মুক্তি যুদ্ধে কওমি আলেমদের ভূমিকাঃ
-- শাইখ ছাঈদ কোদালাভী--
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কওমি মাদ্রাসার যুবক ছাত্ররা হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর সর্বশেষ জীবিত খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহি কে জিজ্ঞাস করেছিল এই যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে এই যুদ্ধটা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ?
তখন হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাই উত্তর দিয়েছিলেন-এটা হচ্ছে জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের যুদ্ধ।পাকিস্তানিরা হচ্ছে জালেম আর আমরা বাঙ্গালীরা হচ্ছি মজলুম।
হাফেজ্জি হুজুরের এই কথা শুনে অনেক আলেম মুক্তি যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল।সাংবাদিক শাকের হোসাইন শিবলিরএকটি বই আছে “আলেম মুক্তি যুদ্ধাদের খোজে”এই বইটিতে আপনারা অনেক বড় বড় আলেম যারা দেশের বিভিন্ন ক্বওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের বীরত্বের কাহিনী পাবেন।
কিন্তু ঐ আলেমরা ওলামা লীগ করতো না।
উনারা শুধু দেশ মাতৃকারটানে ও নির্যাতীতনারীদের কে পাকিস্তানী হানদার বাহিনীর লালসার হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।
#১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন শায়খুল ইসলাম আমীমুলএহসান রহমাতুল্লাহআলাইহি।
আমীমুলএহসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনিও কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন হত্যা ও নারীধর্ষনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।
পরবর্তীতে ইয়াহিয়া সরকার উনাকে জোর করে সৌদি-আরব পাঠিয়ে দেয়।
দেশ স্বাধীন হবার পর উনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন ও বঙ্গবন্ধু উনাকে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান খতীব হিসাবে নিযুক্ত করেন।
উপমহাদেশে শিয়া মতবাদের বিলুপ্তি সাধনে শায়খুল ইসলাম আমীমুলএহসান রহমাতুল্লাহআলাইহি এর অনেকঅবদান ছিল।
[তথ্যসূত্রঃ শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি এর জীবন ও কর্ম,ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদে]
#ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদরের যে সবচেয়ে বড় ক্বওমি মাদ্রাসা জামিয়া ইউনুসিয়া সেই মাদ্রাসার প্রধান
মুহতামিম ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনিও কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন।
ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় অনেক বড় বড় আলেম উনার ফতোয়া শুনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল।অনেকমুক্তিযুদ্ধাকে ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহমাতুল্লাহ আলাইহি নিজের বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু উনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন।
[তথ্যসুত্রঃ ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহমাতুল্লাহ আলাইহি ও উনারসাথী বর্গ, লেখকঃ হাফিয মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন,বাংলাদেশ]
#পাবনার রাজাকার বাহিনীর প্রধান ছিলেন জামায়াতের তথাকথিত মাওলানা সোবহান আবার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান ছিলেন দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাসকরা মাওলানা কাসিমুদ্দিন যিনি রাজাকার বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে শহীদ হয়েছিলেন।
#ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা কেন্দ্রিক যে আলেমদের সংগঠন আছে “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ”
উনারা ওকিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তি যোদ্ধার পক্ষে অনেক ফতোয়া দিয়েছিলেন।
#জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ” ১৯৭১সালে স্পষ্ট ভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যে নির্মম ভাবে পূর্ব
পাকিস্তানি জনগণদেরকে হত্যা করছে এই ব্যাপারে অনেক গুলি বিবৃতি দিয়েছিল।
এই ফতোয়া গুলি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহ আলাইহির যে জীবনী বের হয়েছে সেই বইটির শেষে পরিশিষ্ট আঁকারে দেয়া হয়েছে।
#বিশিষ্ট গবেষক আলেম ডঃ মুশতাক আহমেদ“ শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহ আলাইহিঃ জীবন ও কর্ম” শিরোনামে তথ্য ও তত্ত্ব বহুল অভিসন্দর্ভ প্রনয়ন করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগ থেকে এই অভিসন্দর্ভ উপলক্ষ্যে মুশতাক আহমেদ কে পি.এইচ.ডি.ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ডঃ মুশতাক আহমেদের এই অভিসন্দর্ভ টিই শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহ আলাইহির জীবনী বই আকারে বের করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে একটা ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে যে ইসলাম নিয়ে যারা রাজনীতি করে ইসলাম নিয়ে যারা লেখালেখি করে তাদেরকে রাজাকার হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে এত অত্যাচার করেছে, সুন্দরী মেয়েদের ধর্ষন করে তাদের স্তন কেটে দিতো কিন্তু সেই সময় অধ্যাপক গোলাম আযম, মওদুদী, নিজামী, মুজাহিদ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটা বিবৃতি দেয়ারও সাহস পায়নি, এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি একথাটা ও সত্য যে আমাদের ক্বওমি মাদ্রাসার আলেমরা স্পষ্ট ভাবে সে সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে যোদ্ধের ফতোয়া দিয়েছিলেন। শুধু ফতোয়াই দেননি অনেক কওমি মাদ্রাসার যুবক ছাত্রদের কে মুক্তিযুদ্ধেও পাঠিয়ে ছিলেন।
তাই দেশপ্রেমি সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে-
রাজাকাররা লম্বা পাকিস্তানী পোষাক পরে পাকিস্তানের দালালি করেছে বলে দয়া করে হক্কানী কওমি আলেমদেরকে রাজাকার আল বদর বলে গালি দেবেন না।
যত বড় মুক্তিযোদ্ধাই আসুক দেওবন্দ ভিত্তিক কোন কওমি মাদ্রাসার আলেম কে রাজাকার হিসাবে প্রমান করতে পারবে না- ইনশাআল্লাহ।
পোষ্ট যদি কারো কাছে গুরুত্বপুর্ণ মনে হয় তাহলে অবশ্যই কপি/শেয়ার/লাইক/কমেন্টস করে সবাইকে জানার সুযোগ দিন।
Note::
কওমি আলেম মুক্তি যুদ্ধাদের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে মাওলানা শাকের হুসাইন শিবলী লিখিত
"আলেম মুক্তি যোদ্ধার খোজে" বইটি অবশ্যই পড়বেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের এই প্রানপ্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও আমাদের কে অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধশালি করুন- আমিন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন