ভ্যালেন্টাইন ডে ও গুনেধরা মুসলিম যুব সমাজ!
- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী
১৪ ই ফেব্রুয়ারী “বিশ্ব ভালবাসা দিবস” বা ভ্যালেন্টাইনস ডে” যা সারা বিশ্বে পরিচিত একটি দিবস, যে দিবস সম্পর্কে অনেকেরই ধারনা নেই।একজন ভালোবাসা প্রেমী ও সচেতন মুসলিম তরুন তরুনী হিসাবে ”ভ্যালেন্টাইনস ডে” ও তার পিছনের লোকানো ইতিহাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকা খুবই দরকার।
ইতিহাসঃ
২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন'স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল।
বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন'স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন' দিবস ঘোষণা করেন। খৃষ্টানজগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্মরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের অনেক দিবস রয়েছে। যেমন: ২৩ এপ্রিল - সেন্ট জজ ডে, ১১ নভেম্বর - সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪ আগস্ট - সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১ নভেম্বর - আল সেইন্টম ডে, ৩০ নভেম্বর - সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ মার্চ - সেন্ট পযাট্রিক ডে।
পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্মদিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা কসুর করে না। খৃস্টীয় এই ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেইটাইন উৎসব নিষিদ্ধ হয়।
ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন উৎসব পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন করা থেকে বিরত থাকার জন্যে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়।
আরবে এদিবসটি নিষিদ্ধ!
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম আরব দেশগুলোতে দিবসটি পালন নিষিদ্ধ এবং এই বিধর্মী দিবসটিকে কঠোর ঘৃনার নজরে দেখা হয়, আরবীয় তরুন তরুনীদের কখনো এই নিয়ে মাতামাতি করতে দেখা যায়না, এই দিনে সৌদী আরবে "মতোয়্যা"রা (এক ধরনের সরকারী আলেম ফোর্স) প্রতিটি শহরে টহল দিতে দেখা যায় এবং গিফ্ট ও ফুলের দোকানে নজরদারী করেন, কোন দোকানে লাল রংয়ের ভালবাসার কিছু ফেলে ওরা জব্দ করে নিয়ে যান।
খৃষ্টান দেশ সমুহে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করতে, এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।
কোন মুসলিমের জন্য বিজাতীদের অনুস্বরন করা বা তাদের কালচার গ্রহন করা জায়েজ নেই-
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ
"এবং যে কেউই ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন-ব্যবস্থা আকাঙ্খা করবে, তা কখনোই তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না, এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ৷” (সূরা আলে ইমরান, ৩:৮৫)
এবং নবী(সা.) বলেছেন, এই উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক বিভিন্ন ইবাদতের প্রক্রিয়া ও সামাজিক রীতিনীতির ক্ষেত্রে আল্লাহর শত্রুদের অনুসরণ করবে ৷ আবু সাঈদ আল খুদরী(রা.) বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ(সা.) বলেন:
"তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণে লিপ্ত হয়ে পড়বে, প্রতিটি বিঘৎ, প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্যে [তাদের তোমরা অনুসরণ করবে], এমনকি তারা সরীসৃপের গর্তে প্রবেশ করলে, তোমরা সেখানেও তাদেরকে অনুসরণ করবে ৷” আমরা বললাম, "হে রাসূলুল্লাহ ! তারা কি ইহুদী ও খ্রীস্টান?” তিনি বললেন: "এছাড়া আর কে?” (বুখারী, মুসলিম)
আজ মুসলিম বিশ্বের বহু স্থানে ঠিক এটাই ঘটছে, মুসলিমরা তাদের চালচলন, রীতিনীতি এবং উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে ইহুদী ও খ্রীস্টানদের অনুসরণ করছে ৷ টিভি, পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন, স্যাটেলাইট চ্যানেল, ইন্টারনেটের মত মিডিয়ার প্রচারে অবিশ্বাসীদের অনুসৃত সমস্ত বিজাতীয় রীতিনীতি আজ মুসলিমদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচেছ এবং এর অনুসরণ ও অনুকরণ সহজতর হয়ে উঠেছে ৷
মুসলিম সমাজে প্রচলিত বহু অপসংস্কৃতির মধ্যে "ভ্যালেন্টাইন’স ডে” অন্যতম যা "ভালবাসা দিবস” নামে বাঙালী মুসলিম সমাজের যুবক-যুবতীদের মাঝে ঢুকে পড়েছে এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এ দিবসটি পৃষ্ঠপোষকতা করে মুসলিম যুব সমাজ কে পাপাচার ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আজকের নিবন্ধের উদ্দেশ্য আমাদের যুবসম্প্রদায়কে জাহান্নামের পথ থেকে ফিরিয়ে জান্নাতের প্রশান্তির দিকে আহবান করা, মুসলিমের ভালবাসা কোন নির্দৃষ্ট দিনে নয়, তারা ভালবাসবে আল্লাহ ও তার রাসুল সাঃ কে, তারা ভালবাসবে মা বাবা ও পরিবার পরিজন কে প্রতিদিন প্রতি ক্ষণে।
মনে রাখতে হবে "যে যে জাতির বেশ ধরবে তাকে ঐ জাতি বলে গন্য করা হবে এবং তার হাঁসর হবে ঐ জাতির সঙ্গে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সমাজ কে এসব বেহায়া বিধর্মী কালচার হতে হেফাযত করুন- আমিন।
শেয়ার করুন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন