রোগী দেখার ফযীলত
- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী
রোগী দেখার ফজীলত এবং দেশে প্রচলিত রোগীর জন্য শেফার দোয়ার বিনিময়ে ধর্ম ব্যবসা!
কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য দোয়া করা তার খোজ খবর নেয়া তাকে দেখতে যাওয়া ও সেবা যত্ন করা মানবিক দায়িত্ব ও অনেক বড় ইবাদাতের কাজ।
অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর কাছে দ্রুত কবুল হয়। এ জন্য যে রোগীর সেবা শুশ্রষা করে তার জন্য রোগীর মুখ থেকে না আসলে ও অন্তর থেকে দোয়া আসে। আল্লাহ অন্তর্জামী, রোগীর অন্তরের দোয়াও তিনি দ্রুত কবুল করে নেন।
রোগীর সেবা করাকে আল্লাহ তায়ালা তার নিজের গুণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হাশরের দিন তিনি বান্দাকে বলবেন,
আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করনি। অর্থাৎ কেউ কোন রোগাক্রান্ত বান্দার সেবা-শুশ্রুষা করলেই সেই সেবা আল্লাহ পান।
অর্থাৎ এর প্রতিদান আল্লাহর বান্দাকে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এক মুসলমান অপর মুসলমানের ওপর যে কয়েকটি অধিকার রাখেন এর অন্যতম হলো অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া।
রোগী দেখা এবং তার খোঁজখবর নেয়া রাসুল সঃ এর সুন্নত।
একান্ত মানবিক তাগিদ থেকেও কেউ কোনো রোগীর সেবা-শুশ্রষা বা খবরাখবর রাখলে এর বিনিময় আল্লাহ দান করবেন।
রাসুল (সা.) বলেন,
"এক মুসলমান অসুস্থ হলে অপর মুসলমান যখন তাকে দেখতে যায়, তখন যতক্ষণ পর্যন্ত সে সেখানে অবস্থান করে ততক্ষণ সে জান্নাতের বাগিচায় অবস্থান করে।"
অন্য হাদিসে আছে,
"কোনো মুসলমান অন্য কোন অসুস্থ মুসলমানকে দিনে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সুর্য ডুবা পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে, আর কেউ রাত্রে রোগী দেখতে গেলে তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেস্তা সকাল পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে"।
রোগী দেখতে গেলে রোগীকে খুশী করতে কিছু হাদীয়া নেয়া সুন্নাত, রোগীর কাছে এতো বেশি সময় অপেক্ষা করা যাবে না যাতে রোগী বিরক্তিবোধ করে। রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে; তার মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করতে হবে।
রাসুল (সা.) রোগীর পার্শ্বে বসে এই দোয়াটি সাত বার পড়তেন,,,,
لاَ بأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفيَكَ...
এবং তিনি রোগীর মনোবল বাড়াতে বলতেন-
ইনশাআল্লাহ আপনি শিগগির ভালো হয়ে যাবেন। অসুস্থতার কারণে গোনাহ মাফ হয়ে যায় ইত্যাদী বলে।
শেফার দাওয়াত বা মিলাদ!
আজ আমরা রাসুলের এই শিক্ষা কে ভূলে গিয়ে রোগীর সেবা করা কে নিজেদের ব্যবসায় পরিনত করেছি, ঔষধ কিনতে যেমন পয়সা লাগে আবার কারো কাছে রোগীর জন্য দোয়া চায়লেও পয়সা লাগে!
পয়সা ছাড়া দোয়া করতেও রাজি নয় কিছু কিছু আলেম! যেখানে পকেটের পয়সা খরছ করে হাদীয়া নিয়ে অসুস্হ মুসলিম ভাইকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল সেখানে দলবদ্ধ ভাবে কতিপয় আলেম রোগীর বাড়ীতে গিয়ে মিলাদ, দোয়া মাহফিল বা "শেফার দাওয়াত" এর নামে কিছু দোয়া দরুদ পড়ে মোনাজাত করে রোগীর কাছ থেকে পেট ও পকেট দু'টুই ভরে নিয়ে যায়!
যা মরার উপর খাড়ার ঘা"।
এটাই কি রাসুলের শিক্ষা? সাহাবায়ে কিরামগন কি রোগী বাড়ীতে গিয়ে এসব কাজ করে রোজগার করতেন?
এটাই কি সুন্নাতে রাসুল?
আফসোস!
আজ আমরা রাসুল সঃ এর আদর্শ হতে কতইনা দূরে সরে গেছি, অথচ আল্লাহর রাসুল সঃ অসুষ্হ সাহাবাদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে খোজ খবর নিতেন, দোয়া করতেন, এবং সকল কে রোগীদের সেবা করার জন্য উদ্ভূদ্ধ করতেন।
আল্লাহ আমাদের সকল কে সকল প্রকার বিদআত ছেড়ে সুন্নাহ মতো জীবন গড়ার তৌফীক দান করুন- আমিন।
রোগী দেখার ফজীলত এবং দেশে প্রচলিত রোগীর জন্য শেফার দোয়ার বিনিময়ে ধর্ম ব্যবসা!
কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য দোয়া করা তার খোজ খবর নেয়া তাকে দেখতে যাওয়া ও সেবা যত্ন করা মানবিক দায়িত্ব ও অনেক বড় ইবাদাতের কাজ।
অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর কাছে দ্রুত কবুল হয়। এ জন্য যে রোগীর সেবা শুশ্রষা করে তার জন্য রোগীর মুখ থেকে না আসলে ও অন্তর থেকে দোয়া আসে। আল্লাহ অন্তর্জামী, রোগীর অন্তরের দোয়াও তিনি দ্রুত কবুল করে নেন।
রোগীর সেবা করাকে আল্লাহ তায়ালা তার নিজের গুণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হাশরের দিন তিনি বান্দাকে বলবেন,
আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করনি। অর্থাৎ কেউ কোন রোগাক্রান্ত বান্দার সেবা-শুশ্রুষা করলেই সেই সেবা আল্লাহ পান।
অর্থাৎ এর প্রতিদান আল্লাহর বান্দাকে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এক মুসলমান অপর মুসলমানের ওপর যে কয়েকটি অধিকার রাখেন এর অন্যতম হলো অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া।
রোগী দেখা এবং তার খোঁজখবর নেয়া রাসুল সঃ এর সুন্নত।
একান্ত মানবিক তাগিদ থেকেও কেউ কোনো রোগীর সেবা-শুশ্রষা বা খবরাখবর রাখলে এর বিনিময় আল্লাহ দান করবেন।
রাসুল (সা.) বলেন,
"এক মুসলমান অসুস্থ হলে অপর মুসলমান যখন তাকে দেখতে যায়, তখন যতক্ষণ পর্যন্ত সে সেখানে অবস্থান করে ততক্ষণ সে জান্নাতের বাগিচায় অবস্থান করে।"
অন্য হাদিসে আছে,
"কোনো মুসলমান অন্য কোন অসুস্থ মুসলমানকে দিনে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সুর্য ডুবা পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে, আর কেউ রাত্রে রোগী দেখতে গেলে তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেস্তা সকাল পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে"।
রোগী দেখতে গেলে রোগীকে খুশী করতে কিছু হাদীয়া নেয়া সুন্নাত, রোগীর কাছে এতো বেশি সময় অপেক্ষা করা যাবে না যাতে রোগী বিরক্তিবোধ করে। রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে; তার মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করতে হবে।
রাসুল (সা.) রোগীর পার্শ্বে বসে এই দোয়াটি সাত বার পড়তেন,,,,
لاَ بأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفيَكَ...
এবং তিনি রোগীর মনোবল বাড়াতে বলতেন-
ইনশাআল্লাহ আপনি শিগগির ভালো হয়ে যাবেন। অসুস্থতার কারণে গোনাহ মাফ হয়ে যায় ইত্যাদী বলে।
শেফার দাওয়াত বা মিলাদ!
আজ আমরা রাসুলের এই শিক্ষা কে ভূলে গিয়ে রোগীর সেবা করা কে নিজেদের ব্যবসায় পরিনত করেছি, ঔষধ কিনতে যেমন পয়সা লাগে আবার কারো কাছে রোগীর জন্য দোয়া চায়লেও পয়সা লাগে!
পয়সা ছাড়া দোয়া করতেও রাজি নয় কিছু কিছু আলেম! যেখানে পকেটের পয়সা খরছ করে হাদীয়া নিয়ে অসুস্হ মুসলিম ভাইকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল সেখানে দলবদ্ধ ভাবে কতিপয় আলেম রোগীর বাড়ীতে গিয়ে মিলাদ, দোয়া মাহফিল বা "শেফার দাওয়াত" এর নামে কিছু দোয়া দরুদ পড়ে মোনাজাত করে রোগীর কাছ থেকে পেট ও পকেট দু'টুই ভরে নিয়ে যায়!
যা মরার উপর খাড়ার ঘা"।
এটাই কি রাসুলের শিক্ষা? সাহাবায়ে কিরামগন কি রোগী বাড়ীতে গিয়ে এসব কাজ করে রোজগার করতেন?
এটাই কি সুন্নাতে রাসুল?
আফসোস!
আজ আমরা রাসুল সঃ এর আদর্শ হতে কতইনা দূরে সরে গেছি, অথচ আল্লাহর রাসুল সঃ অসুষ্হ সাহাবাদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে খোজ খবর নিতেন, দোয়া করতেন, এবং সকল কে রোগীদের সেবা করার জন্য উদ্ভূদ্ধ করতেন।
আল্লাহ আমাদের সকল কে সকল প্রকার বিদআত ছেড়ে সুন্নাহ মতো জীবন গড়ার তৌফীক দান করুন- আমিন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন