পীর বাবা ও মাজারের নামে মানত!

- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী
দরগাহ ও পীরের নামে মানতঃ

আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে অর্থাৎ পীর-ফকীর, ওলী-আওলিয়ার নামে বা মাযারের নামে মানৎ করা ও মানতের টাকা তাদের দানবাক্সে বা মসজিদে দেয়া হারাম, আল্লাহর নামে মানত করলে তা কোন বিপদগ্রস্হ গরীব মিসকিন বা এতিম যারা জাকাতের উপযুক্ত তাদের কেই প্রদান করবে।

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা যাবেনা কারন নযর বা মানৎ একটি ইবাদাত আর সকল প্রকার ইবাদাত কেবলমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত; কোনো নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম বা পীর-ফকীর, ওলী-আওলিয়া অথবা মাযারে নযর বা মান্নত করা যাবে না, করলে তা শিরকী কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য যে, আল্লাহর নামে নযর বা মান্নত করলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿ إِذۡ قَالَتِ ٱمۡرَأَتُ عِمۡرَٰنَ رَبِّ إِنِّي نَذَرۡتُ لَكَ مَا فِي بَطۡنِي مُحَرَّرٗا فَتَقَبَّلۡ مِنِّيٓۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ٣٥﴾ [ال عمران: ٣٥] ‘‘

(ইমরানের স্ত্রী বিবি হান্নাহ) আল্লাহকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হে আমার রব! আমার পেটে যে সন্তান আছে তা আমি কুক্ত করে আপনার উদ্দেশ্যে মান্নত করেছি।” [সূরা আল-‘ইমরান ৩:৩৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:

 ﴿ يُوفُونَ بِٱلنَّذۡرِ وَيَخَافُونَ يَوۡمٗا كَانَ شَرُّهُۥ مُسۡتَطِيرٗا ٧ ﴾ [الانسان: ٧]

 “তারা যেন মান্নত পূর্ণ করে এবং সেদিনের ভয় করে যেদিনের বিপর্যয় অত্যন্ত ব্যাপক।” [সূরা আদ্-দাহর ৭৬:৭]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের কাজে মান্নত করে সে যেন তা পূর্ণ করার মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য প্রকাশ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজে মান্নত করে সে যেন তাঁর নাফরমানী না করে- (অর্থাৎ মান্নত যেন আদায় না করে)।”
(বুখারী ৬৬৯৬, ৬৭০০; আবু দাঊদ ৩২৮৯)

আল্লাহ ব্যতীত গাইরুল্লাহ বা অন্যের নামে মান্নত করার অর্থ হলো, গাইরুল্লাহরই ইবাদাত করা যা বড় শিরক বলে গণ্য হবে।

কবর বা মাযারে গিয়ে কবরবাসীর কাছে কিছু প্রার্থনা করাঃ

কবরে বা মাযারে গিয়ে কিছু প্রার্থনা করা শির্ক। কারণ, কবরবাসীর কোনোই ক্ষমতা নেই যে, সে কারো কোনো উপকার করবে। বরং দুনিয়ার কোনো আহ্বানই সে শুনতে পায় না। আল্লাহ বলেন:

﴿ فَإِنَّكَ لَا تُسۡمِعُ ٱلۡمَوۡتَىٰ﴾ [الروم: ٥٢]

(হে নবী!) নিশ্চয়ই আপনি মৃতকে শুনাতে পারবেন না।”[সূরা আর-রূম ৩০:৫২]

 কবরমুখী হয়ে অথবা কবরের পাশে সালাত আদায় করা:
মাজারে প্রবেশ করে কবর মুখি হয়ে অথবা কবরকে কেন্দ্র করে তার পার্শ্বে সালাত আদায় করা শির্ক এবং তা কখনোই আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
 «ولا تصلوا إلى القبور»
 “তোমরা কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে না।”
(সহীহ মুসলিম হা: ৯৮).

বাংলাদেশে ওলী-আওলিয়াদের কবরকে কেন্দ্র করে অনেক মসজিদে নির্মিত হয়েছে। ঐ সকল কবরকেন্দ্রীক মসজিদে সালাত আদায় করলে তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্বমুহুর্তে বলেছেন: “ইয়াহূদী নাসারাদের উপর আল্লাহ অভিসম্পাত। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে।
(বুখারী-৩৪৫৩, ১৩৯০; মুসলিম- ৫২৯)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কবর যিয়ারতকারী মহিলাদেরকে এবং যারা কবরকে মসজিদে পরিণত করে, আর তাতে বাতি জ্বালায়, তাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন। (আবু দাউদ ৩২৩৬; তিরমিযী-৩২; নাসায়ী-২০৪)

অন্যন্য দলীল প্রমাণ একত্রিত করলে মহিলাদের কবর যিয়ারতের বিষয় দাঁড়ায় নিম্নরূপ:

১. যদি মহিলাদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য হয়, মৃত্যুর কথা ও আখিরাতের কথা স্মরণ করা এবং যাবতীয় হারাম কর্ম থেকে বিরত থাকা তাহলে শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ।

২. দিন তারিখ নির্দৃষ্ট করে যেমন-প্রতি ঈদে, প্রতি সোমবার, প্রতি শুক্রবার যিয়ারত করা বিদ‘আত। সেখানে গিয়ে তারা বিলাপ করবে, উঁচু আওয়াজে কান্না-কাটি করবে, পর্দার খেলাফ কাজ করবে, সুগন্ধি বা সুগন্ধযুক্ত কসমেটিক ব্যবহার করে বেপর্দা বেশে কবর যিয়ারত হারাম। শিরক-বিদ‘আতে জড়িয়ে পড়বে, অক্ষম, অসহায়, অপারগ মৃত কথিত অলী-আওলিয়াদের কাছে বিপদ মুক্তি চাইলে। মনের কামনা-বাসনা পূরণ করণার্থে চাইবে তাহলে তাদের জন্য কবর যিয়ারত হারাম। দলীলসহ বিস্তারিত দেখুন সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৬৬৮-৬৬৯ পৃষ্ঠা

মাজার বা পীরের নিকট সন্তান কামনা করাঃ

সন্তান দেওয়া না দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এতে অন্য কারোও কোনো ক্ষমতা নেই। সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে কোনো পীর-ফকীর, দরবেশ, ওলী-আওলিয়া বা মাযারে গিয়ে আবেদন নিবেদন করা, নযর মানা ইত্যাদি শির্কের অন্তর্ভুক্ত; যা (ক্ষমা না চাইলে) সাধারণ ক্ষমার অযোগ্য পাপ। সন্তান দানের মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা। আল-কুরআন সাক্ষ্য দিচ্ছে:

﴿يَهَبُ لِمَن يَشَآءُ إِنَٰثٗا وَيَهَبُ لِمَن يَشَآءُ ٱلذُّكُورَ ٤٩ أَوۡ يُزَوِّجُهُمۡ ذُكۡرَانٗا وَإِنَٰثٗاۖ وَيَجۡعَلُ مَن يَشَآءُ عَقِيمًاۚ﴾ [الشورا: ٤٩، ٥٠]

‘‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন অথবা ছেলে-মেয়ে উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছে বন্ধ্যা করেন।” [সূরা আশ্শূরা ৪২:৫০]

তাই নবী-রাসূলগণ যেমন; জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও যাকারিয়া আলাইহিস সালাম একমাত্র আল্লাহর কাছেই সন্তানের প্রার্থনা করেছেন" রাব্বী লা তাযারনী ফারদাও ওয়াআনতা খয়রুল ওয়ারিছীন" আর সুদীর্ঘ দিন পর তাদেরকে আল্লাহ সন্তান দান করেন। সন্তান না হলে সুদীর্ঘকাল যাবৎ নবীগণ আল্লাহর কাছে চান, আর উম্মাতগণ মাজার দরগাহ ও পীর-ফকীর তথাকথিত মানুষের কাছে চায়। এরা কি আল্লাহর হকুম ও নবীগণের আদর্শ থেকে বিচ্যুত নয়?

হে আল্লাহ, আমাদের কে এসব কুফরি ও শির্ক হতে হেফাযত করে তোমার একত্ত্ববাদের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন- আমিন।

শেয়ার করে প্রত্যহ দ্বীনী ভাই বোনদের নিকট পৌঁছে দিন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ও রেজাল্ট বাংলা ভাষায় করা হোক!

কওমী মাদ্রাসা সনদ স্বীকৃতি প্রসঙ্গঃ

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (ইত্তেহাদুল মাদারিস) মারকাজী পরীক্ষা-২০১৯ এর ফল প্রকাশ!