শিশুদের "নজর ফোঁটা"
- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী
হযরত লোকমান (আঃ) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন-
“নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে সব চাইতে বড় যুলুম”
-আল কোরআন সুরা লোকমান।
শির্ক সব চাইতে বড় পাপ, শির্ক করে তওবা না করে মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। সঠিক জ্ঞানের অভাবে কোন কাজগুলো শির্ক বা কবীরা গোনাহ তা আমরা অনেকেই জানিনা। অনেকেই না জেনে এমন কিছু কাজ করে বসে যেগুলো শির্ক।
সেজন্যে নারী ও পুরুষ সকলের জন্য দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা ইসলামে ফরয করা হয়েছে।
অথচ আজকাল মুসলিম সমাজের অবস্থা এমন হয়েছে যে ধর্ম কি তা পুরাপুরি জানেইনা, দেশের স্কুল গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা বলতে শুধু নামকে ওয়াস্তে ! ছাত্র ছাত্রীরাতো দুরের কথা কোন ধর্মীয় জরুরী মাসআলা মাসায়েল জিজ্ঞাসা করলে একজন মুসলিম হেড মাষ্টার ও তার জবাব দিতে পারবেনা! অথচ এসব জানা সকল মুসলিমের জন্য ফরজ ছিল।
আমি যে প্রসংগে বলছিলাম, দেশের অনেক মা-বোন তাদের সন্তানদেরকে বাইরে নিয়ে বের হওয়ার সময় মাথায় বা কপালে কালি দিয়ে “নজর ফোঁটা” লাগিয়ে দেন অনেকে শিশুর হাতে লোহার একখানা ছুরি (খারু) অথবা অসুস্থতার জন্য হাতে পায়ে বা কুমরে সুতা বেঁধে রাখেন, আর তারা মনে করেন এগুলো তাদের “চোখের নজর” বা অন্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। এই ধরণের ভ্রান্ত বিশ্বাস শির্ক, যার উৎস হলো হিন্দুয়ানি কুসংস্কার।
চোখের নজর সত্যি। মানুষের হিংসাপূর্ণ কথা বা মনোভাব কারো ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু চোখের নজর থেকে বাঁচার জন্য এগুলো ব্যবহার করা শির্ক।
ছোঠ বাচ্চাদের কে চোখের নজর থেকে বাঁচানোর জন্য যা করতে হবে –
১. সকাল বিকাল আয়াতুল কুরসী পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
২. দুয়া করে আল্লাহর কাছে এগুলো থেকে নিরাপত্তা চাইতে হবে।
৩. চোখের নজর ও সৃষ্টির ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হাসান ও হুসাইন (রাঃ) এর জন্য এই দুয়া করতেন –
“আ’উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মাহ মিন কুল্লি শায়াতিনিউ ওয়া হাম্মাহ, ওয়ামিন কুল্লি আ’ইনিল লাম্মাহ।
বুখারী ৩৩৭১।
আর রোগ-ব্যধি থেকে বেঁচে থাকার জন্য হাতে সুতা/বালা বা তাগা ইত্যাদি বেঁধে রাখা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সঃ) এক ব্যক্তির হাতে একটি পিতলের বালা দেখলেন। অতঃপর বললেন, এটা কি? সে বলল, এটা দুর্বলতা রোগ থেকে মুক্তির জন্য রেখেছি। অতঃপর নবী (সঃ) বললেন, এটা খুলে ফেল। কেননা ওটা তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর যদি তুমি ওটা রাখাবস্থায় মৃত্যুবরণ কর তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জ করতে পারবে না। অর্থাৎ জান্নাতে যেতে পারবে না।
(মুসনাদে আহমাদ)
অতএব, যেকোন কিছু ব্যবহার বা আমলের পুর্বে আমাদের জানতে হবে তা শরীয়ত সমর্থিত কিনা, শরীয়তে যা নিষেধ আছে ঐ কাজ বা আমল প্রত্যহ মুসলিমদের জন্য পরিত্যগ করে সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন যাপন করাটাই একজন খোদাভীরু মু'মীনের কর্তব্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের কে দ্বীনের সহীহ জ্ঞান দান করুক - আমিন।
শেয়ার করলে সকলেই জানবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন