পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০১৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

তামাত্তু হজ্বের সহজ নিয়ম!

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী সম্প্রতি দেখা গেছে অনেক হজ্ব পালনকারী নিজেও জানেনা সে কোন প্রকারের হজ্ব আদায় করছে! বিশেষ করে হজ্বের নিয়ম কানুন না জেনে যারা সৌদি আরব হতে মুয়াল্লীম বা গ্রোপবিহিন হজ্বে যায় তাদের এসব ভুল হয় অনেকাংশে, হজ্ব আদায়কালে আমি অনেক বাঙ্গালী হাজী ভাইদের জিজ্ঞেস করতাম" আপনি কোন ধরনের হজ্ব আদায় করছেন? প্রায় লোক তার জবাব দিতে পারেনি কারন তার নিয়তই সঠিক ছিলনা! আর নিয়ত সঠিক না হলে হজ্ব ও হবেনা কারন তিন প্রকারের হজ্বের নিয়মও কিন্তু তিন ধরনের, তাই হজ্বের ইহরাম বাঁধার পূর্বেই আপনাকে নির্ধারন করে নিতে হবে আপনি কোন ধরনের হজ্ব করবেন। নিজের এবিষয়ে জ্ঞান নাথাকলে কোন আলেম হতে জেনে নেবেন। আজকের প্রবন্ধে আমি শুধু মাত্র সৌদী আরবের বাহির হতে আগত বিশেষ করে বাংলাদেশী হাজীদের "তামাত্তু হজ্ব" সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও সহজ নিয়মটি উপস্হাপন করছি- মুসলিম উম্মাহর জন্য হজ্ব আদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ হজ্ব আদায়ের নিয়ম হচ্ছে তিনটি। তামাত্তু, ক্বিরান ও ইফরাদ। এ তিন ধরনের হজের মধ্যে তামাত্তু হজ আদায় সহজ। তামাত্তু হজঃ শাওয়...

হজ্বের ফজীলত ও জরুরী নিয়মাবলীঃ

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী হজ্ব ইসলামের বুনিয়াদী পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। হজ্বের মাধ্যমে দুনিয়ার সবকিছুর ঊর্ধ্বে মহান আল্লাহর নির্দেশ সমুন্নত রাখা, তাওহীদকে শিরোধার্য করা এবং আল্লাহ প্রেমের সর্বোচ্চ নিদর্শন পেশ করা হয়। লক্ষ লক্ষ লোক ঐক্যবদ্ধভাবে এক কণ্ঠে উচ্চস্বরে আল্লাহর তাওহীদ ঘোষণা করে। আল্লাহ প্রেমের অমিয় ধারা পান করতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে সৌদী আরবের মক্কায়। ফরযঃ ৯ম হিজরীতে হজ্ব ফরয হয়। বিত্তশীল ও সামর্থ্যবানদের উপর জীবনে একবার হজ্ব করা ফরয। হজ্বের ফযীলতঃ হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্ব করেছে হজ্বে কোন রকম অশ্লীল আচরণ করেনি এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়নি সে নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ অবস্থায় ফিরে আসবে যে দিন তার মা তাকে প্রসব করেছে (বুখারী মুসলিম)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে রসূল (স.) বলেন, মাবরূর তথা কলুষমুক্ত হজ্বের পুরস্কার হচ্ছে জান্নাত (বুখারী, মুসলিম)। পক্ষান্তরে হজ্ব ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করে রসূল (স.) তার প্রতি কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। আবূ উমামা (রা.) থেকে বর্ণি...

হজ্বের মিকাত ও ইহরাম!

শাইখ ছাঈদ কোদালাভী ইহরাম বাঁধার স্থানকে মিকাত বলে। হজ বা উমরাহ পালনকারীর জন্য বিনা ইহরামে মীকাত অতিক্রম করা জায়েয নয়। মীকাত পাঁচটিঃ ১. যুল হুলাইফা- মদিনাবাসী এবং এ পথে যারা আসবে তাদের মিকাত। এটা মদিনা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং মক্কা থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। ২. জুহফা- এটা সিরিয়াবাসী ও মিসরবাসীদের মিকাত। এ পথে যারা আসবে তাদেরও মিকাত এটা। এটা মক্কা থেকে ১৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এখন এর কাছে রাবেগ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা হয়। ৩. জাতু ইরক- এটা ইরাকবাসীদের মিকাত। এটা মক্কা থেকে ৯৪ কিলোমিটার সোজা উত্তরে অবস্থিত। ৪. কারনুল মানাজিল বা আসসায়েল কাবির- এটা নাজদবাসীদের মিকাত। এটা মক্কা থেকে ৭৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে তায়েফে অবস্থিত। ৫. ইয়ালামলাম- এটা ইয়ামেনবাসী ও পাক-ভারত উপমহাদেশের লোকদের মিকাত, যা মক্কা থেকে ৯২ কিলোমিটার সোজা দক্ষিণে। এর কাছে আস-সাদিয়াহ নামক জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়। মক্কা থেকে জেদ্দা ৭৩ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নিকটবর্তী ইয়ালামলাম মিকাতের মধ্যে। তাই এখানকার অধিবাসীরা এখান থেকে ইহরাম বাঁধবেন। যারা মিকাতের অ...

মহিলাদের জন্য হজ্বের ১০টি জরুরী বিষয়!

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী ১. নারী-পুরুষ পরস্পর পরস্পরের বদলি হজ করতে পারবে। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, ‘খাছআম গোত্রের এক মহিলা রাসুলকে সা. বলল, ‘আল্লাহ বান্দার ওপর যে হজ ফরজ করেছেন তা আমার বৃদ্ধ পিতার ওপর এমন সময় ফরজ হয়েছে, যখন বার্ধক্যের কারণে সে বাহনে চড়তে অক্ষম। আমি তার পক্ষ থেকে হজ করলে তার হজ আদায় হবে কি? তিনি সা. বললেন, হ্যাঁ! অবশ্যই হবে। (সহিহ বুখারি; ১৭৩৩; সহিহ মুসলিম, ১৩৩৪।) ইবনে মুনযির বলেন, এ ব্যাপারে আলেমদের কোন মতবিরোধ নেই। (ইবনে কুদামা, আল-মুগনি, ৫/২৭।) ২. হানাফী ও হাম্বলি বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম শর্ত। মাহরাম না থাকলে অঢেল সম্পত্তি থাকা সত্তেও তার ওপর হজ ফরজ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/১২৩।) কোন মহিলা যদি মাহরাম ছাড়া হজ করে তবে হজ আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু মাহারম ব্যতিত সফর করার কারণে গুনাহগার হবে। (হেদায়া, ১/২১৩।) ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রসুাল সা. বলেছেন, ‘মাহরাম ছাড়া কোন পুরুষ কোন নারীর সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না এবং কোন নারী মাহরাম ব্যতীত সফর করবে না। এক সাহবী বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার স্ত্রী হজ করতে যাচ্ছে আর আমি অমুক...

শরয়ী মানদণ্ডে “ডিজিটাল ছবি ভিডিও ও টেলিভিশন!

শরয়ী মানদণ্ডে “ডিজিটাল ছবি ভিডিও ও টেলিভিশন” সম্পর্কে জামিয়া দারুল উলুম করাচীর ফাতওয়া ******************************************* এই ফাতওয়ায় তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে: ১. প্রাণীর ছবি সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের মতামত। ২. ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে ডিস্ক ও সিডিতে ধারণকৃত দৃশ্যের হাকিকত। ৩. বর্তমানে টিভির শরয়ী বিধান। ************************** প্রথম অধ্যায়: ১. প্রাণীর ছবি সম্পর্কে ফুকাহায়ে কিরামের মতামত- প্রাণীর ছবি বানানো ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম এই হুকুম অসংখ্য সহীহ হাদীস, সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবেয়ীগণের বক্তব্য ও আমল দ্বারা প্রমাণিত। তাই চার মাযহাবের ইমামগণ এবং ফুকাহায়ে কিরাম একান্ত প্রয়োজন ব্যতীরেকে প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার উপর ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। তবে বিশ্লেষনের ক্ষেত্রে ফুকাহায়ে কিরামের মাঝে কিছু মতানৈক্য পাওয়া যায়। ফুকাহায়ে কিরামের মতামতের সারসংক্ষেপ হতে তিন ধরনের ছবির বর্ণনা পাওয় যায়। ১. দেহবিশিষ্ট বা ত্রিমাত্রিক ছবি ২. দেহবিহীন বা অংকিত ছবি। ৩. ফটোগ্রাফী ও ডিজিটাল ছবি। *******************************  দেহবিশিষ্ট ছবি- এমন ছবি, যাতে ক...