কৃপনের আকিকা! ঘরে নাদিয়ে মাদ্রাসায় দান!

- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী

বাড়ীতে রান্নার আয়োজন করলে ব্যয় একটু বেশি হবে তাই সুন্নাতি তরীকা বাদ দিয়ে আসল হক্বদার পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজন ও গরীব প্রতিবেশিদের মাহরোম করে আকিকার ছাগল পীর বাবার দরবার বা কোন এতিমখানায় দান করে দেয়া।
ওখানে কেউ জবাই দেয় আবার কেউ বিক্রি করে আবার কখনো বেশি দিন বেঁধে রাখার কারনে ছাগলটা মরে যায়।

কোরবানীর গোস্ত যেমন তিন ভাগ করা সুন্নাতি তরীকা আকিকার গোস্তের ও একি বিধান, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন এবং সন্তানকে সকল বিপদ আপদ হতে রক্ষার্থে ছেলে হলে দূটি আর মেয়ের হলে একটি (এক বৎসর বয়সি) ছাগল জবাই করে সুন্দর করে রান্না করে নিজেরা খাবে আত্মীয় স্বজন ও গরীবদের খাওয়াবে। এতিমখানায় দিতে চায়লে গোস্তের একতৃতীয়াংশ দেয়া যায়।

হাদীস শরীফে আকিকার নিয়মটি দেখে নিন-

عن أم كرز قالت قالت امرأة من أهل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت امرأة عبد الرحمن غلاما نحرنا عنه جزورا فقالت عائشة : لا بل السنة عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة يطبخ جدولا ولا يكسر لها عظم فيأكل ويطعم ويتصدق يفعل ذلك في اليوم السابع فإن لم يفعل ففي أربع عشرة فإن لم يفعل ففي إحدى وعشرين.

উম্মে করয (রাঃ) বলেন আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের পরিবারের জনৈক মহিলা বলেন" আব্দুর রহমানের স্ত্রী ছেলে সন্তান প্রসব করে, তখন আমরা তার পক্ষ থেকে একটি ভেড়া জবাই করেছি। তখন হযরত আয়শা রাঃ বললেন-এমনটি নয়, বরং পদ্ধতি হল-ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি সমান পর্যায়ের বকরী আর মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী দিবে [আক্বিকা]।তারপর এটিকে রান্না করবে, হাড্ডি কে ভাঙবেনা, তারপর তা নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে, এবং দান করবে।একাজগুলো করবে সপ্তম দিন, সেদিন সক্ষম না হলে চৌদ্দতম দিন, সেদিনও সক্ষম না হলে একুশতম দিন করবে আক্বিকা। [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯২}

আজকাল মানুষ সন্তান জন্মিলে মিষ্টি মুখ করে সকলকে খুশি করে রাসুল (সাঃ) এর যুগে সাহাবারা আকিকার খানা খাওয়ানোর মাধ্যমেই সকলকে খুশি করতেন।

আজ কতিপয় কৃপন লোক সেই সুন্নাত বাদ দিয়ে সকলকে মাহরুম করে ঘরে বাতি না দিয়ে মসজিদে বাতি দিতে পছন্দ করে আর আকিকার ছাগল বাইরে দান করে দিয়ে মনে করে এতেই ছোয়াব বেশি হয়,
হ্যাঁ সাধ্য অনুযায়ী আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে মাদ্রাসার আলেম ওলামা ও এতিম ছাত্রদের দাওয়াত করে খাওয়ানো বা কাঁচা গোস্তের একতৃতীয়াংশ এতিমখানায় দান করলে এতে অবশ্যই নেকি বেশি হবে, পুরো আকিকার ছাগল এতিমখানায় দিয়ে দেয়া সুন্নাহ বহির্ভূত।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

عن عائشة رضي الله عنها قالت : قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم : "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد". رواه البخاري ومسلم،
 وفي رواية لمسلم: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد".

যে তোমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কোন নতুন বিষয় সংযুক্ত করবে যা তার অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে ( অর্থাৎ তা গ্রহন যোগ্য হবেনা) বুখারী -২৬৯৭ মুসলিম- ১৭১৮.
মুসলিম শরীফের বর্ননার ভাষা হলো এই যে-
যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে যা আমাদের দ্বীনে নেই তা গ্রহন যোগ্য হবেনা অর্থাৎ প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাবে।

তাই আমাদের প্রতিটি নেক আমল রাসুল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ অনুযায়ি হতে হবে, মনগড়া ইবাদাত বিদআতে পরিনত হয়ে ক্ববুল নাও হতে পারে।
আরকটা রেওয়াজ আমাদের দেশে প্রচলিত আছে তাহলো আকিকার নামে বিরাট আয়োজন করে অপচয় করা গরীবদের দাওয়াত নাদিয়ে শুধু বড় লোকদের দাওয়াত দিয়ে উপহার সামগ্রী ও নগদ ইন্কাম করা এটাও মারাত্তক গোনাহের কাজ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কে তার দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুক এবং প্রতিটি কাজ সুন্নাতি তরিকা মতো করার তাওফীক দান করুক - আমিন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ও রেজাল্ট বাংলা ভাষায় করা হোক!

কওমী মাদ্রাসা সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গঃ

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (ইত্তেহাদুল মাদারিস) মারকাজী পরীক্ষা-২০১৯ এর ফল প্রকাশ!