যৌতুক একটি সামাজিক ক্যান্সার!
- ছাঈদ কেদালাভী
যৌতুক আমাদের দেশের একটি সামাজিক ক্যান্সার!
বর বা তার অভিবাবকের চাপে কনে পক্ষ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র আদায় করা যেমন কনের অলঙ্কার, ফার্নিচার ঘরোয়া আসবাবপত্র ইত্যাদি সহ অতিরিক্ত নগদ টাকা গ্রহনই হচ্ছে যৌতুক!
যা ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ বরং এটি এক প্রকারের জুলুম যা মারাত্বক পাপ!
আগে এ ধরনের সংস্কৃতি হিন্দূস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দেখা যেত, কিন্তু ক্রমে ক্রমে ইন্ডিয়ার চার পার্শ্বের মুসলিম দেশ সমুহে ও তা বিস্তার করেছে, এবং দিন দিন তার ভয়াবহতা বেড়েই চলছে, নির্যাতিত হচ্ছে আমার দেশের অসংখ্য মা বোনেরা, মেহেদীর রং না মুছতেই সংসার হারা হচ্ছে অনেক নব বধু! যৌতুক দিতে নাপারায় এসিডদগ্ধ হচ্ছে হাজারো অবলা নারী!
যে ধর্মে নব বধূ কে মোহরানা আদায় করে গ্রহন করতে বলা হয়েছে সেখানে নব বধূ হতেই আমরা আদায় করছি নগদ টাকা সহ ফার্নিচার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ইত্যাদী , আল্লাহর হকুমের অমান্য করার কারনেই আজ সংসারে এতো অশান্তি।
যৌতুক এক প্রকারের সুদ ও ঘুষ!
বর বা তার গার্জিয়ানের পক্ষ থেকে যদি এমন শর্ত করা হয় যে কনে বা তার গার্জিয়ানের পক্ষ থেকে হাদিয়া তুহফা বা টাকা-পয়সা ইত্যাদি উপঢৌকন না দিলে, উক্ত কনেকে বিবাহই করবে না, তাহলে শর্ত সাপেক্ষে কনের পক্ষ থেকে উক্ত জিনিসপত্র দেওয়া সুদ হিসেবে হারাম হবে। চাই তা নিজের দিক বা অন্য কারো কাছ থেকে নিয়েই দিক। কেননা বিবাহ বন্ধন হল এমন একটি বেচা-কেনা যেখানে বিনিময়ে কিছু পাওয়া যায় না। যেমন- অন্যান্য বেচা-কেনার টাকার বিনিময়ে কাপড়, ধান ইত্যাদি কোনো বস্তু পাওয়া যায়। তাই বিবাহ নামক বেচা-কেনার মধ্যে শরীয়তের দাবী (যেমন মহর ইত্যাদি) ব্যতীত যে কোনো পক্ষ থেকে টাকা-পয়সা দেওয়া ও নেওয়া ঘুষ হিসাবে হারাম হবে।
আর বিবাহের পূর্বে, মেয়ের পিতা ছেলের অসন্তুষ্টিতে, তার নিকট থেকে দাবীর মাধ্যমে যে টাকা গ্রহণ করে, তাও সুদ। হ্যাঁ ছেলের নিকট দাবী করা ব্যতীত সে সন্তুষ্টচিত্তে যদি দিয়ে থাকে তাহলে সেটা জায়েয হবে।
বিবাহ মজলিসে বরকে হাদিয়া তোহফার নামে বিভিন্ন জিনিস দেওয়ার যে রেওয়াজ রয়েছে,
যদিও তা শর্ত ব্যতীত হোক না কেন, মাকরূহে তাহরিমী। যেমন মোল্লা আলী কারী (রহঃ)শরহে মেশকাতের মধ্যে স্পষ্ট ভাষায় তার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
অনেক জায়গার মধ্যে বিবাহের প্রথা রয়েছে যেমন বিবাহের মজলিসে বরকে উপস্থিত মানুষের সামনে দাঁড় করিয়ে সালাম করানো হয়। ইহাও এক প্রকার রেওয়াজ ও গোনাহ।
হ্যাঁ প্রথম সাক্ষাতের সময় সালাম করা সুন্নত। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে নয়।
আবার অনেক জায়গাতে বিবাহ মজলিস থেকে পানের বাটা বা রুমাল ঘরে প্রেরণ করা হয়। ইচ্ছায় আর অনিচ্ছায় পানের বিনিময়ে যা টাকা উসুল করা হয়, তা আবার বরের নিকট ফেরত দেওয়া হয়। ইহা আসলে হাদিয়া নয় একটি রেওয়াজ মাত্র। হাদিয়ার নামে যে টাকা দেয়া হয় তা খুশী মনে দেয়া হয় না। বরং নিজের সম্মানকে অক্ষুণ্ণ রাখার ভয়েই দেয়া হয়। তাই এ জাতীয় কুসংস্কার জায়েয হবে না। কেননা সন্তুষ্টচিত্ত ব্যতিত একজনের মাল-সম্পদ অপরের জন্য হালাল নয়।
এমনিভাবে বিবাহের দিন বরকে খাট পালং, ফ্রীজ, টিভি, মোটর সাইকেল, মোবইল, ঘড়ি ইত্যাদি বিভিন্ন আসবাবপত্র দেওয়ার প্রচলনও না জায়েয। আবার বরকে ঘরে নিয়ে ঘরের চতুর্দিক থেকে মেয়েরা তাকিয়ে দেখা, তা কবিরাহ গোনাহ।
এমনিভাবে অপরিচিত বা পরিচিত গায়রে মোহরেম (যাদেরকে বিবাহ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয) মেয়ে লোক বরের সামনে আসা,মেয়ে লোক বরের সামনে গান গাওয়া ও মালা পরানো, মিষ্টি মুখ করানো এবং তার বিনিময়ে টাকা আদায় করা সম্পূর্ণ গুনাহের কাজ। মেয়েদের জন্য মেহেন্দি লাগানো মুস্তাহাব। পুরুষের জন্য হারাম। কেননা তা হল সাজসজ্জার উপকরণ। আর সাজসজ্জা হল মেয়েদের জন্য। তা পুরুষের জন্য নয়।
তেমনিভাবে স্বর্ণের আংটি এবং অন্যান্য জেওর পুরুষের জন্য হারাম। শরীয়তে এ জাতীয় লেনদেনের কোনো ভিত্তি নেই। আবার যা দেয়া হয় তা খুশীতে নয় বরং সম্মান রক্ষার্থে এবং রেওয়াজ টিকিয়ে রাখার জন্যই দেয়া হয়। আর অসন্তুষ্টির ভিত্তিতে জোর যরবদস্তির মাধ্যমে যা আদায় করা হয় তা সর্বসম্মতিক্রমেই হারাম। কারণ তা হলো এক প্রকার ডাকাতি বরং তার চেয়েও মারাত্মক।
তাই এসব হারাম কাজ হতে সকল মুসলিম যুবকদের বাঁচতে হবে সাথে সাথে গুনেধরা সমাজ কে যৌতুক মুক্ত করে নারী নির্যাতন বন্ধ করা প্রতিটি মুমীন যুবকের ঈমানী দায়িত্ব।
ভূলবসত কেউ যদি নিজের বিয়ের সময় যৌতুক নিয়েও ফেলি তা কনে পক্ষকে ফেরত দেয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং স্ত্রীর মোহরানা বাকি থাকলে তা স্ত্রীকে জীবদ্ধসায় আদায় করে দিতে হবে নচেত একদিন আল্লাহর আদালতে তা আদায় করা হবে।
শেয়ার করে যৌতুক মুক্ত সমাজ গড়তে গন স্বচেতনতা সৃষ্টি করুন।
- ছাঈদ কোদালাভী ১৭-১২-২০১৫ ইং
যৌতুক আমাদের দেশের একটি সামাজিক ক্যান্সার!
বর বা তার অভিবাবকের চাপে কনে পক্ষ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র আদায় করা যেমন কনের অলঙ্কার, ফার্নিচার ঘরোয়া আসবাবপত্র ইত্যাদি সহ অতিরিক্ত নগদ টাকা গ্রহনই হচ্ছে যৌতুক!
যা ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ বরং এটি এক প্রকারের জুলুম যা মারাত্বক পাপ!
আগে এ ধরনের সংস্কৃতি হিন্দূস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দেখা যেত, কিন্তু ক্রমে ক্রমে ইন্ডিয়ার চার পার্শ্বের মুসলিম দেশ সমুহে ও তা বিস্তার করেছে, এবং দিন দিন তার ভয়াবহতা বেড়েই চলছে, নির্যাতিত হচ্ছে আমার দেশের অসংখ্য মা বোনেরা, মেহেদীর রং না মুছতেই সংসার হারা হচ্ছে অনেক নব বধু! যৌতুক দিতে নাপারায় এসিডদগ্ধ হচ্ছে হাজারো অবলা নারী!
যে ধর্মে নব বধূ কে মোহরানা আদায় করে গ্রহন করতে বলা হয়েছে সেখানে নব বধূ হতেই আমরা আদায় করছি নগদ টাকা সহ ফার্নিচার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ইত্যাদী , আল্লাহর হকুমের অমান্য করার কারনেই আজ সংসারে এতো অশান্তি।
যৌতুক এক প্রকারের সুদ ও ঘুষ!
বর বা তার গার্জিয়ানের পক্ষ থেকে যদি এমন শর্ত করা হয় যে কনে বা তার গার্জিয়ানের পক্ষ থেকে হাদিয়া তুহফা বা টাকা-পয়সা ইত্যাদি উপঢৌকন না দিলে, উক্ত কনেকে বিবাহই করবে না, তাহলে শর্ত সাপেক্ষে কনের পক্ষ থেকে উক্ত জিনিসপত্র দেওয়া সুদ হিসেবে হারাম হবে। চাই তা নিজের দিক বা অন্য কারো কাছ থেকে নিয়েই দিক। কেননা বিবাহ বন্ধন হল এমন একটি বেচা-কেনা যেখানে বিনিময়ে কিছু পাওয়া যায় না। যেমন- অন্যান্য বেচা-কেনার টাকার বিনিময়ে কাপড়, ধান ইত্যাদি কোনো বস্তু পাওয়া যায়। তাই বিবাহ নামক বেচা-কেনার মধ্যে শরীয়তের দাবী (যেমন মহর ইত্যাদি) ব্যতীত যে কোনো পক্ষ থেকে টাকা-পয়সা দেওয়া ও নেওয়া ঘুষ হিসাবে হারাম হবে।
আর বিবাহের পূর্বে, মেয়ের পিতা ছেলের অসন্তুষ্টিতে, তার নিকট থেকে দাবীর মাধ্যমে যে টাকা গ্রহণ করে, তাও সুদ। হ্যাঁ ছেলের নিকট দাবী করা ব্যতীত সে সন্তুষ্টচিত্তে যদি দিয়ে থাকে তাহলে সেটা জায়েয হবে।
বিবাহ মজলিসে বরকে হাদিয়া তোহফার নামে বিভিন্ন জিনিস দেওয়ার যে রেওয়াজ রয়েছে,
যদিও তা শর্ত ব্যতীত হোক না কেন, মাকরূহে তাহরিমী। যেমন মোল্লা আলী কারী (রহঃ)শরহে মেশকাতের মধ্যে স্পষ্ট ভাষায় তার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
অনেক জায়গার মধ্যে বিবাহের প্রথা রয়েছে যেমন বিবাহের মজলিসে বরকে উপস্থিত মানুষের সামনে দাঁড় করিয়ে সালাম করানো হয়। ইহাও এক প্রকার রেওয়াজ ও গোনাহ।
হ্যাঁ প্রথম সাক্ষাতের সময় সালাম করা সুন্নত। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে নয়।
আবার অনেক জায়গাতে বিবাহ মজলিস থেকে পানের বাটা বা রুমাল ঘরে প্রেরণ করা হয়। ইচ্ছায় আর অনিচ্ছায় পানের বিনিময়ে যা টাকা উসুল করা হয়, তা আবার বরের নিকট ফেরত দেওয়া হয়। ইহা আসলে হাদিয়া নয় একটি রেওয়াজ মাত্র। হাদিয়ার নামে যে টাকা দেয়া হয় তা খুশী মনে দেয়া হয় না। বরং নিজের সম্মানকে অক্ষুণ্ণ রাখার ভয়েই দেয়া হয়। তাই এ জাতীয় কুসংস্কার জায়েয হবে না। কেননা সন্তুষ্টচিত্ত ব্যতিত একজনের মাল-সম্পদ অপরের জন্য হালাল নয়।
এমনিভাবে বিবাহের দিন বরকে খাট পালং, ফ্রীজ, টিভি, মোটর সাইকেল, মোবইল, ঘড়ি ইত্যাদি বিভিন্ন আসবাবপত্র দেওয়ার প্রচলনও না জায়েয। আবার বরকে ঘরে নিয়ে ঘরের চতুর্দিক থেকে মেয়েরা তাকিয়ে দেখা, তা কবিরাহ গোনাহ।
এমনিভাবে অপরিচিত বা পরিচিত গায়রে মোহরেম (যাদেরকে বিবাহ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয) মেয়ে লোক বরের সামনে আসা,মেয়ে লোক বরের সামনে গান গাওয়া ও মালা পরানো, মিষ্টি মুখ করানো এবং তার বিনিময়ে টাকা আদায় করা সম্পূর্ণ গুনাহের কাজ। মেয়েদের জন্য মেহেন্দি লাগানো মুস্তাহাব। পুরুষের জন্য হারাম। কেননা তা হল সাজসজ্জার উপকরণ। আর সাজসজ্জা হল মেয়েদের জন্য। তা পুরুষের জন্য নয়।
তেমনিভাবে স্বর্ণের আংটি এবং অন্যান্য জেওর পুরুষের জন্য হারাম। শরীয়তে এ জাতীয় লেনদেনের কোনো ভিত্তি নেই। আবার যা দেয়া হয় তা খুশীতে নয় বরং সম্মান রক্ষার্থে এবং রেওয়াজ টিকিয়ে রাখার জন্যই দেয়া হয়। আর অসন্তুষ্টির ভিত্তিতে জোর যরবদস্তির মাধ্যমে যা আদায় করা হয় তা সর্বসম্মতিক্রমেই হারাম। কারণ তা হলো এক প্রকার ডাকাতি বরং তার চেয়েও মারাত্মক।
তাই এসব হারাম কাজ হতে সকল মুসলিম যুবকদের বাঁচতে হবে সাথে সাথে গুনেধরা সমাজ কে যৌতুক মুক্ত করে নারী নির্যাতন বন্ধ করা প্রতিটি মুমীন যুবকের ঈমানী দায়িত্ব।
ভূলবসত কেউ যদি নিজের বিয়ের সময় যৌতুক নিয়েও ফেলি তা কনে পক্ষকে ফেরত দেয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং স্ত্রীর মোহরানা বাকি থাকলে তা স্ত্রীকে জীবদ্ধসায় আদায় করে দিতে হবে নচেত একদিন আল্লাহর আদালতে তা আদায় করা হবে।
শেয়ার করে যৌতুক মুক্ত সমাজ গড়তে গন স্বচেতনতা সৃষ্টি করুন।
- ছাঈদ কোদালাভী ১৭-১২-২০১৫ ইং
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন