...আশুরা দিনের রোজাকে আল্লাহ তাআলা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করবেন বলে আশা।’ (মুসলিম) হাদিসে আরো এসেছে— ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা পালন করলেন ও অন্যকে পালন করার নির্দেশ...

আশুরা'র ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহ:

- ছাঈদ কোদালাভী সৃষ্টির শুরু থেকে বিভিন্ন ঘটনা এ দিনটিকে করেছে চির ভাস্বর। আরবী মুহাররম মাসের দশ তারিখ যুগ পরম্পরায় যে ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে তা বিস্মৃত হওয়ার নয়। সাহাবায়ে কিরাম একদা রাসূলে খোদা (ছা:) এর কাছে জিজ্ঞাসা করেন যে,আশুরার এত বেশি ফযিলত হওয়ার কারন কি ? উত্তরে নবী করীম (ছা:) অনেক গুলো কারন বর্ণনা করেন। যা তালিকা আকারে নিম্নে দেয়া হল: ১- মুহাররম মাসের দশ তারিখে আল্লাহ পাক নভমন্ডলকে সৃষ্টি করেছেন এবং লওহ, কলম, নদ-নদীকেও এদিন সৃষ্টি করেছেন। ২- এদিনে হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়। ৩- ফিরিস্তাদের আদেশ দেয়া হয় আদমকে সিজদা করতে। ৪- আদম (আ.) কে বেহেস্তে প্রবেশ করিয়েছিলেন। ৫- বেহেস্ত থেকে আদম (আ:)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়। ৬- আরাফাতের ময়দানে আদম (আ:) ও তার বিবি হাওয়া (আ:) এর সাক্ষাতও ঘটেছিল এই দিনে। ৭- হযরত আইয়ুব (আ:) কঠিন রোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন এ তারিখেই। ৮- এ দিনে হযরত মুসা (আ:) কে বিজয় দান করা হয়েছিল। ৯- হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) এই দিন জন্ম লাভ করেন। ১০- হযরত ঈসা (আ:) কে আল্লাহ তায়ালা আসমানে জীবিত তুলে নিয়েছেন এদিনেই। ১১- এদিনে ন...

পুরুষের জন্যে আংটি ব্যবহার হারাম!

ছবি
পুরুষদের স্বর্ণালংকার ব্যবহারঃ - ছাঈদ কোদালাভী আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু 'রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, «أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ لِإِنَاثِ أُمَّتِي، وَحُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهَا» “আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের নারীদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য হারাম করেছেন”-সুনান নাসাঈ হাদীস নং-৫২৬৫. আজকাল বাজারে পুরুষদের জন্য স্বর্ণের তৈরি নানা ডিজাইনের ঘড়ি, চশমা, বোতাম, কলম, চেইন, মেডেল ইত্যাদি পাওয়া যায়। এগুলোর কতক সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরি আবার কতক স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত। অনেক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পুরুষদের স্বর্ণের বিভিন্ন বস্তু দেওয়া হয়। বস্তুত তা ঘোরতর অন্যায়। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখতে পেয়ে তা খুলে নেন এবং ছুঁড়ে ফেলে দেন। অতঃপর বলেন, «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»، فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خُذْ خَاتِمَكَ ...