শাইখুল হাদীস আল্লামা ইসহাক সাহেবের ইন্তেকাল!
ছাঈদ কোদালাভী ---
...স্মৃতিতে খোঁজি তোমায় হে আলোর দিশারী
!অল্প সময়ে রেখোছো তুমি শত বছরের অবদান
..প্রিয়"কোদালা হুজুর" আমাদের মাঝে আর নেই
রাঙ্গুনীয়া সরফভাটা জামেয়া মেহেরিয়া'র নির্বাহী মোহতামিম শাইখুল হাদীস আল্লামা ইসহাক নুর (রহঃ) আজ মহান আল্লাহ তাআলার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন পরপারে ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাযিউন।
স্মৃতিতে খোঁজি তোমায় হে আলোর দিশারী!!!
হুজুরের নিকট কোদালা মাদ্রাসায় জামাআতে নাহুম হতে মিশকাত পর্যন্ত ৯ বছরের শিক্ষা সময়ে আমাকে বলা "অপুত শব্দটা" এখনো আমার কানে ভাসে,,ক্লাসে সবার ছোট এবং দুষ্ট ছিলাম বলে জামাতে নাহুম ও হাস্তুম দু'বছর আমাকে ও বন্ধু মাওঃ জুনাঈদ (শুলকবহর মাদ্রাসার শিক্ষক) কে ক্লাসের তিনদিকের টেবিল গুলোর ভেতরে অর্থাৎ হুজুরের সামনে মুখোমুখি করে বসাতেন যেন ক্লাসে বসে দুষ্টুমী করতে নাপারি, হুজুরকে আমি অনেক ভয় করতাম।
হুজুর ১৯৮৮ সালে টেকনাফ মাদ্রাসা হতে বদলি হয়ে নিজ এলাকা কোদালা আজিজিয়া মাদ্রাসার খিদমতে যোগ দেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি নাযেমে দারুত
তুলবাহ ও শিক্ষা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
তুলবাহ ও শিক্ষা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তিতে হাটহাজারী মাদ্রাসার মোহতামিম সাহেবের নির্দেশে সরফভাটা মেহেরিয়া মাদ্রাসার নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহন পূর্বক মাদ্রাসাটিকে ব্যাপক উন্নয়ন করে জামেয়া'য় (আরবী বিশ্ববিদ্যালয়) রুপান্তরিত করেন এবং শেষ নিঃশাষ পর্যন্ত জামেয়ার শাইখুল হাদীসের আসনে অধিষ্টিত ছিলেন।
আমি অধম হুজুর হতে কোদালা আজিজিয়া মাদ্রাসায় বাকোরাতুল আদব, নাহবে মীর, তাইসীরুল মানতেক, মিরকাত, শরহে জামি, তরজুমা কোরআন ও মিশকাত শরীফ প্রভৃতি কিতাব পড়ে ধন্য হয়েছি।
আমি অধম হুজুর হতে কোদালা আজিজিয়া মাদ্রাসায় বাকোরাতুল আদব, নাহবে মীর, তাইসীরুল মানতেক, মিরকাত, শরহে জামি, তরজুমা কোরআন ও মিশকাত শরীফ প্রভৃতি কিতাব পড়ে ধন্য হয়েছি।
কোদালা আজিজিয়া নতুন মাদ্রাসা নির্মাণ ও সরফভাটা মেহেরিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে হুজুরের হাঁড়ভাঙ্গা মেহনত আমরা নিজ চোখে দেখেছি।
ইসলাম বিরোধী যেকোন কার্যকলাপ বন্ধে হুজুর ভূমিকা ছিলো কঠোর, রাজনৈতিক জীবনে ইসলামী ঐক্যজোট কেন্দ্রীয় কমিটি ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড "বেফাকে" ছিলো তার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুচিন্তিত পদক্ষেপ ও ভুমিকা।
তিনি ছিলেন একজন আপোষহীন রাহবার ও সমাজ সেবক, বার্মায় নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সহযোগীতায় ছিলো তার বিরাট অবদান।
আমাকে করা হুজুরের শেষ নসীহতঃ
গত বছর উত্তর বনগ্রাম সেগুন বাগান মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক সভার খানার বৈঠকে আমার একটি লেখা প্রসঙ্গে একজন মোহতামিম কথা তুললে হুজুর আমাকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন "অপুত চালিয়ে যা" আরো অনেক কিছু,,,,সেই স্মৃতি গুলো আজ আমাকে কাদাঁয়,, হুজুর যে এতো তাড়াতাড়ী চলে যাবেন কখনো কল্পনাও করিনি, ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে লিখতে আজ আমার হাত কাঁপছে, অন্য কোন দিন বিস্তারিত লিখবো,,,,,ইনশাআল্লাহ।
হে আল্লাহ, হযরতের সকল গোনাহ মাফ করে জান্নাতের আ'লা মাক্বাম দান করুন - এবং হুজুরের পরিবার সন্তান ও রুহানী সন্তান ছাত্রদের সবরে জমীল দান করো--
نور الله مرقده وجعل الجنة مثواه......
আমিন।
হুজুরের নামাজে জানাযা আজ ২৩ মার্চ -২০২০ রাত দশটায় সরফভাটা মেহেরিয়া মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন