পাগড়ি'র বিধানঃ
প্রিয় নবী (সাঃ) এর সুন্নাতি লেবাস ছেড়ে মানুষ এখন বিধর্মীদের আধুনিক পোষাক ও ফ্যাশনের পিচনে দৌড়াচ্ছে, কেউ কেউ নিজের পছন্দের কোট টাই কে প্রাধন্য দিতে গিয়ে রাসুলের সুন্নাতি পোষাক টুপি পাগড়ি কেও সুন্নাহ বলে স্বীকার করেনা এবং ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে, পাগড়ির কথা কোন হাদীসে নেই ওটা সুফিয়ানা পোষাক!
রাসুল (সাঃ) এর এই রাজকীয় পোষাক কে ওরা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে অপমান করে থাকেন এবং বেদ্বীনী পোষাক কোট টাই পরাটা কে যুগউপযোগী ও গর্ব মনে করেন, আর মিডিয়াতে বসে ঐ সব বাংলা শায়খরা সাধারন মানুষ কে ল্যাকচার দিয়ে বেড়ায় টুপি পাগড়ির কথা কোরআন হাদীসে নেই!
ইন্ডিয়া পাকিস্তানে তাদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা গুলোতে ছাত্রদের পোষাক হিসেবে কোট টাই কেই বাধ্যতা মূলক করেছে! ইসলামী ও সুন্নাতি পোষাক নাকি সেকেলে!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবা গন পাগড়ি ব্যবহার করতেন যা তা বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে। এখানে দু’ একটি হাদীস উল্ল্যেখ করছি।
হযরত যাবের রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ি ছিল।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৫৮
হযরত মুগীরা ইবনে শুবা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং মাথার অগ্রভাগ ও পাগড়ির উপর মাসাহ করলেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮১
তাঁর পাগড়ি পরিধান সংক্রান্ত এ ধরনের আরো অনেক বর্ণনা হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
সাহাবা, তাবেয়ীগণও নামাযে এবং নামাযের বাইরে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে পাগড়ি ব্যবহার করতেন। দ্রষ্টব্য : সহীহ বুখারী ১/৫৬
সুলাইমান ইবনে আবি আবদিল্লাহ রাহ. বলেন, আমি মুহাজির সাহাবীগণকে কালো, সাদা, হলুদ, সবুজ বিভিন্ন রঙের পাগড়ি পরতে দেখেছি।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫৪৮৯
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি মক্কা মুকাররমার উদ্দেশে বের হলে সঙ্গে পাগড়ি নিতেন এবং তা পরিধান করতেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৫৫২
আবু উবাইদ রাহ. বলেছেন, আমি আতা ইবনে ইয়াযিদকে পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছি।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১১৭৮০
উপরোক্ত হাদীস ও আছার থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, সাহাবা, তাবেয়ীন নামাযে ও নামাযের বাইরে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে পাগড়ি পরতেন। তাঁদের কাছে পোশাক হিসেবে পাগড়ির একটি বিশেষ অবস্থান ও গুরুত্ব ছিল।
এখন প্রশ্ন হল পাগড়ি কিভাবে বাঁধবেন?
শিয়া ও অমুসলিমদের পাগড়িতে শিমলা থাকেনা কিন্তু মুসলিমদের পাগড়িতে পিচনে শিমলা বা পাগড়ির অপর মাথার চার আঙ্গুল বা এক বিগত পরিমান পিচনে ঝুলিয়ে রাখতে হয়।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اعْتَمَّ سَدَلَ عِمَامَتَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ قَالَ نَافِعٌ: وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَسْدِلُ عِمَامَتَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، قَالَ عُبَيْدُ اللهِ: وَرَأَيْتُ القَاسِمَ، وَسَالِمًا يَفْعَلاَنِ ذَلِكَ.
হযরত ইবনে উমর রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ যখন পাগড়ি পরতেন, তখন তার শিমলা উভয় কাঁধের মাঝখানে পেছন দিকে ঝুলিয়ে রাখতেন। নাফে রহঃ বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন উমর রাঃ কে এরূপ করতে দেখেছি। নাফেল শিষ্য উবায়দুল্লাহ বলেন, আমি আবু বকর রাঃ এর পৌত্র কাশেম বিন মুহাম্মদকে এরূপ করতে দেখেছি। {তিরমিজী, হাদীস নং-১৭৩৬}
أدركت المهاجرين الأولين يعتمون بعمائم كرابيس سود وبيض وحمر وخضر وصفر، يضع أحدهم العمامة على رأسه ويضع القلنسوة فوقها، ثم يدير العمائم هكذا على كوره لا يخرجها من ذقنه
আমি প্রথম সারির মুহাজিরগণকে দেখেছি তাঁরা সুতির পাগড়ি পরিধান করতেন। কালো, সাদা, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের। তারা পাগড়ির কাপড় মাথায় রেখে তার উপর টুপি রাখতেন। অতপর তার উপর পাগড়ি ঘুরিয়ে পরতেন।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১২/৫৪৫
পরিশেষঃ
রাসুল সাঃ বলেন "যে যে জাতির অনুকরন করবে সে সে জাতি বলেই গন্য হবে"
রাসুলের কথা, কাজ, সম্মতি ও চাল চলন কেই সুন্নাত বলা হয়, পাগড়ি যেহেতু রাসুল সাঃ ও সাহাবায়ে কেরামগন ব্যবহার করতেন সেহেতু পাগড়ি সুন্নাহ হিসেবেই গন্য।
আল্লাহর রাসুল সাঃ বলেন " তোমরা আমার ও খোলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নাত কে আকড়ে ধরো" তিনি আরো বলেন " যে আমার সুন্নাত কে ভালবাসলো সে আমাকে ভালবাসলো আর যে আমাকে ভাল বাসলো সে আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে- আল হাদীস।
তাই আসুন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তার হাবীবের অনুস্বরন করি।
আশা করি লেখাটি পড়ার পর আর কোন মুসলিমের পাগড়ি নিয়ে সন্দেহ থাকবেনা ইনশাআল্লাহ।
দ্বীনী লেখা শেয়ার করাটাও ছোয়াবের কাজ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন