পোস্টগুলি

2015 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নামাজে মোবাইলে রিং বাজলে করনীয়ঃ

- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী নামাজরত অবস্থায় রিং বেজে উঠলে কি করবেন? মসজিদে ঢুকতে ভূলে রিংটোন বন্ধ করা হয়নি, ইমাম সাহেব নামাজে কোরআন তেলাওয়াত করছেন এদিকে মুক্তাদীর মোবাইলে হিন্দি গানের রিংটোন বাজছে! সকল মুসল্লীদের (খুশু হুযু) নামাজের ধ্যান নষ্ট করে দিল, ঠিকমতো মুক্তাদীদের কে ইমামের ক্বেরাত শুনতে ও দিলনা! তার পরেও নামাজ ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে মোবাইলে হাত দিচ্ছেনা ! গান বাজতেই আছে!!! আসলে নামাজ ভঙ্গের যেসব কারণ আছে তন্মধ্যে একটি হলো- আমলে কাসীর। আমলে কাসীর বলা হয়, নামাজি ব্যক্তির এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে যাওয়া যা অন্য কেউ দেখলে মনে করবে সে নামাজে নেই। আর নামাজি ব্যক্তির প্রতি অন্য ব্যক্তির এরূপ ধারণা তখনই সৃষ্টি হয় যখন সে দু'হাত ব্যবহার করে কোনো কাজ করে। এক হাত নামাজে ব্যস্ত রেখে অন্য হাত দিয়ে কাজ করলে এমন ধারণা মোটেও সৃষ্টি হয় না। এ কারণেই ফিকাহবিদগণ নামাজের মধ্যে প্রয়োজনে একহাত ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন- নামাজরত অবস্থায় টুপি উঠানো, জামার হাতা নামানো, সিজদার স্থানের কঙ্কর সরানো, শরীর চুলকানো এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ করার জন্য এক হাত ব্যবহার করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই দু...

শিশুদের "নজর ফোঁটা"

ছবি
- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী ছোঠ বাচ্চাদের কপালে “নজর ফোঁটা” দেওয়া ও হাতে কুমরে “সুতা/তাগা” বাঁধা এবং ছেলেদের কর্ন চেদন করে দুল ঝুলানো শিরকঃ হযরত লোকমান (আঃ) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন- “নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে সব চাইতে বড় যুলুম” -আল কোরআন সুরা লোকমান। শির্ক সব চাইতে বড় পাপ, শির্ক করে তওবা না করে মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। সঠিক জ্ঞানের অভাবে কোন কাজগুলো শির্ক বা কবীরা গোনাহ তা আমরা অনেকেই  জানিনা। অনেকেই না জেনে এমন কিছু কাজ করে বসে যেগুলো শির্ক। সেজন্যে নারী ও পুরুষ সকলের জন্য দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা ইসলামে ফরয করা হয়েছে। অথচ আজকাল মুসলিম সমাজের অবস্থা এমন হয়েছে যে ধর্ম কি তা পুরাপুরি জানেইনা,  দেশের স্কুল গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা বলতে শুধু নামকে ওয়াস্তে ! ছাত্র ছাত্রীরাতো দুরের কথা কোন ধর্মীয় জরুরী মাসআলা মাসায়েল জিজ্ঞাসা করলে একজন মুসলিম হেড মাষ্টার ও তার জবাব দিতে পারবেনা! অথচ এসব জানা সকল মুসলিমের জন্য ফরজ ছিল। আমি যে প্রসংগে বলছিলাম, দেশের অনেক মা-বোন তাদের সন্তানদেরকে বাইরে নিয়ে বের হওয়ার সময় মাথায় বা কপালে কালি দিয়ে “নজর ফোঁটা” লাগিয়ে দেন অনেকে শিশুর হা...

সাহাবায়ে কেরামদের চট্টগ্রাম সফর!

- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী "চট্টগ্রাম" বিশ্বের সু-প্রাচীন জনপদ সমূহের একটি হিসেবে ঐতিহাসিক ও ভৌগলিকভাবে প্রমাণিত ও স্বীকৃত। এটা বাংলার বাবুল ইসলাম বা ইসলামের প্রবেশ দ্বার হিসাবে খ্যাত। এখানে তিন দিক দিয়ে ইসলামের আগমন ঘটে। প্রথমত: আরব বণিকগণের মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত: হক্কানী পীর আউলিয়াদের মাধ্যমে, তৃতীয়ত: বিজেতাদের মাধ্যমে, এখানে উল্লেখিত প্রথম বিষয়টির উপর সংক্ষেপে আলোচনার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আরব বণিকগণ : আরব ছিলো খাদ্য ঘাটতির দেশ, তাদের বাধ্য হয়ে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বাইরে যেতে হতো। স্বয়ং রাসূল (সা) ও নিজেই এ রকম বেশ কয়েকটি কাফেলায় শরীক ছিলেন। তৎকালীন আমদানী রপ্তানী বাণিজ্যে আরবদের জুড়ি ছিলোনা। তাদের গ্রীষ্ম ও শীতকালীন বিদেশ যাত্রার কথা কুরআনে কারীমের সূরা কুরাইশে বর্ণিত হয়েছে। আরব ভূ-খন্ড হচ্ছে একটি উপদ্বীপ। তার তিন দিকের স্থল ভাগের অধিকারী ছিল তৎকালীন দুই বৃহৎ পরাশক্তি রোম ও পারস্য, তাদের উপর দিয়ে বাণিজ্য পরিচালনা আরবদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে সামুদ্রিক পথকে বেছে নিতে হয়। উজানের পানিতে কীভাবে জাহাজ চালাতে হয় এবং জোয়ার-ভাটায় জাহাজ চালানোর পদ্ধতি বিশ্ববাসী আরব...

খতনা এবং আমাদের কূসংস্কার!

- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী ইসলামী শরীয়তে ছেলেদের খতনা করানো সুন্নাত এবং ছোয়াবের কাজ, আধুনিক বিজ্ঞানেও খতনার অনেক উপকারিতার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এই সুন্নাত কে আজ বিভিন্ন  মূর্খতা ও অজ্ঞতার কারনে কুসংস্কারের সংমিশ্রণ করে কিছু লোক বিদাআতে পরিনত করেছে! সাধারন মানুষের দেখা দেখি কতিপয় আলেমদের ও এসব বিদআতে পতিত হতে দেখা যায়! আবার কেউ কেউ এসব কূসংস্কার কে আধুনিকতা মনে করেন। হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, খতনা করা সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামগণের সুন্নাত এবং ইসলামের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। হযরত আবু আয়্যুব (রা.) বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- চারটি জিনিস নবীগণের সুন্নাত তাহলো খতনা, আতর,মিছওয়াক ও বিবাহ। এ পবিত্র ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের মধ্যে জাগরিত কলঙ্কজনিত খারাপ উদ্দেশ্যের সংমিশ্রণ না করাই বিবেকের দাবী। বিশেষ করে বর্তমান যুগে এ জাতীয় কুসংস্কার থেকে শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য অটুট ও সবল রাখার জন্যে দূরে থাকা বিশেষ প্রয়োজন। খতনা সম্পর্কে আমাদের দেশে যে প্রথা প্রচলিত আছে যেমন খতনার সপ্তম দিনে তার ছেলের মাথার চুল কেটে গোসল দিয়ে ভাল ভাল কাপড় পরিধান করিয়ে মেহেদী লাগিয়ে দুলার মত সাজানো হয়। তারপ...

ইসলামে কদম বুচি বিজাতীয় কালচার!

ছবি
শায়খ ছাঈদ কেদালাভী আমাদের মুসলিম সমাজে আরেকটি বিজাতীয় রুসুম প্রচলিত আছে তা হচ্ছে " কদম বুচি" যে শব্দটি ভারতে প্রনাম বলে খ্যাত! ছোঠদের কদম বুচি করতে নেই শুধু বয়সে বড় আর মুরুব্বীদেরই কদম বুচি বা প্রনাম করতে হয় যা পুরাপুরি ইসলাম বিরোধী! বিভিন্ন বেদাতী এলাকায় কদম বুচি না করাকে মারত্ত্বক বেয়াদবি মনে করা হয়। দেখা-সাক্ষাৎ এবং বড়দের সম্মান করার সুন্নতি পদ্ধতি রাসূল সাঃ থেকে প্রমাণিত। তাই উক্ত পদ্ধতি রেখে কোন বিধর্মীর পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েজ নয়। কারো সাথে দেখা হলে সালাম দেয়া। দীর্ঘদিন পর কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে দেখা হলে সালাম দেয়ার পর মুসাফাহা করা বা এবং সর্বোচ্চ কোলাকুলি করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কদমবুচি করা প্রমাণিত নয়। বরং এটি হিন্দুয়ানী রুসুম। যা অবশ্যই পরিত্যাজ। কদমবুচি করার দ্বারা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে দুটি খারাবী লাযেম হয়। যথা- ১-গায়রুল্লাহের সামনে মাথাকে অবনত করা হয়। যা হারাম। ২-বিধর্মী তথা হিন্দুয়ানী রুসুম পালন করা হয়। বিধর্মীদের আদর্শ অনুসরণও হারাম। ইসলাম ধর্মে কারো সাক্ষাত হলে সালাম বা মুসাফাহা করার নিয়মঃ রাসুল (সা) বলেন- عَنْ قَتَادَةَ، ق...

সুন্নাতী নেকাহ

"সুন্নাতী নিকাহ" মুসলিম যুবকের অহংকার! - শায়খ ছাঈদ কোদালাভী যে সব মুসলিম ভায়েরা বিবাহের উপযুক্ত বিবাহ নিয়ে ভাবছেন এবং যে সব অভিবাবক সন্তানদের বিয়ে দেবেন তার আগে জেনে নিন এই গুরুত্বপূর্ন ইবাদাতটি কিভাবে সম্পাদন করা উচিৎ- একজন আদর্শবান মুসলিম যুবক বা অভিবাবক তার প্রান প্রিয় রাসুলের ত্বরীকা মতো নিকাহ সম্পাদন করাকে আনন্দ ও গর্ববোধ মনে করেন। তাই আসুন জেনে নিই বিবাহের কতিপয় সুন্নত সমূহ যা হাদীস দ্বারা প্রমানিতঃ- (১) সুন্নাতী বিবাহ সাদা সিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থের অধিক মহরানার শর্ত থাকবেনা। (তাবারানী আউসাত, হাদিস নং- ৩৬১২) (২) সৎ ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান করে বিবাহের পূর্বে পয়গাম পাঠানো। কোন বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব হলে, দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত তা সুন্নতের পরিপন্থী ও পরিত্যাজ্য। (বুখারী হাদিস নং-৫০৯০, ইমদাদুল ফাতাওয়া-৪: ২০০) (৩) শাউয়াল মাসে এবং জুমুয়ার দিনে মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা। উল্লেখ্য,...

কবর ওয়ালা মসজিদে নামাজ!

কবর ওয়ালা মসজিদে নামাজ পড়া যাবে? - ছাঈদ কোদালাভী উত্তরঃ কবর সংশ্লিষ্ট মসজিদে নামায আদায় করা দু’ভাগে বিভক্তঃ প্রথম প্রকারঃ প্রথমে কবর ছিল। পরবর্তীতে তাকে কেন্দ্র করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়াজিব হচ্ছে এই মসজিদ পরিত্যাগ করা; বরং মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা। যদি না করা হয় তবে মুসলিম শাসকের উপর আবশ্যক হচ্ছে উক্ত মসজিদ ধ্বংস করে ফেলা। দ্বিতীয় প্রকারঃ প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। পরে সেখানে কোন মৃতকে দাফন করা হয়েছে। তখন ওয়াজিব হচ্ছে, কবর খনন করে মৃত ব্যক্তির লাশ বা হাড়-হাড্ডি সেখান থেকে উত্তোলন করে, মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা। এই মসজিদে শর্ত সাপেক্ষে ছালাত আদায় করা জায়েয। আর তা হচ্ছে, কবর যেন মসজিদের সম্মুখভাগে না হয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের দিকে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ভারত ও বাংলাদেশের অনেক দরগাহ ও মাজারে মুসল্লীদের জন্য নামাজ পড়ার জায়গা রাখা হয়, ওখানে অনেকেই কবর কে সামনে নিয়ে নামাজ আদায় করে থাকেন যা সম্পূর্ন হারাম। কেউ প্রশ্ন করতে পারে, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কবর তো মসজিদের মধ্যে? এর জবাব কি? এর জ...

বাঁসর রাতে স্বামী স্ত্রীর নামাজ!

- ছাঈদ কোদালাভী "বাঁসর রাত" দাম্পত্য জীবনের একদম প্রথম ধাপ, সাহাবায়ে কেরামগন কিভাবে তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করতেন? আসুন জেনে নেই প্রথম কোন কাজ দিয়ে আমরা আমাদের মুল্যবান যুগল জীবনের যাত্রা শুরু করবো- উসাইদের দাস আবু সাঈদ বলেন, আমি বিয়ে করলে আবু যর গিফারী, ইবনু মাসউদ ও হুযায়ফা (রাঃ) আমাকে বললেন, তোমার ঘরে যখন তোমার  স্ত্রী প্রবেশ করবে, তখন তুমি দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করবে এবং তার কল্যাণের জন্য দো‘আ করবে ও অকল্যাণ হ’তে আশ্রয় প্রার্থনা করবে" - (ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৭১৫৩; ইরওয়া হা/৫২৩ আলবানী, আদাবুয যিফাফ পৃ:২২, সনদ ছহীহ) । অন্য বর্ণনায় ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বাঁসরের পূর্বে স্ত্রীকে তার পিছনে দাঁড় করিয়ে জামা‘আত সহ দু’রাক‘আত ছালাত আদায়ের পরামর্শ দেন - (ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৭৪৪১; আদাবুয যিফাফ ২২ পৃঃ, সনদ ছহীহ) । অত্র হাদিস থেকে এটাই জানা যায় যে বাঁসর রাতে প্রথম কাজ হলো দুই রাকাত নামাজ একসাথে পড়ে, পরষ্পরের জন্য,এবং পরবর্তী জীবনের জন্য দোয়া করা, অতঃপর স্ত্রীর কপালের উপরিস্থিত চুল ধরে বিসমিল্লাহ বলে এই দুআ পাঠ করা সুন্নাত-  اَللّهُمَّ إِنّيْ اَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَي...

কনে বাড়ীর জুলুমি খানা ও আমাদের নির্লজ্জ সমাজ!

ছবি
- ছাঈদ কোদালাভী যে খানা কনের পক্ষ হতে জোর করে চেয়ে খাওয়া হয় তার কথাই লিখছি, যেখানে দশজন মেহমান কে আপ্যায়ন করার মতো কনে পক্ষের সামর্থ্য নেই সেখানে তিনশো পাঁচশো বা এক হাজার বর যাত্রীর খানা শর্ত দেয়া, এবং কনে পক্ষ দূর্নাম ও মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে পুরা গ্রাম হতে চাঁদা তুলে অথবা ভিক্ষা করে বা সুদের উপর টাকা নিয়ে হলেও বরযাত্রীদের খানার ব্যবস্হা করেন। আমরা এসব খানা খাওয়ার পুর্বে কখনো ভেবে দেখেছি কি এই  কুর্মা পুলাও জর্দ্দা, খাসী মুরগীর দূরূস, চাগলের দূরূস ও চিংড়ি কোথা হতে এলো? এসব খানা তৈরী করতে কনের হত দারিদ্র মাতা পিতার কত কষ্ট হয়েছে! কত লোকের দারে দারে যেতে হয়েছে! আপনার বর যাত্রীদের খানার ব্যবস্হার কথা ভেবে ওরা রাতকে রাত জাগ্রত ছিল, দূঃশ্চিন্তায় ওদের কত রাতের আরামের ঘুম হারাম হয়েছিল আমরা কখনো ভেবেছি? এসব ভাবলে কোন বিবেকবান মানুষের মুখে এই "জুলুমী খানা" প্রবেশ করবেনা। কি নির্লজ্জ খানা! বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে মেহমানদের দাওয়াত করে বর পক্ষ অথচ নিজের ঘরে খানার ব্যবস্হা না করে গাড়ী ভাড়া করে সকল কে পাঠিয়ে দেয় কনের বাড়ীতে!   সেচ্চায় কনের বাপের দাওয়াত ছাড়া চলন ব...

যৌতুক একটি সামাজিক ক্যান্সার!

- ছাঈদ কেদালাভী যৌতুক আমাদের দেশের একটি সামাজিক ক্যান্সার! বর বা তার অভিবাবকের চাপে কনে পক্ষ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র আদায় করা যেমন কনের অলঙ্কার, ফার্নিচার ঘরোয়া আসবাবপত্র ইত্যাদি সহ অতিরিক্ত নগদ টাকা গ্রহনই হচ্ছে যৌতুক! যা ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ বরং এটি এক প্রকারের জুলুম যা মারাত্বক পাপ! আগে এ ধরনের সংস্কৃতি হিন্দূস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দেখা যেত, কিন্তু ক্রমে ক্রমে ইন্ডিয়ার চার পার্শ্বের মুসলিম দেশ সমুহে ও তা বিস্তার করেছে, এবং দিন দিন তার ভয়াবহতা বেড়েই চলছে, নির্যাতিত হচ্ছে আমার দেশের অসংখ্য মা বোনেরা, মেহেদীর রং না মুছতেই সংসার হারা হচ্ছে অনেক নব বধু! যৌতুক দিতে নাপারায় এসিডদগ্ধ হচ্ছে হাজারো অবলা নারী! যে ধর্মে নব বধূ কে মোহরানা আদায় করে গ্রহন করতে বলা হয়েছে সেখানে নব বধূ হতেই আমরা আদায় করছি নগদ টাকা সহ ফার্নিচার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ইত্যাদী , আল্লাহর হকুমের অমান্য করার কারনেই আজ সংসারে এতো অশান্তি। যৌতুক এক প্রকারের সুদ ও ঘুষ! বর বা তার গার্জিয়ানের পক্ষ থেকে যদি এমন শর্ত করা হয় যে কনে বা তার গার্জিয়ানের পক্ষ থেকে হাদিয়া তুহফা বা টাকা-পয়সা ইত্যাদি উপঢৌকন না দিলে, উক...

পাগড়ি'র বিধানঃ

ছবি
- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী প্রিয় নবী (সাঃ) এর সুন্নাতি লেবাস ছেড়ে মানুষ এখন বিধর্মীদের আধুনিক পোষাক ও ফ্যাশনের পিচনে দৌড়াচ্ছে, কেউ কেউ নিজের পছন্দের কোট টাই কে প্রাধন্য দিতে গিয়ে রাসুলের সুন্নাতি পোষাক টুপি পাগড়ি কেও সুন্নাহ বলে স্বীকার করেনা এবং ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে, পাগড়ির কথা কোন হাদীসে নেই ওটা সুফিয়ানা পোষাক! রাসুল (সাঃ) এর এই রাজকীয় পোষাক কে ওরা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে অপমান করে থাকেন এবং বেদ্বীনী পোষাক কোট টাই পরাটা কে যুগউপযোগী ও গর্ব মনে করেন, আর মিডিয়াতে বসে ঐ সব বাংলা শায়খরা সাধারন মানুষ কে ল্যাকচার দিয়ে বেড়ায় টুপি পাগড়ির কথা কোরআন হাদীসে নেই! ইন্ডিয়া পাকিস্তানে তাদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা গুলোতে ছাত্রদের পোষাক হিসেবে কোট টাই কেই বাধ্যতা মূলক করেছে! ইসলামী ও সুন্নাতি পোষাক নাকি সেকেলে! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবা গন পাগড়ি ব্যবহার করতেন যা তা বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে। এখানে দু’ একটি হাদীস উল্ল্যেখ করছি। হযরত যাবের রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ি ছিল।-সহীহ...

আশোরা'র প্রচলিত বিদআত ও কূসংস্কার!

- ছাঈদ কোদালাভী আশুরা'র রোযার সাথে হোসাইন (রাযিঃ) এর শাহাদাতের কোন সম্পর্ক আছে কি ? অনেককে এই দিনে রোযা রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতে শুনা যায়: এই দিনে হুসাইন (রা:) শহীদ হয়েছিলেন তাই আমরা রোযা আছি। দ্বীনের বিষয়ে এটি একটি বিরাট অজ্ঞতা। সাধারণ লোকদের এই উত্তরের পিছনে আছে শিয়া সম্প্রদায়ের কৃতিত্ব। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৌহিত্র হুসাইন (রা:) রাসুলের ইন্তেকালের ৫০ বৎসর পর এই দিনে ইরাকের কারবালা মাঠে মর্মান্তিক ভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তাই শিয়ারা এই দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকে। দেশে তাদের প্রোগ্রামগুলি রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রচার করা হয়। এমনকি এই দিনে সরকারি ছুটিও থাকে। তাই সাধারণ লোকদের নিকট এই দিনটির পরিচয় এবং মর্যাদার কারণ হচ্ছে, হুসাইন (রা:) এর শাহাদত। আর এ কারণেই হয়ত: তারা বলে থাকে যে, হুসাইন (রা:) শহীদ হয়েছিলেন তাই রোযা করছি। দীনী ভাইয়েরা! এটি একটি বিরাট ভুল ধারণা। কারণ যেই দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল হলেন সেই দিন থেকে সমস্ত অহী (প্রত্যাদেশ) বন্ধ হয়ে গেছে যার ...

আশুরার রোজার ফযীলত

ছবি
- ছাঈদ কোদালাভী ইতিমধ্যে আপনারা মুহাররামের বিদআহ ও কূসংস্কার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, কিন্তু যে কাজটি এমাসে আমাদের করনীয় ও ফজিলত পূর্ণ তা হচ্ছে মুহাররমের ৯ ও ১০ তারিখের দূ'টি রোজা। হাদিসে এসেছে— عن أبي قتادة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صيام يوم عاشوراء، فقال يكفر السنة الماضية.رواه مسلم والترمذي. আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আশুরার রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, তিনি বললেন : ‘তা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা।’ ( মুসলিম, তিরমিজি) অন্য বর্ণনায় এসেছে— عن أبي قتادة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: صيام يوم عاشوراء احتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله. (رواه مسلم) ‘আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ...আশুরা দিনের রোজাকে আল্লাহ তাআলা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করবেন বলে আশা।’ (মুসলিম) হাদিসে আরো এসেছে— ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা পালন করলেন ও অন্যকে পালন করার নির্দেশ...

আশুরা'র ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহ:

- ছাঈদ কোদালাভী সৃষ্টির শুরু থেকে বিভিন্ন ঘটনা এ দিনটিকে করেছে চির ভাস্বর। আরবী মুহাররম মাসের দশ তারিখ যুগ পরম্পরায় যে ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে তা বিস্মৃত হওয়ার নয়। সাহাবায়ে কিরাম একদা রাসূলে খোদা (ছা:) এর কাছে জিজ্ঞাসা করেন যে,আশুরার এত বেশি ফযিলত হওয়ার কারন কি ? উত্তরে নবী করীম (ছা:) অনেক গুলো কারন বর্ণনা করেন। যা তালিকা আকারে নিম্নে দেয়া হল: ১- মুহাররম মাসের দশ তারিখে আল্লাহ পাক নভমন্ডলকে সৃষ্টি করেছেন এবং লওহ, কলম, নদ-নদীকেও এদিন সৃষ্টি করেছেন। ২- এদিনে হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়। ৩- ফিরিস্তাদের আদেশ দেয়া হয় আদমকে সিজদা করতে। ৪- আদম (আ.) কে বেহেস্তে প্রবেশ করিয়েছিলেন। ৫- বেহেস্ত থেকে আদম (আ:)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়। ৬- আরাফাতের ময়দানে আদম (আ:) ও তার বিবি হাওয়া (আ:) এর সাক্ষাতও ঘটেছিল এই দিনে। ৭- হযরত আইয়ুব (আ:) কঠিন রোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন এ তারিখেই। ৮- এ দিনে হযরত মুসা (আ:) কে বিজয় দান করা হয়েছিল। ৯- হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ:) এই দিন জন্ম লাভ করেন। ১০- হযরত ঈসা (আ:) কে আল্লাহ তায়ালা আসমানে জীবিত তুলে নিয়েছেন এদিনেই। ১১- এদিনে ন...

পুরুষের জন্যে আংটি ব্যবহার হারাম!

ছবি
পুরুষদের স্বর্ণালংকার ব্যবহারঃ - ছাঈদ কোদালাভী আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু 'রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, «أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ لِإِنَاثِ أُمَّتِي، وَحُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهَا» “আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের নারীদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য হারাম করেছেন”-সুনান নাসাঈ হাদীস নং-৫২৬৫. আজকাল বাজারে পুরুষদের জন্য স্বর্ণের তৈরি নানা ডিজাইনের ঘড়ি, চশমা, বোতাম, কলম, চেইন, মেডেল ইত্যাদি পাওয়া যায়। এগুলোর কতক সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরি আবার কতক স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত। অনেক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পুরুষদের স্বর্ণের বিভিন্ন বস্তু দেওয়া হয়। বস্তুত তা ঘোরতর অন্যায়। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখতে পেয়ে তা খুলে নেন এবং ছুঁড়ে ফেলে দেন। অতঃপর বলেন, «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»، فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خُذْ خَاتِمَكَ ...

মাওলানা কারী ওবায়দুল্লাহ

ছবি
তার অবদান ও গৌরবময় কর্ম জীবনঃ - ছাঈদ কোদালাভী তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়ার কোদালা ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত দ্বীনদার পরিবারে ১৯৪৪ সালের ১লা জানুয়ারী জন্ম গ্রহন করেন, পিতা যুগশ্রেষ্ট আলেম, অলিকুল শিরূমনি পীরে কামেল আলহাজ্ব, আল্লামা শাহ মেহেরুজ্জামান ইসলামাবাদী রহঃ। ক্বারী উবায়দুল্লাহ ছোট বেলা থেকেই এলাকার মাদরাসা-মসজিদ, পাশ্ববর্তী মহল্লার ওয়াজ-মাহফিল, উৎসব-সমাবেশ-সম্মেলনে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। ধীরে ধীরে তিনি সুললিত কন্ঠের ক্বারী হিসেবে পরিচিতি ও অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করতে লাগলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাদরাসা-মসজিদ, ওয়াজ-মাহফিল, উৎসব-সভা- সেমিনার, সমাবেশ-সম্মেলনে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য আয়োজকরা তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ করতেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সুমধুর কন্ঠ ও সূরের মাধ্যমে বিশুদ্ধ তেলাওয়াত উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে অগণিত শ্রেুাতা-দর্শকদের মুগ্ধ করতেন। সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ নানা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ করা হতো কুরআন তেলাওয়াতের জন্য।ক্বারী উবায়দুল্লাহ ছোট বেলায় তার পিতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর রাজধানীর লালবাগ মাদরাসায় ভর্তি হন, সেখানে তিনি হাফেজ্জী ...

হাফেজ মাওঃ আহমদুর রহমান (রহঃ)

ছবি
তার সংক্ষিপ্ত কর্ম জীবনী --- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী চট্রগ্রামস্হ রাঙ্গুনীয়া থানার কোদালা ইউনিয়নের দক্ষিন পাড়ায় তিনি জন্ম গ্রহন করেন। জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুপ্তী আজিজুল হক (রহঃ) এর একজন সুযোগ্য খলীফা আজিজি বাগের কাঁটা ছাড়া ফুল, সৈসব হতেই দ্বীনদার মুত্তাকী ছিলেন,কথা বলতেন কম সর্বদা আল্লাহর ধ্যানে মত্ত থাকিতেন, পড়া শোনার ফাঁকে ফাঁকে ওস্তাদের খেদমত করতেন, অলিকুল শিরূমনি যুগ শ্র্রেষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা মুপ্তী আজিজুল হক (রহঃ) ছিলেন তার প্রধান ওস্তাদ, প্রাণের চেয়েও বেশি ভাল বাসতেন নিজ ওস্তাদ কে, পটিয়া মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করার পর নিজ ওস্তাদ মুপ্তী সাহেব হুজুর তাকে চন্দনাইশ বসরত নগর মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করেন, তৎকালীন বসরত নগর মাদ্রাসার মুহতামিম ছিলেন মুপ্তী আজিজুল হক (রহ) এর অপর খলীফা মাওলানা মফজল আহমদ (রহ) তিনিও এক আল্লাহর অলি ছিলেন, দুই পীর ভাই একি মাদ্রাসায় কিন্তু মাওলানা আহমদুর রহমানের মন কিছুতেই বসেনা, কি যেন হাঁরিয়ে ফেলেছে শুধু ওস্তাদের কথা মনে পড়ে,দিনের বেলায় ছাত্রদের পড়িয়ে বিকালে পাড়ি দিতো ওস্তাদের কাছে পটিয়া মাদ্রাসায়,তখনকার যুগে গাড়ি বা অন্য কোন যানবাহন...

মাওলানা মেহেরুজ্জামান (রহঃ)

ছবি
সংক্ষিপ্ত কর্ম জীবনীঃ-  - ছাঈদ কোদালাভী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলা ভূমি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া থানার ১২ নং কোদালা ইউনিয়ন, পূর্ব পশ্চিম ও দক্ষিনে সবুজে ঘেরা কোদালা চা বাগান এবং উত্তরে কাপ্তাই লেক ও সিতার পাহাড়ের ঝর্ণা হতে আবহমান কর্ণফুলী নদীর দক্ষিন কূল ঘেঁষে অবষ্হিত এ গ্রাম, এটি একটি সম্পূর্ণ বিদআত ও শির্ক মূক্ত গ্রাম, নেই কোন বেদআত পন্হি মাদ্রাসা নেই কোন মাজার। কোদালা কে খোদা ওয়ালা গ্রাম উপাধি দিয়ে ছিলেন পটিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল আল্লামা শাহ মুপ্তী আজিজুল হক (রহঃ) কোদালার এমন কোন পাড়া নেই যেখানে হযরতের কদম পড়েনি। এখানেই জন্ম গ্রহন করেছেন অনেক বুজুর্গানে দ্বীন ও যুগ শ্রেষ্ট আলেম, তাদের মধ্যে আল্লামা শাহ মেহেরূজ্জামান (রহঃ) আল্লামা হাফেজ শাহ আহমদুর রহমান (রহঃ) মাওঃ আবদুল কাইয়ুম (নান সা'ব হুজুর রহঃ)  মাওলানা আবদুল কুদ্দুস (রহ) মাওলানা নুরূল হক সাহেব (রাইখালী) ও আন্তর্জাতিক ক্বারী মাওঃ ক্বারী ওবায়দুল্লাহ'র মতো বহু খ্যাতিমান ওলামায়ে কেরাম। জন্ম ও ছাত্র জীবনঃ এই গ্রামেই আল্লামা শাহ মেহেরুজ্জামান রহঃ ১৯০১ সালে জন্ম গ্রহন করেন, এবং রাঙ্গুনীয়ার চন্দ্রঘ...

আরাফার রোজা পালন করবেন কবে?

হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে আরাফার দিনে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে তিনি বলেছেন, " صيام يوم عرفه أحتسب على الله أنه يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده " [ رواه مسلم ]  " আরাফার দিনের রোজা তার পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গোনাহ মোচন করে দেয়।” [মুসলিমঃ ১১৬২] হাদিসটির বিশুদ্ধ আরবী বর্ণনায় "সাওমি ইয়াওমি আরাফাহ"  বলা হয়েছে, যা বিশেষ করে আরাফাহ নামক স্থানটির সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। যে দিন হাজ্বীদের আরাফায় অবস্হান করা ফরজ। বছরের এ দিনটি আল্লাহর নিকট  সবচেয়ে পছন্দনীয় দিন। এখানে কোন তারিখের কথা উল্যেখ নেই, বলা হয়েছে আরাফার দিন বা হজ্বের দিন তাই ঐ দিনেই রোজা রাখতে হবে। হ্যাঁ কিছু ইবাদাত আছে যে গুলো চাঁদ দেখার উপর নির্ভর্শিল যেমন রমজানের রোজা ধরা ও ছাড়া, ঈদ করা ইত্যাদী, হাদীসটির বর্ণনাই ব্যাখা আছে সিয়াম পালন করতে হবে যেদিন সবাই আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন সেদিন। এটিই অধিকাংশ ওলামাদের মতামত। সেই হিসেবে বাংলাদেশে ও ২৩ শে সেপ্টেম্বর হজ্বের দিন রোজা রাখতে হবে, বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আরবীর ৮ তা...

কোরবানীর বিধান ও ফজীলত

কোরবানির হুকুম কি ? ওয়াজিব না সুন্নত ? এ বিষয়ে ইমাম ও ফকীহদের মাঝে দুটো মত রয়েছে। প্রথম মত : কোরবানি ওয়াজিব। ইমাম আওযায়ী, ইমাম লাইস, ইমাম আবু হানীফা রহ. প্রমুখের মত এটাই। আর ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ রহ. থেকে একটি মত বর্ণিত আছে যে তারাও ওয়াজিব বলেছেন। দ্বিতীয় মত : কোরবানি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। এটা অধিকাংশ উলামাদের মত। এবং ইমাম মালেক ও শাফেয়ী রহ.-এর প্রসিদ্ধ মত। কিন্তু এ মতের প্রবক্তারা আবার বলেছেন : সামর্থ্য থাকা অবস্থায় কোরবানি পরিত্যাগ করা মাকরূহ। যদি কোন জনপদের লোকেরা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সম্মিলিতভাবে কোরবানি পরিত্যাগ করে তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে। কেননা, কোরবানি হল ইসলামের একটি শিয়ার বা মহান নিদর্শন। যারা কোরবানি ওয়াজিব বলেন তাদের দলিল : (এক) আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন : "তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু কোরবানি কর। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ পালন ওয়াজিব হয়ে থাকে। (দুই) রাসূলে কারীম স. বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে। যারা কোরবানি পরিত্যাগ করে তাদের প্র...

যে ৭টি কারনে রোজা ভেঙ্গে যায়ঃ

যে ৭টি কারনে রোজা ভেঙ্গে যায়ঃ (যেসব বিষয় সমূহ প্রত্যহ মুসলিমের জেনে রাখা ফরজ) সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়াবলী : যা কিছু সিয়াম ভঙ্গ করে তা থেকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকার নাম হল সওম, বহু বচনে সিয়াম। সিয়ামভঙ্গকারী সকল প্রকার বিষয় থেকে বিরত না থাকলে সিয়াম আদায় হবে না। যে সকল কাজ সিয়াম ভঙ্গ করে তা সাধারণত সাত প্রকার। ০১. সহবাস : সিয়াম অবস্থায় সহবাস করলে সিয়াম বাতিল হয়ে যায়। সিয়াম ফরজ হোক কিংবা নফল। সহবাসের মাধ্যমে সিয়াম বাতিল করা হলে তার কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করা জরুরি। ০২. ইচ্ছাকরে বীর্যপাত করা: যেমন কাউকে চুমো দেয়ার মাধ্যমে বা স্পর্শ করার কারণে কিংবা হস্ত মৈথুন ইত্যাদি কারণে বীর্যপাত ঘটানো হলে। এ সকল কারণে সিয়াম বাতিল হয়ে যায়। তবে এ সকল কারণে কামভাব থাকা সত্ত্বেও যদি বীর্যপাত না হয় তবে সিয়াম বাতিল হবে না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সওম অবস্থায় স্ত্রীকে চুমো দিতেন ও স্পর্শ করতেন। তবে তিনি নিজেকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ ছিলেন। যদি চুমো ও স্পর্শ দ্বারা বীর্যপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে এ সকল কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি...

কোরবানীর সঙ্গে আকীকাহ!

কোরবানীর সঙ্গে আক্বীকা দেয়া যাবে কি ? কিয়াছ বা আন্দাজিক ফতোয়া নয় আসুন জেনে নিই সুন্নাহ সম্মত আক্বীকা দেয়ার বিধানঃ হযরত সামুরা রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে রক্ষিত। অতএব সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে আকিকা কর, তার চুল কাট ও তার নাম রাখ। (আহমদ, তিরমিজি-সহিহ সূত্রে) নবজাতকের চুলের ওজন পরিমাণ রৌপ্য সদকা করা সুন্নত। আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম হাসানের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে ফাতিমা, তার মাথা মুণ্ডন কর ও তার চুলের ওজন পরিমাণ রৌপ্য সদকা কর। (তিরমিজি)। আক্বীকার বিধানঃ আক্বীকার উপর রাসুল সঃ এর এসব গুরূত্ত্বারোপের উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ ইমাম আক্বীকা কে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন। কোরবানী ও আক্বিকা দুটি ভিন্ন ইবাদত। কোরবানীর সাথে আক্বিকাকে এক করার কোন সুযোগ নেই। রাসুল (সাঃ) সন্তানের আক্বিকা সপ্তম দিনে করবার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আক্বিকা হল সন্তানের নিরাপত্তা টিকা। এর মাধ্যমে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এখন ধরুন একটি বাচ্চার জন্ম হল কো...