আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্বীন প্রচার করুন।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন দ্বীনের দাওয়াতঃ(নেট ব্যবহারকারী দাঈ ভাইদের জন্য জরুরী গাইড)
দ্বীনের সকল দাঈ, আলেম ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহন করে তা যদি দাওয়াতী কাজে ব্যবহার করা যায় তাহলে অতি সহজে বিশ্বের ঘরে ঘরে শান্তির ধর্ম ইসলাম পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
এসব ব্যবহারে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী হতে হবে তাই ইলমে দ্বীন শিক্ষার পাশা পাশি ছাত্রদের মাতৃভাষা ও আন্তর্জাতিক ভাষায় সুদক্ষতা অর্জন করতে হবে।
ভাষা ব্যতিত যে যত বড়ই আলেম হোক না কেন ইলমের বিকাশ সম্ভব নয়!
মুসলিম জিন্দেগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মানুষদের আল্লাহর পথে আহ্বান করা, যাকে আমরা দাওয়াত বা তাবলিগ বলে থাকি। প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হচ্ছে, সাধ্য অনুযায়ী ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য গণমানুষের কাছে তুলে ধরা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা মানুষদের কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং অন্যায় কাজে বারণ করবে’ (সূরা আল ইমরান-১০৪)।
নবী (সা.) বলেন, ‘আমার থেকে একটি কথা হলেও গণমানুষের কাছে পৌঁছে দাও’। যুগে যুগে সব নবী-রাসুলের একমাত্র কাজই ছিল আল্লাহর জমিনে ইসলাম কায়েম করা। আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে নবী-রাসুলগণ সম্ভাব্য সব উপায় অবলম্বন করেছেন। পবিত্র কোরআনে নূহের বরাতে আল্লাহ বলেন : ‘হে আমার রব! আমি আমার জাতিকে রাত-দিন সব সময় (বিভিন্ন উপায়ে আল্লাহর পথে) দাওয়াত দিয়েছি’ (সূরা নূহ: ০৫)। এই আধুনিক যুগে আমাদেরও কর্তব্য হচ্ছে দাওয়াতি কাজে সম্ভাব্য সব উপায় অবলম্বন করা।
এই সময়ে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি হচ্ছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের ওপর গোটা দুনিয়া এখন ভর করে আছে। ব্যাংক, বীমা, অফিস, আদালত, স্থলপথ, আকাশ পথ, সামরিক ব্যবস্থা, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সবকিছুই এখন ইন্টারনেট নির্ভর। ইন্টারনেটের প্রধান কাজ হচ্ছে, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন। দাওয়াত ও তাবলিগি কার্যক্রমের জন্য ইন্টারনেট অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। দাঈ ইসলাম তথা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীরা একে ব্যবহার করে ইসলামকে সহজেই বিশ্বের সব প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারেন। এখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাওয়াতের কিছু প্রসঙ্গ উপলক্ষ তুলে ধরা হলো।
ব্লগিং :
ব্লগ শব্দটি ইংরেজি। ইষড়ম-এর বাংলা প্রতিশব্দ। এটি এক ধরনের অনলাইন ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা। যিনি ব্লগে পোস্ট করেন তাকে ব্লগার বলা হয়। বর্তমান সময়ে দাওয়াতি কাজের সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম হতে পারে ব্লগিং। এখানে নিজের মতামতকে সহজেই উপস্থাপন করা যায়। কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, হাদিস-কোরআনের তাফসির কিংবা যে কোনো ধরনের আলোচনা অনায়াসেই প্রকাশ করা যায় ব্লগে। ব্লগ সাইটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, যে কোনো মতামত যখন তখন প্রকাশ করা যায় এখানে। কোনো সম্পাদক লেখাগুলো এডিট করে না। আবার কেউ কোনো লেখা দিলে সেই লেখার ওপর যে কোনো মন্তব্য করারও সুযোগ আছে। পেপার-পত্রিকায় সবাই লেখালেখির সুযোগ পান না। কিংবা সব লেখা পত্রিকা কর্তৃপক্ষও ছাপায় না। ব্লগে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা যায়। এর মাধ্যমে ব্লগের পাঠকদের মধ্যে দাওয়াতি কাজ করা যায়। একটি লেখার ওপর একাধিক মন্তব্য এলে লেখক ও পাঠকের জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়তে পারে। পক্ষ-বিপক্ষ দলের মধ্যে যুক্তি-তর্কের লড়াইও জমে এখানে। আমাদের দেশের আলেমরা ব্লগিং করার অভ্যাস গড়তে পারেন। এতে দাওয়াতি কাজও হবে এবং নিজের কলমও মেরামত হবে।
যে কোনো একটি ব্লগ সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে এখনই নেমে পড়ুন ইসলামের সুমহান আদর্শকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজে।
ব্লগিং করতে যা দরকার :
১. আপনার কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন।
২. একটা ইমেইল আইডি।
৩. নির্দিষ্ট ব্লগ সাইটে আপনার একটা ব্লগ অ্যাকাউন্ট। ৪. আপনার কম্পিউটারে বাংলা টাইপিংয়ের যে কোনো সফটওয়ার ইন্সটল থাকতে হবে।
৫. ব্লগ সাইটের কিছু শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং ব্লগের নীতিমালাগুলো জানতে হবে।
ইন্টারনেট ম্যাগাজিন :
সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ম্যাগাজিন যদি ইন্টারনেটভিত্তিক হয় তখন তাকে আমরা ইন্টারনেট ম্যাগাজিন বা অনলাইন ম্যাগাজিন বলতে পারি। সাধারণ ম্যাগাজিন আর অনলাইন ম্যাগাজিনের পার্থক্য হচ্ছে, সাধারণ ম্যাগাজিন প্রেসে ছাপা হয় আর অনলাইন ম্যাগাজিন ওয়েব পেইজে প্রকাশিত হয়। আর সবকিছুই এক। আপনি আপনার যে কোনো সুন্দর লেখা অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশ করতে পারেন। সম্পাদকরা এটি প্রকাশের যোগ্য হলে প্রকাশ করবে, না হয় করবে না। এখানে ব্লগের মতো ইচ্ছেমত লেখা যায় না। যে ম্যাগাজিনে আপনি লেখা প্রকাশ করবেন সেই ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশের নীতিমালা জেনে নিন।
ফেসবুক :
বর্তমানে ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন ফেসবুকের সদস্য। ফেসবুকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি ওপেন। এখানে আপনি সবার সঙ্গে আপনার ছবি, মন্তব্য, ভিডিও শেয়ার করতে পারেন। আপনার শেয়ারকৃত যে কোনো বিষয় বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ দেখতে পারবে। এখানে কোনো এডিটর নেই। আপনি যাই আপলোড করবেন তাই সেখানে প্রকাশিত হবে। একজন দাঈ ইসলাম হিসেবে আপনি কোরআন হাদিসের বাণী, মনীষীর বাণী কিংবা জনমত গঠনে যে কোনো আহ্বান ফেসবুকের মাধ্যমে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। মিসরের সাম্প্রতিক বিপ্লব ও আরব বসন্তের পেছনে ফেসবুক ও টুইটার বিশাল অবদান রেখেছে। ফেসবুকে আপনি ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী সঙ্গীতসহ যে কোনো বিষয় আপলোড করে গণমানুষকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে পারেন।
ইন্টারনেটভিত্তিক লাইব্রেরি :
দাওয়াহ কার্যক্রমের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক লাইব্রেরি হতে পারে আদর্শ স্থান। আদর্শ ও সুশিক্ষিত জাতি গড়তে লাইব্রেরির কোনো বিকল্প নেই। লাইব্রেরি মানুষের চিন্তা, চেতনাকে পাল্টে ফেলতে পারে। তথ্য খোঁজার জন্য মানুষের এখন আর অত সময় নেই। তাই তারা দিন দিন ডিজিটাল লাইব্রেরির দিকে ঝুঁকছে। কেননা ডিজিটাল লাইব্রেরিতে তথ্য খুঁজতে সময়, শ্রম ও অর্থ কোনোটাই নাই বললেই চলে। অনলাইনে কয়েক হাজার কোটি টাকার বই পাওয়া যায় ফ্রি। অতএব দাঈগণ এ বিষয়ে নজর দিতে পারেন। আমরা যদি বেশি ইসলামী লাইব্রেরি উপহার দিতে পারি তাহলে পাঠকের মধ্যে ইসলামী ভাবধারা গড়ে উঠবে। আরবি ভাষায় বেশকিছু অনলাইনভিত্তিক ইসলামী লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশের আলেমগণ ওইসব লাইব্রেরি থেকে ফায়দা নিতে পারেন। এখানে কয়েকটি অনলাইন লাইব্রেরির ঠিকানা দেয়া হলো : ‘আল মাকতাবাতুশ শামেলা’। এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় লাইব্রেরি শামেলা। হাদিস, তাফসির, আকস্ফিদাসহ পুরাতন-নতুন হাজার হাজার বইয়ের সমাহার এখানে। যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই পাওয়া যাবে শামেলা থেকে। কোনো আলেমের কাছে এই লাইব্রেরি না থাকার অর্থ হচ্ছে তিনি অনেক কিছু মিস করছেন এবং পিছিয়ে পড়ছেন।
উইকিপিডিয়ায় তথ্য আপলোড :
উইকিপিডিয়া হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক ফ্রি ইনসাইক্লোপেডিয়া বা বিশ্বকোষ। উইকিপিডিয়ায় ৪,১৩৮,৮২২টি ইংরেজি আর্টিকেল রয়েছে এই বিশ্বকোষের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে বসে যে কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপলোড করতে পারে। ২৮৫টি ভাষায় এখানে তথ্য সংযোজন করা যায়। দুনিয়ার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনীসহ অনেক বিষয়ের তথ্য পাওয়া যায় এখানে। এই সাইটে আমরা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তথা দাঈ ভাইদের জীবন ও কর্ম সংযোজন করতে পারি। ইসলামের বিভিন্ন নিদর্শন ও ঐতিহ্যকেও আমরা এই সাইটের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি।
ইউটিউবের ব্যবহার :
ইউটিউব হতে পারে দাওয়াতি কাজের উর্বর ক্ষেত্র। এটি একটি ওয়েব পেইজ, যেখানে আপনি অডিও-ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন। বিনা পয়সায় ইচ্ছেমত ভিডিও আপলোড করা যায় এখানে। একজন দাঈ হিসেবে আপনার ওয়াজ, আলোচনা, কবিতা, গান, ইসলামী সঙ্গীত কিংবা অন্য যে কোনো ভিডিও (যা মুসলিম উম্মাহর কাজে আসে) ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন গোটা বিশ্বে। ইসলামের শত্রুরা এখানে হাজার হাজার অডিও-ভিডিও আপলোড করে ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। আপনি থেমে থাকবেন কেন? আপনার কাছে কিংবা মোবাইলে থাকা প্রিয় কোনো আলেমে দ্বীনের আলোচনা কিংবা ইসলামী যে কোনো প্রোগ্রাম আজই আপলোড করুন ইউটিউবে।
পরিশেষে বলব, ইসলামের জন্য এই শতাব্দীর বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মিডিয়া। আর গোটা মিডিয়াই এখন ইন্টারনেটনির্ভর। ইসলামের প্রচারকগণ যদি এই ময়দানে এগিয়ে না আসেন তাহলে এ যুগে ইসলামকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া কঠিন হবে। প্রতিদিন ইসলামের বিরুদ্ধে যে নানামুখী অপপ্রচার চলে তার জবাব আপনাকে আমাকে সুন্দরভাবে দিতে হবে। যুবসমাজের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য, তাহযীব, তমদ্দুন, কৃষ্টি-কালচার ও সভ্যতাকে তুলে ধরতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য তোমরা যথাসাধ্য শক্তি সামর্থ্য সঞ্চয় কর’ -
সূরা আল আনফাল : ৬০।
দ্বীনের সকল দাঈ, আলেম ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহন করে তা যদি দাওয়াতী কাজে ব্যবহার করা যায় তাহলে অতি সহজে বিশ্বের ঘরে ঘরে শান্তির ধর্ম ইসলাম পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
এসব ব্যবহারে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী হতে হবে তাই ইলমে দ্বীন শিক্ষার পাশা পাশি ছাত্রদের মাতৃভাষা ও আন্তর্জাতিক ভাষায় সুদক্ষতা অর্জন করতে হবে।
ভাষা ব্যতিত যে যত বড়ই আলেম হোক না কেন ইলমের বিকাশ সম্ভব নয়!
মুসলিম জিন্দেগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মানুষদের আল্লাহর পথে আহ্বান করা, যাকে আমরা দাওয়াত বা তাবলিগ বলে থাকি। প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হচ্ছে, সাধ্য অনুযায়ী ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য গণমানুষের কাছে তুলে ধরা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা মানুষদের কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং অন্যায় কাজে বারণ করবে’ (সূরা আল ইমরান-১০৪)।
নবী (সা.) বলেন, ‘আমার থেকে একটি কথা হলেও গণমানুষের কাছে পৌঁছে দাও’। যুগে যুগে সব নবী-রাসুলের একমাত্র কাজই ছিল আল্লাহর জমিনে ইসলাম কায়েম করা। আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে নবী-রাসুলগণ সম্ভাব্য সব উপায় অবলম্বন করেছেন। পবিত্র কোরআনে নূহের বরাতে আল্লাহ বলেন : ‘হে আমার রব! আমি আমার জাতিকে রাত-দিন সব সময় (বিভিন্ন উপায়ে আল্লাহর পথে) দাওয়াত দিয়েছি’ (সূরা নূহ: ০৫)। এই আধুনিক যুগে আমাদেরও কর্তব্য হচ্ছে দাওয়াতি কাজে সম্ভাব্য সব উপায় অবলম্বন করা।
এই সময়ে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি হচ্ছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের ওপর গোটা দুনিয়া এখন ভর করে আছে। ব্যাংক, বীমা, অফিস, আদালত, স্থলপথ, আকাশ পথ, সামরিক ব্যবস্থা, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সবকিছুই এখন ইন্টারনেট নির্ভর। ইন্টারনেটের প্রধান কাজ হচ্ছে, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন। দাওয়াত ও তাবলিগি কার্যক্রমের জন্য ইন্টারনেট অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। দাঈ ইসলাম তথা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীরা একে ব্যবহার করে ইসলামকে সহজেই বিশ্বের সব প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারেন। এখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাওয়াতের কিছু প্রসঙ্গ উপলক্ষ তুলে ধরা হলো।
ব্লগিং :
ব্লগ শব্দটি ইংরেজি। ইষড়ম-এর বাংলা প্রতিশব্দ। এটি এক ধরনের অনলাইন ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা। যিনি ব্লগে পোস্ট করেন তাকে ব্লগার বলা হয়। বর্তমান সময়ে দাওয়াতি কাজের সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম হতে পারে ব্লগিং। এখানে নিজের মতামতকে সহজেই উপস্থাপন করা যায়। কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, হাদিস-কোরআনের তাফসির কিংবা যে কোনো ধরনের আলোচনা অনায়াসেই প্রকাশ করা যায় ব্লগে। ব্লগ সাইটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, যে কোনো মতামত যখন তখন প্রকাশ করা যায় এখানে। কোনো সম্পাদক লেখাগুলো এডিট করে না। আবার কেউ কোনো লেখা দিলে সেই লেখার ওপর যে কোনো মন্তব্য করারও সুযোগ আছে। পেপার-পত্রিকায় সবাই লেখালেখির সুযোগ পান না। কিংবা সব লেখা পত্রিকা কর্তৃপক্ষও ছাপায় না। ব্লগে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা যায়। এর মাধ্যমে ব্লগের পাঠকদের মধ্যে দাওয়াতি কাজ করা যায়। একটি লেখার ওপর একাধিক মন্তব্য এলে লেখক ও পাঠকের জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়তে পারে। পক্ষ-বিপক্ষ দলের মধ্যে যুক্তি-তর্কের লড়াইও জমে এখানে। আমাদের দেশের আলেমরা ব্লগিং করার অভ্যাস গড়তে পারেন। এতে দাওয়াতি কাজও হবে এবং নিজের কলমও মেরামত হবে।
যে কোনো একটি ব্লগ সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে এখনই নেমে পড়ুন ইসলামের সুমহান আদর্শকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজে।
ব্লগিং করতে যা দরকার :
১. আপনার কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন।
২. একটা ইমেইল আইডি।
৩. নির্দিষ্ট ব্লগ সাইটে আপনার একটা ব্লগ অ্যাকাউন্ট। ৪. আপনার কম্পিউটারে বাংলা টাইপিংয়ের যে কোনো সফটওয়ার ইন্সটল থাকতে হবে।
৫. ব্লগ সাইটের কিছু শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং ব্লগের নীতিমালাগুলো জানতে হবে।
ইন্টারনেট ম্যাগাজিন :
সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ম্যাগাজিন যদি ইন্টারনেটভিত্তিক হয় তখন তাকে আমরা ইন্টারনেট ম্যাগাজিন বা অনলাইন ম্যাগাজিন বলতে পারি। সাধারণ ম্যাগাজিন আর অনলাইন ম্যাগাজিনের পার্থক্য হচ্ছে, সাধারণ ম্যাগাজিন প্রেসে ছাপা হয় আর অনলাইন ম্যাগাজিন ওয়েব পেইজে প্রকাশিত হয়। আর সবকিছুই এক। আপনি আপনার যে কোনো সুন্দর লেখা অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশ করতে পারেন। সম্পাদকরা এটি প্রকাশের যোগ্য হলে প্রকাশ করবে, না হয় করবে না। এখানে ব্লগের মতো ইচ্ছেমত লেখা যায় না। যে ম্যাগাজিনে আপনি লেখা প্রকাশ করবেন সেই ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশের নীতিমালা জেনে নিন।
ফেসবুক :
বর্তমানে ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন ফেসবুকের সদস্য। ফেসবুকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি ওপেন। এখানে আপনি সবার সঙ্গে আপনার ছবি, মন্তব্য, ভিডিও শেয়ার করতে পারেন। আপনার শেয়ারকৃত যে কোনো বিষয় বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ দেখতে পারবে। এখানে কোনো এডিটর নেই। আপনি যাই আপলোড করবেন তাই সেখানে প্রকাশিত হবে। একজন দাঈ ইসলাম হিসেবে আপনি কোরআন হাদিসের বাণী, মনীষীর বাণী কিংবা জনমত গঠনে যে কোনো আহ্বান ফেসবুকের মাধ্যমে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। মিসরের সাম্প্রতিক বিপ্লব ও আরব বসন্তের পেছনে ফেসবুক ও টুইটার বিশাল অবদান রেখেছে। ফেসবুকে আপনি ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী সঙ্গীতসহ যে কোনো বিষয় আপলোড করে গণমানুষকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে পারেন।
ইন্টারনেটভিত্তিক লাইব্রেরি :
দাওয়াহ কার্যক্রমের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক লাইব্রেরি হতে পারে আদর্শ স্থান। আদর্শ ও সুশিক্ষিত জাতি গড়তে লাইব্রেরির কোনো বিকল্প নেই। লাইব্রেরি মানুষের চিন্তা, চেতনাকে পাল্টে ফেলতে পারে। তথ্য খোঁজার জন্য মানুষের এখন আর অত সময় নেই। তাই তারা দিন দিন ডিজিটাল লাইব্রেরির দিকে ঝুঁকছে। কেননা ডিজিটাল লাইব্রেরিতে তথ্য খুঁজতে সময়, শ্রম ও অর্থ কোনোটাই নাই বললেই চলে। অনলাইনে কয়েক হাজার কোটি টাকার বই পাওয়া যায় ফ্রি। অতএব দাঈগণ এ বিষয়ে নজর দিতে পারেন। আমরা যদি বেশি ইসলামী লাইব্রেরি উপহার দিতে পারি তাহলে পাঠকের মধ্যে ইসলামী ভাবধারা গড়ে উঠবে। আরবি ভাষায় বেশকিছু অনলাইনভিত্তিক ইসলামী লাইব্রেরি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশের আলেমগণ ওইসব লাইব্রেরি থেকে ফায়দা নিতে পারেন। এখানে কয়েকটি অনলাইন লাইব্রেরির ঠিকানা দেয়া হলো : ‘আল মাকতাবাতুশ শামেলা’। এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় লাইব্রেরি শামেলা। হাদিস, তাফসির, আকস্ফিদাসহ পুরাতন-নতুন হাজার হাজার বইয়ের সমাহার এখানে। যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই পাওয়া যাবে শামেলা থেকে। কোনো আলেমের কাছে এই লাইব্রেরি না থাকার অর্থ হচ্ছে তিনি অনেক কিছু মিস করছেন এবং পিছিয়ে পড়ছেন।
উইকিপিডিয়ায় তথ্য আপলোড :
উইকিপিডিয়া হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক ফ্রি ইনসাইক্লোপেডিয়া বা বিশ্বকোষ। উইকিপিডিয়ায় ৪,১৩৮,৮২২টি ইংরেজি আর্টিকেল রয়েছে এই বিশ্বকোষের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে বসে যে কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপলোড করতে পারে। ২৮৫টি ভাষায় এখানে তথ্য সংযোজন করা যায়। দুনিয়ার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনীসহ অনেক বিষয়ের তথ্য পাওয়া যায় এখানে। এই সাইটে আমরা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তথা দাঈ ভাইদের জীবন ও কর্ম সংযোজন করতে পারি। ইসলামের বিভিন্ন নিদর্শন ও ঐতিহ্যকেও আমরা এই সাইটের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি।
ইউটিউবের ব্যবহার :
ইউটিউব হতে পারে দাওয়াতি কাজের উর্বর ক্ষেত্র। এটি একটি ওয়েব পেইজ, যেখানে আপনি অডিও-ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন। বিনা পয়সায় ইচ্ছেমত ভিডিও আপলোড করা যায় এখানে। একজন দাঈ হিসেবে আপনার ওয়াজ, আলোচনা, কবিতা, গান, ইসলামী সঙ্গীত কিংবা অন্য যে কোনো ভিডিও (যা মুসলিম উম্মাহর কাজে আসে) ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন গোটা বিশ্বে। ইসলামের শত্রুরা এখানে হাজার হাজার অডিও-ভিডিও আপলোড করে ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। আপনি থেমে থাকবেন কেন? আপনার কাছে কিংবা মোবাইলে থাকা প্রিয় কোনো আলেমে দ্বীনের আলোচনা কিংবা ইসলামী যে কোনো প্রোগ্রাম আজই আপলোড করুন ইউটিউবে।
পরিশেষে বলব, ইসলামের জন্য এই শতাব্দীর বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মিডিয়া। আর গোটা মিডিয়াই এখন ইন্টারনেটনির্ভর। ইসলামের প্রচারকগণ যদি এই ময়দানে এগিয়ে না আসেন তাহলে এ যুগে ইসলামকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া কঠিন হবে। প্রতিদিন ইসলামের বিরুদ্ধে যে নানামুখী অপপ্রচার চলে তার জবাব আপনাকে আমাকে সুন্দরভাবে দিতে হবে। যুবসমাজের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য, তাহযীব, তমদ্দুন, কৃষ্টি-কালচার ও সভ্যতাকে তুলে ধরতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য তোমরা যথাসাধ্য শক্তি সামর্থ্য সঞ্চয় কর’ -
সূরা আল আনফাল : ৬০।
zajakallah
উত্তরমুছুনzajakallah
উত্তরমুছুনঅাল্লাহ অাপনার সহায় হোন।শুভ কামনা থাকল অাপনার জন্য।
উত্তরমুছুন