কওমী মাদ্রাসা সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গঃ
- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী
শিক্ষার্থীরা যে কোন একটি বিষয় নিয়ে লেখা পড়া শুরু করে, সাইন্স কমার্স আর্টস ইত্যাদী বিষয়ে, লেখা পড়া শেষে কেউ ডাক্তার কেউ প্রকৌশলী আবার কেউ প্রফেসার বা অন্যান্য পেশায় জাতির খেদমতে নিয়োজিত হন।
জাতির জন্য যেমন ডাক্তার ইন্জিনিয়ারের প্রয়োজন হয় তেমনি একটি আদর্শবান জাতি গঠন ও ধর্মীয় সকল কার্য্যাদী সমাধানে ধর্মীয় শিক্ষার ও ব্যাপক প্রয়োজন আছে, কারন আমাদের শতকরা ৯০ ভাগ নাগরীকই হচ্ছে মুসলিম।
কওমী মাদ্রাসা গুলোতে "ইসলামীক ষ্টাডি ও আরবী সাহিত্যের" পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাংলা ইংরেজী ও অংক ইত্যাদী শিক্ষা দেয়া হয়।
মূল বিষয় হচ্ছে ইসলামীক স্টাডি ও আরবী সাহিত্য।
এবিষয়টি নিয়ে কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে, কাউকে ডাক্তার ইন্জিনিয়ার বানানোর জন্য অভিবাবকরা এখানে ছেলে মেয়েদের দেয়না।
একটাই উদ্যেশ্য দ্বীনদার আদর্শবান নাগরিক বা "অলদে সালেহ" নেক সন্তান হিসেবে তৈরী করতে এসব কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি করান।
আজ যারা কওমী মাদ্রাসার সেলিবাসে সমাজ বিজ্ঞান ও আধুনিক সেলিবাস সংযুক্ত করতে বলেন তাদের বলবো মানবতার মুক্তির সকল সমাধান কোরআন হাদীসেই নিহিত রয়েছে, আগে স্কুল গুলোতে প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা তথা কোরআন হাদীসের সেলিবাস চালু করুন।
বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য সরকারী খরচে লক্ষাধিক স্কুল কলেজ রয়েছে, মানুষের প্রণিত বিজ্ঞান শুধুমাত্র পেঠের জন্য শেখা হয়, কওমী ছাত্র ছাত্রীরা পেঠের জন্য জ্ঞানোর্জন করেনা।
স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার বড়ই অভাব,,,, আলেম ওলামা ও ইমাম সাহেবগন সকালে মসজিদে মক্তবের ব্যবস্হা নাকরলে বাংলাদেশের মুসসলিমদের জন্য নামাজেরর সুরা কেরাত ও দোয়া দুরুদ শেখাটাও হতোনা।
নাম মাত্র ধর্ম শিক্ষা স্কুল গুলোতে রয়েছে, আবার অনেক স্কুলে মুসলিম ধর্ম শিক্ষা দিচ্ছে হিন্দু টিচার।
এতে করে ধর্মীয় শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে তারা।
খোদাভীরু শিক্ষা না দেয়ার ফলে ঐসব প্রতিষ্ঠান হতে অধিকাংশে জন্ম নিচ্ছে নাস্তিক মুরতাদ জঙ্গীবাদ সন্তাস ও ঘুশখোর অফিসার।
এবার আসল কথায় আসি - ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দ পূর্বকাল।
দিল্লীতে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাই ছিল দ্বীনি শিক্ষাঙ্গনের প্রতীক। দরসে হাদীসের সিলসিলা এখান থেকেই পুরো ভারত বর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
১৮৬৬ খ্রীষ্টাদ্বে মাওলানা কাসিম নানুতবী (র.) -এর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারত উপমহাদেশে দারুল উলূম দেওবন্দ। কওমী মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক রূপের সূচনা হয় এখান থেকেই।
১৯০১ খ্রীষ্টাদ্ব। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেরশের চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম। য়া দক্ষিন এশিয়ার ২য় বৃহত্তম ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
দারুল উলূম দেওবন্দকে কেন্দ্র করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ নানা প্রান্তে ও দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে একে একে কাওমী মাদ্রাসা।
তখনও সব দেশেই সরকার ছিল। কিন্তু এ মাদ্রাসা গুলোর স্বীকৃতি ছিলনা তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে। তবে স্বীকৃতি ছিল কওমের, জাতির ও আম মুসলিমের। আসমানী ওহীলদ্ধ এ শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উৎস হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে গারে হেরা বা জাবালে নূর।
যেখান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে কুরআন হাদীসের নূরানী আভা।
ইংরেজ বিতাড়িত হয় ভারত বর্ষ থেকে। দেশ বিভক্ত হয় ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে। তখনও কওমী মাদ্রাসার সরকারী স্বীকৃতির ব্যাপারে কেউ চিন্তাও করেন নি। দেশ বিভক্তির অনেক বছর পর সাম্প্রতিক সময়ে স্বীকৃতির প্রশ্নটি সামনে আসে। শুরু হয় পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক।
কওমী মাদ্রাসার সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গে দু’টি ধারা পাওয়া যায়।
এক. যারা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই মনে করেন তাদের যুক্তি:
ক. কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে এর মিল নেই। কাওমী মাদরাসার মূল কেন্দ্র দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম উম্মাহকে লিল্লাহিয়্যাতের ভিত্তিতে দ্বীনী ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করে আল্লাহওয়ালা আদর্শবান নাগরিক তৈরীর প্রত্যয়ে। দারুল উলূম দেওবন্দকে ঘিরেই পাক-ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে অগণিত কওমী মাদ্রাসা ।
খ. আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ তাওয়াক্কুল নির্ভর এ মাদ্রাসা গুলো। মাদ্রাসা পরিচালনায় জনগণের দান অনুদানই হচ্ছে এ মাদ্রাসা গুলোর আর্থিক উৎস ।
গ. কোন ধরনের সরকারী অনুদান এ মাদ্রাসা গুলো গ্রহণ করে না। এমন কি সরকার অনুদান দিতে চাইলেও বিনয়ের সাথে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়। পূর্বে এবং সাম্প্রতিক কালেও ভারত সরকার দেওবন্দকে সরকারী অনুদান গ্রহণের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মাদ্রাসা কতৃপক্ষ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান ।
ঘ. সব চাইতে বড় আশঙ্কা হল স্বীকৃতি নিলে সরকার স্বাভাবিকভাবেই চাইবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে তার প্রতিনিধি দিতে। এতে মাদ্রাসার স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা লংঘিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
ঙ. আধুনিকায়ন বা যুগোপযুগী করার দোহাই দিয়ে পাঠ্যসূচীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হবে ।
চ. আর এটা ঘটলে কাওমী মাদরাসার মহান বৈশিষ্ট্য রূহানিয়্যাত, আখলাকী ও আমলী তারবিয়ত উঠে যাবে এবং সবাই বৈষয়িক ক্ষেত্রে এ সনদ ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।
ছ. বিজ্ঞ অভিজ্ঞ আলিম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফতী ও ফকীহ তৈরী হবে না ।
জ. এক সময় এমনও হতে পারে যুগোপযুগী কোর্স বা বিষয়ের অন্তর্ভুক্তির কারণে মূল বিষয়গুলিই ধামাচাপা পড়ে যাবে।
ঞ. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদেরকে হাতে গোণা কয়েকটি বিভাগ ছাড়া অন্যান্য বিভাগে ভর্তি হতে দেবে না। যেমন বর্তমানে সরকারী আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল করা সত্বেও পছন্দের বিভাগে ভর্তির সুযোগ পায় না । কাওমী মাদ্রাসা ছাত্রদের সাথেও যে এমন আচরণ করা হবে না তার কোন গ্যারেন্টি নেই। ইত্যাদি ।
দুই. যারা স্বীকৃতি প্রাপ্তির পক্ষে তাদের যুক্তি :
ক. স্বীকৃতি প্রাপ্তির মাধ্যমে কাওমী ছাত্ররা সমাজে একটি সন্মানজনক অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হবে ।
খ. স্বীকৃত সনদের মাধ্যমে তারাও দেশ বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। কাওমী ছাত্রদেরকে লুকিয়ে লুকিয়ে আর দাখিল আলিম বা মেট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিতে হবে না।
গ. বর্তমানে অনেক কাওমী ছাত্র লুকিয়ে লুকিয়ে দাখিল আলিম বা মেট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশে যেমন সৌদী আরব, মিসর, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভে অধ্যয়নরত।
বিশেষ করে সৌদী আরবের মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা সুনামের সাথে অধ্যয়ন করছেন।
ঘ. দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তারা নিজেকে সংযুক্ত করতে পারবে ।
ঙ. দেশ ও জাতির সেবায় তারা আরও বেশি ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে ।
চ. সমাজের বোঝা হিসাবে তাদেরকে আর কোন গ্লানি বহন করতে হবে না।
দু'পক্ষের যুক্তি গুলোকে বিবেচনায় রেখে আমাদের সামনে এগুতে হবে।
বিভিন্ন দেশে কওমী সনদের স্বীকৃতি ও একটি পর্যালোচনাঃ
ক. ভারত
ভারত থেকে ইংরেজ খেদাও আন্দোলন এবং অবিভক্ত ভারতের পক্ষে অনড় ভুমিকা পালনকারী শাইখুল আরব ওয়াল আজম ও দারুল উলূম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস শাইখূল ইসলাম হোসাইন আহমাদ মাদানী (রা.)।
শ্রুতি আছে যে, দেশ বিভাগের পর ভারতীয় কংগ্রেস সরকার হযরতকে দারুল উলূম দেওবন্দের সনদের স্বীকৃতি দানের প্রস্তাব পেশ করে।
কিন্তু শাইখুল ইসলাম সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপরও ভারতীয় বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে আছে সেভাবে ঠিক রেখেই দারুল উলূম দেওবন্দ এবং পরবর্তিতে বেশ কিছু নিরবাচিত মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে স্বীকৃতি প্রদান করে। উল্লেখ্য আমার জানামতে ভারতে কওমী মাদরাসা বোর্ড নামে কোন বোর্ড নেই ।
আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, জামেয়া মিল্লিয়া ও হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বীকৃতিদানকারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোর নাম পাওয়া যেতে পারে বা তাদের সাথে যোগাযোগ করে এগুলো সংগ্রহ করা যেতে পারে।
তা ছাড়াও স্বীকৃতিদানকারী যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় যেমন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে স্বীকৃতি দানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়া যেতে পারে।
এরই সূত্র ধরে সময়ে সময়ে দেওবন্দের ছাত্ররা দাওরা শেষে অনেকেই আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে এম এ কোর্সে ভর্তি হয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করে। অনেকেই পরবর্তিতে এম ফিল ও পিএইচ.ডি ডিগ্রিও লাভ করেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা পেশায় প্রবেশ করেন। আমাদের দেশেও এর নজির আছে।
খ. পাকিস্তান
পাকিস্তান সরকারও কওমী মাদরাসার সনদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে তা মাদরাসা কেন্দ্রিক নয়। কাওমী মাদরাসা বোর্ড কেন্দ্রিক।
উল্লেখ্য পাকিস্তানে ‘বেফাকুল মাদারিসিল কাওমিয়্যাহ’ নামে একটি মাত্রই বোর্ড রয়েছে। এর সভাপতি হলেন জামেয়া ফারুকিয়ার মুহতামিম হযরত মাওলানা সালিমুল্লাহ খান সাহেব।
দাওরায়ে হাদীসকে সরাসরি এম এ-র মান দেয়া হয়েছে।
এ বোর্ড কতৃক ইস্যুকৃত দাওরায়ে হাদীসের সনদের ভিত্তিতে দাওরা ডিগ্রিধারীগণ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ ও এ্যারাবিকের শিক্ষক হতে পারেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি এম ফিল-এ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় এবং পরবর্তিতে পিএইচ.ডি ডিগ্রিও অর্জন করতে পারেস। বাংলাদেশী কিছু ছাত্র এ সুযোগ গ্রহণ করে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।
গ. বাংলাদেশ
বাংলাদেশের অনেক আলিম কাওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করেছেন। তাদের মাঝে ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রা.)। এ জন্য তিনি মুক্তাঙ্গণে বেশ কিছুদিন অবস্থান ধর্মঘটও করেন এবং উম্মুক্ত স্থানে হাদীসের দারসও দেন ।
সম্ভবত এরই ফলশ্রুতিতে তার সৌজন্যে তৎকালীন সময়ের চার দলীয় জোট (যে জোটে হযরতের দলও অন্তর্ভূক্ত ছিল) সরকার অন্তিম মুহূর্তে দাওরায়ে হাদীসকে এম এ (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী সাহিত্য) সমতুল্য হিসেবে একটি গেজেট প্রকাশ করে। (রেজিস্টার্ড নং ডি এ-১, তারিখ ২০ডিসেম্বর ২০০৬ বুধবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রজ্ঞাপন)।
পযার্লোচনাঃ
ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতিতে দেখা যায়ঃ
এক. মাদরাসা সিলেবাস ও কারিকুলামে আধুনিকায়ন ও যুগপোযুগী করার কোন শর্ত নেই। এ ক্ষেত্রে মাদরাসা কতৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বাধীন।
দুই. সরকারী সম্পৃক্ততার জন্য কোন শর্ত নেই।
তিন. নিদৃষ্ট ও নিবার্চিত মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদীসের সনদকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এটা চলমান।
চার. এ স্বীকৃতিতে সমমান হিসাবে বি এ (অনার্স) নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাঁচ. এ সনদের মাধ্যমে আমার জানামতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন, আলীগড়, জামেয়া মিল্লিয়া, হামদর্দ ও লাখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়) -এ সরাসরী এম এ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। পরবর্তিতে এম ফিল ও পিএইচ.ডি করারও সুযোগ আছে।
ছয়. কর্মক্ষেত্র হিসাবে সব ক্ষেত্রের জন্যই উম্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।
পাকিস্তানী স্বীকৃতিতে দেখা যায়ঃ
এক. মাদরাসার সিলেবাস ও কারিকুলামে আধুনিকায়ন ও যুগপোযুগী করার কোন শর্ত নেই। এ ক্ষেত্রে মাদরাসা কতৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে এ স্বীকৃতি পেতে হলে মাদরাসা ছাত্রদের অবশ্যই বেফাকের তত্ববধানে দাওরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
দুই. সরকারী সম্পৃক্ততার জন্য কোন শর্ত নেই।
তিন. সরকারী নিয়ন্ত্রণমুক্ত বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যা পাকিস্তান কতৃক আয়োজিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় পাশকরা দাওরা সনদকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
চার. এ সনদকে সরাসরি এম এ -র সমমান দেয়া হয়েছে।
পাঁচ. যতটুকু জানা যায় বেফাক থেকে সনদপ্রাপ্তরা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি এম ফিল কোর্সে ভর্তি হতে পারে। পরবর্তিতে পিএইচ.ডি করারও সুযোগ আছে।
ছয়. কর্মক্ষেত্র নির্ধারণে বলা হয়েছে স্কুল ও কলেজে ইসলামী শিক্ষা ও আরবী সাহিত্যে তারা শিক্ষকতা করতে পারবেন।
বাংলাদেশী স্বীকৃতিতে দেখা যায়ঃ
এক. প্রচারিত প্রজ্ঞাপনের বক্তব্য অনুযায়ী সরকার সকল কাওমী মাদরাসার সমম্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ‘কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
দুই. উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন/বিধিবিধান অনতিবিলম্বে প্রণয়ন করা হবে।
তিন. কাওমী মাদরাসার দাওরা ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। পরবর্তিতে এ পরীক্ষা ‘কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশের’ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে।
চার. দাওরা ডিগ্রি এম এ (ইসলামিক স্টাডিজ/আরবী সাহিত্য) -এর সমমান হবে।
পাঁচ. কিন্তু এ সনদের ভিত্তিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এম ফিল কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগের কথা বলা নাই।
ছয়. কর্মক্ষেত্র হিসাবে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরবী সাহিত্য/ ইসলামিক স্টাডিজ, কাজীর দায়িত্ব ও মাসজিদের ইমামতিকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশী স্বীকৃতিতে যে বিষয়গুলো উঠে আসে তা হল:
এক. কাওমী মাদরাসার স্বকীয়তা ক্ষুন্ন হবে। ভারত ও পাকিস্তানের ন্যায় তারা স্বাধিনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবে না। প্রস্তাবিত ‘কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ গঠন করে কাওমী মাদরাসাগুলোকে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রয়োজনীয় আইন/বিধি বিধান রচনা করে এ বোর্ডকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক প্রেরিত দাওরা ডিগ্রিধারীগণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স/এম এ কোর্সে ভর্তির অনুমতি প্রার্থনা প্রসঙ্গে আবেদনের জবাবে বাংলাদেশ মঞ্জুরী কমিশনের (সূত্র নং ৪১(২য়) বিমক/বৃত্তি/সচি/২০০১(পার্ট-১)/১৪৪৬ তারিখ ২৬/০২/২০০৯) এক চিঠিতে বলা হয় দাওরা ডিগ্রিকে এম এ সমমান দেয়ার পরও তারা বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্নাতক পযার্য়ে ভর্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
প্রশ্ন হল, এম এ সমমান স্বীকৃতির পর কীভাবে আবার স্নাতক কোর্সে ভর্তির কথা বলা হয়েছে? এতে কী এম এ সমমানের স্বীকৃতিকে খাটো করা হলো না?
তাছাড়াও প্রশ্ন উঠতে পারে কোন বোর্ড কী বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির সার্টিফিকেট দিতে পারে? এর জন্য প্রয়োজন হবে আরও একটি এফিলিয়েটেড কাওমী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথাচাড়া দেবে।
বর্তমান সময়ে যেখানেই কাওমী মাদরাসা সনদ স্বীকৃতির আলোচনা হচ্ছে সেখানে এ বিষয়টি সম্পর্কে কেউ কথা বলছেন না। এ স্বীকৃতিকে বাতিল করা হয়েছে কি না তাও জানা নেই। তবে আমার জানা মতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চিঠির ভিত্তিতে দাওরা ডিগ্রিধারীগণকে কোন কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ও সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়) অনার্সে ভর্তি করেছেন এবং তারা অনার্স শেষে আবার এম এ ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। বিষয়টি কেমন যেন অদ্ভুত ঠেকেছে। ঘোষিত ঐ প্রজ্ঞাপন ত্রুটিপূর্ণ। তাই সংশোধনযোগ্য।
যারা কাওমী সনদের স্বীকৃতির পক্ষে কথা বলেছেন তাদের মতামতকে সন্মান দেখিয়ে বলছি,
দারুল উলূম দেওবন্দের স্বীকৃতি কিন্তু আন্দোলন করে আদায় করা হয়নি। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই কাওমী দাওরা ডিগ্রিকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। সে কারণে এখনও দারুল উলূম কতৃপক্ষের এ বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই।
কেউ আলীগড় ভর্তি হয়েছে না কি ভর্তি হয়েছে জামেয়া মিল্লিয়া বা অন্য কোন ভার্সিটিতে এ নিয়ে তারা মাথা ঘামান না।
দাওরা ডিগ্রিধারীদেরও এ বিষযে তাড়া নেই যে, তারা কী করবে? কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হবে? অনুরূপ দেখা যায় পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও। ছাত্রদের কে এ স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে আর কে হয় নি এ নিয়ে মাদরাসা কতৃপক্ষের কোন চিন্তা নেই। তারা চলছে আপন গতিতে স্বাধীনভাবে।
সতর্কতা!
আমাদের মনে রাখতে হবে- কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড যদি তাকওয়াহীন দুনিয়াদার কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হয় তাহলে কওমী মাদ্রাসা আলীয়া মাদ্রাসায় পরিনত হবে, কওমী মাদ্রাসার আদর্শ ঐতিহ্য সুন্নাহ ভিত্তিক খোদাভীরু শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
চলবে---
শেয়ার ও আপনার সুচিন্তিত মতামত পেশ করুন।
শিক্ষার্থীরা যে কোন একটি বিষয় নিয়ে লেখা পড়া শুরু করে, সাইন্স কমার্স আর্টস ইত্যাদী বিষয়ে, লেখা পড়া শেষে কেউ ডাক্তার কেউ প্রকৌশলী আবার কেউ প্রফেসার বা অন্যান্য পেশায় জাতির খেদমতে নিয়োজিত হন।
জাতির জন্য যেমন ডাক্তার ইন্জিনিয়ারের প্রয়োজন হয় তেমনি একটি আদর্শবান জাতি গঠন ও ধর্মীয় সকল কার্য্যাদী সমাধানে ধর্মীয় শিক্ষার ও ব্যাপক প্রয়োজন আছে, কারন আমাদের শতকরা ৯০ ভাগ নাগরীকই হচ্ছে মুসলিম।
কওমী মাদ্রাসা গুলোতে "ইসলামীক ষ্টাডি ও আরবী সাহিত্যের" পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাংলা ইংরেজী ও অংক ইত্যাদী শিক্ষা দেয়া হয়।
মূল বিষয় হচ্ছে ইসলামীক স্টাডি ও আরবী সাহিত্য।
এবিষয়টি নিয়ে কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে, কাউকে ডাক্তার ইন্জিনিয়ার বানানোর জন্য অভিবাবকরা এখানে ছেলে মেয়েদের দেয়না।
একটাই উদ্যেশ্য দ্বীনদার আদর্শবান নাগরিক বা "অলদে সালেহ" নেক সন্তান হিসেবে তৈরী করতে এসব কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি করান।
আজ যারা কওমী মাদ্রাসার সেলিবাসে সমাজ বিজ্ঞান ও আধুনিক সেলিবাস সংযুক্ত করতে বলেন তাদের বলবো মানবতার মুক্তির সকল সমাধান কোরআন হাদীসেই নিহিত রয়েছে, আগে স্কুল গুলোতে প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা তথা কোরআন হাদীসের সেলিবাস চালু করুন।
বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য সরকারী খরচে লক্ষাধিক স্কুল কলেজ রয়েছে, মানুষের প্রণিত বিজ্ঞান শুধুমাত্র পেঠের জন্য শেখা হয়, কওমী ছাত্র ছাত্রীরা পেঠের জন্য জ্ঞানোর্জন করেনা।
স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার বড়ই অভাব,,,, আলেম ওলামা ও ইমাম সাহেবগন সকালে মসজিদে মক্তবের ব্যবস্হা নাকরলে বাংলাদেশের মুসসলিমদের জন্য নামাজেরর সুরা কেরাত ও দোয়া দুরুদ শেখাটাও হতোনা।
নাম মাত্র ধর্ম শিক্ষা স্কুল গুলোতে রয়েছে, আবার অনেক স্কুলে মুসলিম ধর্ম শিক্ষা দিচ্ছে হিন্দু টিচার।
এতে করে ধর্মীয় শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে তারা।
খোদাভীরু শিক্ষা না দেয়ার ফলে ঐসব প্রতিষ্ঠান হতে অধিকাংশে জন্ম নিচ্ছে নাস্তিক মুরতাদ জঙ্গীবাদ সন্তাস ও ঘুশখোর অফিসার।
এবার আসল কথায় আসি - ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দ পূর্বকাল।
দিল্লীতে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাই ছিল দ্বীনি শিক্ষাঙ্গনের প্রতীক। দরসে হাদীসের সিলসিলা এখান থেকেই পুরো ভারত বর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
১৮৬৬ খ্রীষ্টাদ্বে মাওলানা কাসিম নানুতবী (র.) -এর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারত উপমহাদেশে দারুল উলূম দেওবন্দ। কওমী মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক রূপের সূচনা হয় এখান থেকেই।
১৯০১ খ্রীষ্টাদ্ব। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেরশের চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম। য়া দক্ষিন এশিয়ার ২য় বৃহত্তম ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
দারুল উলূম দেওবন্দকে কেন্দ্র করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ নানা প্রান্তে ও দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে একে একে কাওমী মাদ্রাসা।
তখনও সব দেশেই সরকার ছিল। কিন্তু এ মাদ্রাসা গুলোর স্বীকৃতি ছিলনা তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে। তবে স্বীকৃতি ছিল কওমের, জাতির ও আম মুসলিমের। আসমানী ওহীলদ্ধ এ শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উৎস হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে গারে হেরা বা জাবালে নূর।
যেখান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে কুরআন হাদীসের নূরানী আভা।
ইংরেজ বিতাড়িত হয় ভারত বর্ষ থেকে। দেশ বিভক্ত হয় ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে। তখনও কওমী মাদ্রাসার সরকারী স্বীকৃতির ব্যাপারে কেউ চিন্তাও করেন নি। দেশ বিভক্তির অনেক বছর পর সাম্প্রতিক সময়ে স্বীকৃতির প্রশ্নটি সামনে আসে। শুরু হয় পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক।
কওমী মাদ্রাসার সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গে দু’টি ধারা পাওয়া যায়।
এক. যারা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই মনে করেন তাদের যুক্তি:
ক. কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে এর মিল নেই। কাওমী মাদরাসার মূল কেন্দ্র দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম উম্মাহকে লিল্লাহিয়্যাতের ভিত্তিতে দ্বীনী ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করে আল্লাহওয়ালা আদর্শবান নাগরিক তৈরীর প্রত্যয়ে। দারুল উলূম দেওবন্দকে ঘিরেই পাক-ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে অগণিত কওমী মাদ্রাসা ।
খ. আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ তাওয়াক্কুল নির্ভর এ মাদ্রাসা গুলো। মাদ্রাসা পরিচালনায় জনগণের দান অনুদানই হচ্ছে এ মাদ্রাসা গুলোর আর্থিক উৎস ।
গ. কোন ধরনের সরকারী অনুদান এ মাদ্রাসা গুলো গ্রহণ করে না। এমন কি সরকার অনুদান দিতে চাইলেও বিনয়ের সাথে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়। পূর্বে এবং সাম্প্রতিক কালেও ভারত সরকার দেওবন্দকে সরকারী অনুদান গ্রহণের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মাদ্রাসা কতৃপক্ষ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান ।
ঘ. সব চাইতে বড় আশঙ্কা হল স্বীকৃতি নিলে সরকার স্বাভাবিকভাবেই চাইবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে তার প্রতিনিধি দিতে। এতে মাদ্রাসার স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা লংঘিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
ঙ. আধুনিকায়ন বা যুগোপযুগী করার দোহাই দিয়ে পাঠ্যসূচীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হবে ।
চ. আর এটা ঘটলে কাওমী মাদরাসার মহান বৈশিষ্ট্য রূহানিয়্যাত, আখলাকী ও আমলী তারবিয়ত উঠে যাবে এবং সবাই বৈষয়িক ক্ষেত্রে এ সনদ ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।
ছ. বিজ্ঞ অভিজ্ঞ আলিম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফতী ও ফকীহ তৈরী হবে না ।
জ. এক সময় এমনও হতে পারে যুগোপযুগী কোর্স বা বিষয়ের অন্তর্ভুক্তির কারণে মূল বিষয়গুলিই ধামাচাপা পড়ে যাবে।
ঞ. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদেরকে হাতে গোণা কয়েকটি বিভাগ ছাড়া অন্যান্য বিভাগে ভর্তি হতে দেবে না। যেমন বর্তমানে সরকারী আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল করা সত্বেও পছন্দের বিভাগে ভর্তির সুযোগ পায় না । কাওমী মাদ্রাসা ছাত্রদের সাথেও যে এমন আচরণ করা হবে না তার কোন গ্যারেন্টি নেই। ইত্যাদি ।
দুই. যারা স্বীকৃতি প্রাপ্তির পক্ষে তাদের যুক্তি :
ক. স্বীকৃতি প্রাপ্তির মাধ্যমে কাওমী ছাত্ররা সমাজে একটি সন্মানজনক অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হবে ।
খ. স্বীকৃত সনদের মাধ্যমে তারাও দেশ বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। কাওমী ছাত্রদেরকে লুকিয়ে লুকিয়ে আর দাখিল আলিম বা মেট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিতে হবে না।
গ. বর্তমানে অনেক কাওমী ছাত্র লুকিয়ে লুকিয়ে দাখিল আলিম বা মেট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশে যেমন সৌদী আরব, মিসর, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভে অধ্যয়নরত।
বিশেষ করে সৌদী আরবের মাদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা সুনামের সাথে অধ্যয়ন করছেন।
ঘ. দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তারা নিজেকে সংযুক্ত করতে পারবে ।
ঙ. দেশ ও জাতির সেবায় তারা আরও বেশি ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে ।
চ. সমাজের বোঝা হিসাবে তাদেরকে আর কোন গ্লানি বহন করতে হবে না।
দু'পক্ষের যুক্তি গুলোকে বিবেচনায় রেখে আমাদের সামনে এগুতে হবে।
বিভিন্ন দেশে কওমী সনদের স্বীকৃতি ও একটি পর্যালোচনাঃ
ক. ভারত
ভারত থেকে ইংরেজ খেদাও আন্দোলন এবং অবিভক্ত ভারতের পক্ষে অনড় ভুমিকা পালনকারী শাইখুল আরব ওয়াল আজম ও দারুল উলূম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস শাইখূল ইসলাম হোসাইন আহমাদ মাদানী (রা.)।
শ্রুতি আছে যে, দেশ বিভাগের পর ভারতীয় কংগ্রেস সরকার হযরতকে দারুল উলূম দেওবন্দের সনদের স্বীকৃতি দানের প্রস্তাব পেশ করে।
কিন্তু শাইখুল ইসলাম সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপরও ভারতীয় বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে আছে সেভাবে ঠিক রেখেই দারুল উলূম দেওবন্দ এবং পরবর্তিতে বেশ কিছু নিরবাচিত মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে স্বীকৃতি প্রদান করে। উল্লেখ্য আমার জানামতে ভারতে কওমী মাদরাসা বোর্ড নামে কোন বোর্ড নেই ।
আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, জামেয়া মিল্লিয়া ও হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বীকৃতিদানকারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোর নাম পাওয়া যেতে পারে বা তাদের সাথে যোগাযোগ করে এগুলো সংগ্রহ করা যেতে পারে।
তা ছাড়াও স্বীকৃতিদানকারী যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় যেমন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে স্বীকৃতি দানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়া যেতে পারে।
এরই সূত্র ধরে সময়ে সময়ে দেওবন্দের ছাত্ররা দাওরা শেষে অনেকেই আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে এম এ কোর্সে ভর্তি হয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করে। অনেকেই পরবর্তিতে এম ফিল ও পিএইচ.ডি ডিগ্রিও লাভ করেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা পেশায় প্রবেশ করেন। আমাদের দেশেও এর নজির আছে।
খ. পাকিস্তান
পাকিস্তান সরকারও কওমী মাদরাসার সনদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে তা মাদরাসা কেন্দ্রিক নয়। কাওমী মাদরাসা বোর্ড কেন্দ্রিক।
উল্লেখ্য পাকিস্তানে ‘বেফাকুল মাদারিসিল কাওমিয়্যাহ’ নামে একটি মাত্রই বোর্ড রয়েছে। এর সভাপতি হলেন জামেয়া ফারুকিয়ার মুহতামিম হযরত মাওলানা সালিমুল্লাহ খান সাহেব।
দাওরায়ে হাদীসকে সরাসরি এম এ-র মান দেয়া হয়েছে।
এ বোর্ড কতৃক ইস্যুকৃত দাওরায়ে হাদীসের সনদের ভিত্তিতে দাওরা ডিগ্রিধারীগণ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ ও এ্যারাবিকের শিক্ষক হতে পারেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি এম ফিল-এ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় এবং পরবর্তিতে পিএইচ.ডি ডিগ্রিও অর্জন করতে পারেস। বাংলাদেশী কিছু ছাত্র এ সুযোগ গ্রহণ করে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।
গ. বাংলাদেশ
বাংলাদেশের অনেক আলিম কাওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করেছেন। তাদের মাঝে ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রা.)। এ জন্য তিনি মুক্তাঙ্গণে বেশ কিছুদিন অবস্থান ধর্মঘটও করেন এবং উম্মুক্ত স্থানে হাদীসের দারসও দেন ।
সম্ভবত এরই ফলশ্রুতিতে তার সৌজন্যে তৎকালীন সময়ের চার দলীয় জোট (যে জোটে হযরতের দলও অন্তর্ভূক্ত ছিল) সরকার অন্তিম মুহূর্তে দাওরায়ে হাদীসকে এম এ (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী সাহিত্য) সমতুল্য হিসেবে একটি গেজেট প্রকাশ করে। (রেজিস্টার্ড নং ডি এ-১, তারিখ ২০ডিসেম্বর ২০০৬ বুধবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রজ্ঞাপন)।
পযার্লোচনাঃ
ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতিতে দেখা যায়ঃ
এক. মাদরাসা সিলেবাস ও কারিকুলামে আধুনিকায়ন ও যুগপোযুগী করার কোন শর্ত নেই। এ ক্ষেত্রে মাদরাসা কতৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বাধীন।
দুই. সরকারী সম্পৃক্ততার জন্য কোন শর্ত নেই।
তিন. নিদৃষ্ট ও নিবার্চিত মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদীসের সনদকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এটা চলমান।
চার. এ স্বীকৃতিতে সমমান হিসাবে বি এ (অনার্স) নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাঁচ. এ সনদের মাধ্যমে আমার জানামতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন, আলীগড়, জামেয়া মিল্লিয়া, হামদর্দ ও লাখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়) -এ সরাসরী এম এ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। পরবর্তিতে এম ফিল ও পিএইচ.ডি করারও সুযোগ আছে।
ছয়. কর্মক্ষেত্র হিসাবে সব ক্ষেত্রের জন্যই উম্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।
পাকিস্তানী স্বীকৃতিতে দেখা যায়ঃ
এক. মাদরাসার সিলেবাস ও কারিকুলামে আধুনিকায়ন ও যুগপোযুগী করার কোন শর্ত নেই। এ ক্ষেত্রে মাদরাসা কতৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে এ স্বীকৃতি পেতে হলে মাদরাসা ছাত্রদের অবশ্যই বেফাকের তত্ববধানে দাওরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
দুই. সরকারী সম্পৃক্ততার জন্য কোন শর্ত নেই।
তিন. সরকারী নিয়ন্ত্রণমুক্ত বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যা পাকিস্তান কতৃক আয়োজিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় পাশকরা দাওরা সনদকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
চার. এ সনদকে সরাসরি এম এ -র সমমান দেয়া হয়েছে।
পাঁচ. যতটুকু জানা যায় বেফাক থেকে সনদপ্রাপ্তরা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি এম ফিল কোর্সে ভর্তি হতে পারে। পরবর্তিতে পিএইচ.ডি করারও সুযোগ আছে।
ছয়. কর্মক্ষেত্র নির্ধারণে বলা হয়েছে স্কুল ও কলেজে ইসলামী শিক্ষা ও আরবী সাহিত্যে তারা শিক্ষকতা করতে পারবেন।
বাংলাদেশী স্বীকৃতিতে দেখা যায়ঃ
এক. প্রচারিত প্রজ্ঞাপনের বক্তব্য অনুযায়ী সরকার সকল কাওমী মাদরাসার সমম্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ‘কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
দুই. উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন/বিধিবিধান অনতিবিলম্বে প্রণয়ন করা হবে।
তিন. কাওমী মাদরাসার দাওরা ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। পরবর্তিতে এ পরীক্ষা ‘কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশের’ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে।
চার. দাওরা ডিগ্রি এম এ (ইসলামিক স্টাডিজ/আরবী সাহিত্য) -এর সমমান হবে।
পাঁচ. কিন্তু এ সনদের ভিত্তিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এম ফিল কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগের কথা বলা নাই।
ছয়. কর্মক্ষেত্র হিসাবে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরবী সাহিত্য/ ইসলামিক স্টাডিজ, কাজীর দায়িত্ব ও মাসজিদের ইমামতিকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশী স্বীকৃতিতে যে বিষয়গুলো উঠে আসে তা হল:
এক. কাওমী মাদরাসার স্বকীয়তা ক্ষুন্ন হবে। ভারত ও পাকিস্তানের ন্যায় তারা স্বাধিনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবে না। প্রস্তাবিত ‘কাওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ গঠন করে কাওমী মাদরাসাগুলোকে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রয়োজনীয় আইন/বিধি বিধান রচনা করে এ বোর্ডকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক প্রেরিত দাওরা ডিগ্রিধারীগণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স/এম এ কোর্সে ভর্তির অনুমতি প্রার্থনা প্রসঙ্গে আবেদনের জবাবে বাংলাদেশ মঞ্জুরী কমিশনের (সূত্র নং ৪১(২য়) বিমক/বৃত্তি/সচি/২০০১(পার্ট-১)/১৪৪৬ তারিখ ২৬/০২/২০০৯) এক চিঠিতে বলা হয় দাওরা ডিগ্রিকে এম এ সমমান দেয়ার পরও তারা বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্নাতক পযার্য়ে ভর্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
প্রশ্ন হল, এম এ সমমান স্বীকৃতির পর কীভাবে আবার স্নাতক কোর্সে ভর্তির কথা বলা হয়েছে? এতে কী এম এ সমমানের স্বীকৃতিকে খাটো করা হলো না?
তাছাড়াও প্রশ্ন উঠতে পারে কোন বোর্ড কী বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির সার্টিফিকেট দিতে পারে? এর জন্য প্রয়োজন হবে আরও একটি এফিলিয়েটেড কাওমী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথাচাড়া দেবে।
বর্তমান সময়ে যেখানেই কাওমী মাদরাসা সনদ স্বীকৃতির আলোচনা হচ্ছে সেখানে এ বিষয়টি সম্পর্কে কেউ কথা বলছেন না। এ স্বীকৃতিকে বাতিল করা হয়েছে কি না তাও জানা নেই। তবে আমার জানা মতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চিঠির ভিত্তিতে দাওরা ডিগ্রিধারীগণকে কোন কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ও সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়) অনার্সে ভর্তি করেছেন এবং তারা অনার্স শেষে আবার এম এ ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। বিষয়টি কেমন যেন অদ্ভুত ঠেকেছে। ঘোষিত ঐ প্রজ্ঞাপন ত্রুটিপূর্ণ। তাই সংশোধনযোগ্য।
যারা কাওমী সনদের স্বীকৃতির পক্ষে কথা বলেছেন তাদের মতামতকে সন্মান দেখিয়ে বলছি,
দারুল উলূম দেওবন্দের স্বীকৃতি কিন্তু আন্দোলন করে আদায় করা হয়নি। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই কাওমী দাওরা ডিগ্রিকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। সে কারণে এখনও দারুল উলূম কতৃপক্ষের এ বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই।
কেউ আলীগড় ভর্তি হয়েছে না কি ভর্তি হয়েছে জামেয়া মিল্লিয়া বা অন্য কোন ভার্সিটিতে এ নিয়ে তারা মাথা ঘামান না।
দাওরা ডিগ্রিধারীদেরও এ বিষযে তাড়া নেই যে, তারা কী করবে? কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হবে? অনুরূপ দেখা যায় পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও। ছাত্রদের কে এ স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে আর কে হয় নি এ নিয়ে মাদরাসা কতৃপক্ষের কোন চিন্তা নেই। তারা চলছে আপন গতিতে স্বাধীনভাবে।
সতর্কতা!
আমাদের মনে রাখতে হবে- কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড যদি তাকওয়াহীন দুনিয়াদার কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হয় তাহলে কওমী মাদ্রাসা আলীয়া মাদ্রাসায় পরিনত হবে, কওমী মাদ্রাসার আদর্শ ঐতিহ্য সুন্নাহ ভিত্তিক খোদাভীরু শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
চলবে---
শেয়ার ও আপনার সুচিন্তিত মতামত পেশ করুন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন