পোস্টগুলি

জুন, ২০১৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কৃপনের আকিকা! ঘরে নাদিয়ে মাদ্রাসায় দান!

ছবি
- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী বাড়ীতে রান্নার আয়োজন করলে ব্যয় একটু বেশি হবে তাই সুন্নাতি তরীকা বাদ দিয়ে আসল হক্বদার পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজন ও গরীব প্রতিবেশিদের মাহরোম করে আকিকার ছাগল পীর বাবার দরবার বা কোন এতিমখানায় দান করে দেয়া। ওখানে কেউ জবাই দেয় আবার কেউ বিক্রি করে আবার কখনো বেশি দিন বেঁধে রাখার কারনে ছাগলটা মরে যায়। কোরবানীর গোস্ত যেমন তিন ভাগ করা সুন্নাতি তরীকা আকিকার গোস্তের ও একি বিধান, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন এবং সন্তানকে সকল বিপদ আপদ হতে রক্ষার্থে ছেলে হলে দূটি আর মেয়ের হলে একটি (এক বৎসর বয়সি) ছাগল জবাই করে সুন্দর করে রান্না করে নিজেরা খাবে আত্মীয় স্বজন ও গরীবদের খাওয়াবে। এতিমখানায় দিতে চায়লে গোস্তের একতৃতীয়াংশ দেয়া যায়। হাদীস শরীফে আকিকার নিয়মটি দেখে নিন- عن أم كرز قالت قالت امرأة من أهل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت امرأة عبد الرحمن غلاما نحرنا عنه جزورا فقالت عائشة : لا بل السنة عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة يطبخ جدولا ولا يكسر لها عظم فيأكل ويطعم ويتصدق يفعل ذلك في اليوم السابع فإن لم يفعل ففي أربع عشرة فإن لم يف...

এতেকাফের ফজিলত ও বিধান

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী এতেকাফের সংজ্ঞাঃ বিশেষ নিয়তে বিশেষ অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এতেকাফের ফযীলতঃ এতেকাফ একটি মহান ইবাদত, মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছরই এতেকাফ পালন করেছেন। দাওয়াত, তরবিয়ত, শিক্ষা এবং জিহাদে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও রমজানে তিনি এতেকাফ ছাড়েননি। এতেকাফ ঈমানী তরবিয়তের একটি পাঠশালা, এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হিদায়াতি আলোর একটি প্রতীক। এতেকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্যান্য সকল বিষয় থেকে আলাদা করে নেয়। ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। এতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি মূখ্য সুযোগ। সকলের উচিত এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ঈমানী চেতনাকে প্রাণিত করে তোলা ও উন্নততর পর্যায়ে পৌছেঁ দেয়ার চেষ্টা করা। আল-কুরআনুল কারিমে বিভিন্নভাবে এতেকাফ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে, ইবরাহীম আ. ও ইসমাইল আ. এর কথা উল্লেখ করে এরশাদ হয়েছে : ‘এবং আমি ইবরাহীম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদে...

মাওঃ মুহিউদ্দীন খাঁন (রহঃ) ইসলামের খেদমতে তার কৃতিত্ত্ব ও অবদান!

ছবি
- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী শিক্ষা, ধর্মপ্রচার, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা তথা বাংলাভাষায় ইসলামী সাহিত্যের ব্যাপক চর্চা, প্রচার প্রসারে যিনি নিজস্ব পরিমন্ডল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন এমনি একজন জ্ঞান তাপস, গুণীজন হলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহঃ)। দেশ ও জাতির কল্যাণে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দিব্যাপী তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে যুক্তির আলোকে বিচার করলে নিঃসন্দেহে মূল্যায়নের মানদন্ডে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ) শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ কৃতী সন্তান। মাতৃভাষায় ইসলামী পঠন-পাঠনে তার অবদানের জাতীয় স্বীকৃতি সময়ের দাবি ছিল কিন্তু দেশ তাকে সে সম্মান দিতে পারেনি। বাংলাভাষা ভাষীদের মধ্যে সীরাত চর্চার বিরল নজীর তিনি স্থাপন করেছেন। তার লিখিত, অনূদিত গ্রন্থাবলী মুসলিম মিল্লাতের জন্য (আকর) লাইফ গাইড হয়ে থাকবে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বঙ্গানুবাদ তার জীবনের সাফল্যের এক মাইলফলক। এছাড়া দেশের প্রাচীনতম বাংলা পত্রিকা ‘মাসিক মদীনা'র মাধ্যমে মাতৃভাষায় দ্বীন ইসলাম প্রচারে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (রহ) সকল মহলের নিকট একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও...

রোজাবস্হায় বীর্য্যপাত ও স্বপ্নদোষের বিধানঃ

ছবি
শাইখ ছাঈদ কোদালাভী রোজাবস্থায় বীর্য্যপাত ও স্বপ্নদোষের বিধানঃ রমজান মাসে রোজা পালনকারী ভাইদের পক্ষ থেকে উপরোক্ত বিষয়ে প্রায় প্রশ্ন করা হয়। এ সম্পর্কে শরীয়ার সঠিক বিধান না জানা থাকার কারণে অনেকে অনেক রকমের ধারণা করে। কেউ মনে করে তার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে, কেউ বলে রোযা মাকরূহ হয়ে গেছে, কেউ ভাবে তার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে আর কেউ সংশয়ে থাকে। তাই সংক্ষিপ্তাকারে বিষয়টির শারঈ সমাধান উল্লেখ করার মনস্হ করেছি। আল্লাহই তাওফীকদাতা। প্রথমতঃ আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে, রোজা হচ্ছে, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে ফজর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও যৌনসঙ্গম হতে বিরত থাকা। [ফাতহুল বারী, ৪/১৩২] তাই যৌন সঙ্গম হচ্ছে রোযা ভংগের একটি অন্যতম কারণ। অতঃপর জানা উচিৎ যে, রোযাবস্থায় বীর্যপাতের দুটি অবস্থা রয়েছে। যথা: (ক) রোযাদার স্বেচ্ছায় স্বয়ং তার বীর্যপাত ঘটায়। অর্থাৎ তার নিজের এখতিয়ারে বীর্যপাত করা হয়। (খ) সে স্বেচ্ছায় বীর্যপাত ঘটায় না। অর্থাৎ তার এখতিয়ারে তা ঘটানো হয় না। প্রথম অবস্থা আবার কয়েক শ্রেণীতে বিভক্তঃ ১-রোযাবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম করা: স্ত্রীর যোনী বা পায়ু পথে সঙ্গ...

রোজা রাখার ফজিলত

ছবি
শাইখ ছাঈদ কোদালাভী রোজা রাখার ফযিলত অগণিত। রোজা পালনকারীকে আল্লাহ নিজে যথার্থ পুরস্কার দেবেন। রোজা পালনকারীকে যেসব পুরস্কার ও প্রতিদান আল্লাহতায়ালা দেবেন তার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করা হলো : ১. আল্লাহ স্বয়ং নিজে রোজার প্রতিদান দেবেন। হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘‘মানুষের প্রতিটি ভাল কাজ নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু রোজা শুধুমাত্র আমার জন্য, অতএব আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। (বুখারী) ২. রোজা অতি উত্তম নেক আমল। আবু হুরাইরাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র একটি হাদীসে তিনি বলেছিলেন, ‘‘হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে একটি অতি উত্তম নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি রোজা পালন কর। কেননা, এর সমমর্যাদা সম্পন্ন কোন আমল নেই।’’ (নাসাঈ) অন্যান্য ইবাদত মানুষ দেখতে পায়। কিন্তু সিয়ামের মধ্যে তা নেই। লোক দেখানোর কোন আলামত সিয়াম পালনে থাকে না। শুধুই আল্লাহকে খুশী করার জন্য তা করা হয়। তাই এ ইবাদতের মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ ইখলাস। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘‘সিয়াম পালনকারী শুধুমাত্র আমাকে খুশী করার জন...

রমজান মাসের ফজিলত

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী রমজান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আনন্দ প্রকাশ করাই স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :— قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ (يونس: ৫৮) বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম। সূরা ইউনুস : ৫৮ পার্থিব কোন সম্পদের সাথে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না, তা হবে এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা। যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিশয় আনন্দিত হতেন, তার সাহাবাদের বলতেন :— أتاكم رمضان شهر مبارك তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। এরপর তিনি এ মাসের কিছু ফজিলত বর্ণনা করে বলতেন :— فرض الله عز وجل عليكم صيامه، تفتح فيه أبواب السماء، وتغلق فيه أبواب الجحيم، وتغل فيه مردة الشياطين، لله فيه ليلة خير من ألف شهر، من حرم خيرها فقد حرم. رواه النسائي আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভি...