খতনা এবং আমাদের কূসংস্কার!
- শায়খ ছাঈদ কোদালাভী
ইসলামী শরীয়তে ছেলেদের খতনা করানো সুন্নাত এবং ছোয়াবের কাজ, আধুনিক বিজ্ঞানেও খতনার অনেক উপকারিতার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এই সুন্নাত কে আজ বিভিন্ন মূর্খতা ও অজ্ঞতার কারনে কুসংস্কারের সংমিশ্রণ করে কিছু লোক বিদাআতে পরিনত করেছে!
সাধারন মানুষের দেখা দেখি কতিপয় আলেমদের ও এসব বিদআতে পতিত হতে দেখা যায়!
আবার কেউ কেউ এসব কূসংস্কার কে আধুনিকতা মনে করেন।
হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, খতনা করা সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামগণের সুন্নাত এবং ইসলামের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
হযরত আবু আয়্যুব (রা.) বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- চারটি জিনিস নবীগণের সুন্নাত তাহলো খতনা, আতর,মিছওয়াক ও বিবাহ।
এ পবিত্র ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের মধ্যে জাগরিত কলঙ্কজনিত খারাপ উদ্দেশ্যের সংমিশ্রণ না করাই বিবেকের দাবী। বিশেষ করে বর্তমান যুগে এ জাতীয় কুসংস্কার থেকে শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য অটুট ও সবল রাখার জন্যে দূরে থাকা বিশেষ প্রয়োজন।
খতনা সম্পর্কে আমাদের দেশে যে প্রথা প্রচলিত আছে যেমন খতনার সপ্তম দিনে তার ছেলের মাথার চুল কেটে গোসল দিয়ে ভাল ভাল কাপড় পরিধান করিয়ে মেহেদী লাগিয়ে দুলার মত সাজানো হয়।
তারপর আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়া হয় উক্ত দাওয়াতে আংটি, কাপড়, টাকা-পয়সা ইত্যাদি আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের থেকে আদায় করা হয়। বিনিময়ে আমন্ত্রণকারী গরু ছাগল ইত্যাদি জবাই করে মেহমানদারী করেন। এগুলি সবই শরীয়ত পরিপন্থী কাজ।
কেননা শরীয়তে এ জাতীয় কাজের কোনো অস্তিত্ব ও ভিত্তি নেই। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং আয়িম্মায়ে মুজতাহেদীনগণ ও ছেলে সন্তানের খতনা করাতেন। তেমনিভাবে ওলি বুজুর্গণও ছেলে সন্তানের খতনা করাতেন। কিন্তু তাকে উপলক্ষ করে এ জাতীয় কুসংস্কার মূলক কাজ কোনো দিনই করেননি। তাদের থেকে এসবের প্রমাণ না হওয়া বেদআত হওয়ার বলিষ্ঠ দলিল।
তাছাড়াও এ জাতীয় কাজগুলো করা হয় শুধু নাম ও যশের জন্য, ইখলাসের গন্ধও তাতে পাওয়া যায় না। আর উপঢৌকন হিসাবে যা কিছু পেশ করা হয় তা শুধু নিজের ব্যক্তিত্বকে বজায় রাখার নিমিত্তেই পেশ করা হয়।
খতনা আকিকা ও মেয়েদের কর্ন চেদন অনুষ্টানের আমন্ত্রনকারী আয়োজকগন মনে করেন একলাখ টাকা খরছ করলে ৫০ হাজার টাকা নিশ্চয় লাভ হবে, আর যারা খতনা অনুষ্টানে খেতে যায় সেও মনে করে আজ না হয় একহাজার টাকা দিয়ে গেলাম আমার ছেলের খতনা অনুষ্টানে তার ডবল উশুল করে নেব।
আবার অনেক গরীব আত্মীয় টাকা পয়সার অভাবে রেওয়াজ অনুযায়ী টাকা বা উপঢৌকন নিতে নাপারায় ঐসব দাওয়াতে যেতেও পারেনা, প্রায় লোক কেই দেখা যায় এসব অনুষ্টানে বড় লোকদের কেই বেশী নিমন্ত্রন জানানো হয়, গরীব আত্মীয়দের এসবে মূল্যায়ন করা হয়না,
এ জাতীয় লেনদেনের ব্যাপারে পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান।
যারা আল্লাহ কে ভয় করে তারা যেন অনুষ্টানের এসব হাদীয়া গ্রহন না করে এসব লোক দেখানো রসম ও রেওয়াজ মাত্র, যাকে হাদীসে ঘুষের সমতুল্য বলা হয়েছে।
খতনা ও আকিকায় আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশী ও গরীবদের খানা খাওয়ানো সুন্নাত, আর এ সুন্নাত হতে হবে রাসুল সাঃ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রদর্শিত নিয়ম মতো, শির্ক বিদআত নাচ গান ও অপব্যয় করে নয়।
উদারহণ স্বরূপ এখানে আমাদের দেশে বিদ্যমান কিছু বিদ‘আত ও কুসংস্কারের কথা উল্লেখ করা হলো। এমনিভাবে আমাদের অসংখ্য কাজকর্মে আকীদা বিশ্বাসে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঈমান বিধবংসী আরো বহু শির্ক এমনভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যা পরিহার করা আমার আপনার সকলের ঈমানী কর্তব্য।
শেয়ার করে সকল কে পড়ার সুযোগ দিন।
ছাঈদ কোদালাভী ২২-১২-২০১৫ ইং
ইসলামী শরীয়তে ছেলেদের খতনা করানো সুন্নাত এবং ছোয়াবের কাজ, আধুনিক বিজ্ঞানেও খতনার অনেক উপকারিতার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এই সুন্নাত কে আজ বিভিন্ন মূর্খতা ও অজ্ঞতার কারনে কুসংস্কারের সংমিশ্রণ করে কিছু লোক বিদাআতে পরিনত করেছে!
সাধারন মানুষের দেখা দেখি কতিপয় আলেমদের ও এসব বিদআতে পতিত হতে দেখা যায়!
আবার কেউ কেউ এসব কূসংস্কার কে আধুনিকতা মনে করেন।
হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, খতনা করা সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামগণের সুন্নাত এবং ইসলামের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
হযরত আবু আয়্যুব (রা.) বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- চারটি জিনিস নবীগণের সুন্নাত তাহলো খতনা, আতর,মিছওয়াক ও বিবাহ।
এ পবিত্র ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের মধ্যে জাগরিত কলঙ্কজনিত খারাপ উদ্দেশ্যের সংমিশ্রণ না করাই বিবেকের দাবী। বিশেষ করে বর্তমান যুগে এ জাতীয় কুসংস্কার থেকে শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য অটুট ও সবল রাখার জন্যে দূরে থাকা বিশেষ প্রয়োজন।
খতনা সম্পর্কে আমাদের দেশে যে প্রথা প্রচলিত আছে যেমন খতনার সপ্তম দিনে তার ছেলের মাথার চুল কেটে গোসল দিয়ে ভাল ভাল কাপড় পরিধান করিয়ে মেহেদী লাগিয়ে দুলার মত সাজানো হয়।
তারপর আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়া হয় উক্ত দাওয়াতে আংটি, কাপড়, টাকা-পয়সা ইত্যাদি আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের থেকে আদায় করা হয়। বিনিময়ে আমন্ত্রণকারী গরু ছাগল ইত্যাদি জবাই করে মেহমানদারী করেন। এগুলি সবই শরীয়ত পরিপন্থী কাজ।
কেননা শরীয়তে এ জাতীয় কাজের কোনো অস্তিত্ব ও ভিত্তি নেই। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং আয়িম্মায়ে মুজতাহেদীনগণ ও ছেলে সন্তানের খতনা করাতেন। তেমনিভাবে ওলি বুজুর্গণও ছেলে সন্তানের খতনা করাতেন। কিন্তু তাকে উপলক্ষ করে এ জাতীয় কুসংস্কার মূলক কাজ কোনো দিনই করেননি। তাদের থেকে এসবের প্রমাণ না হওয়া বেদআত হওয়ার বলিষ্ঠ দলিল।
তাছাড়াও এ জাতীয় কাজগুলো করা হয় শুধু নাম ও যশের জন্য, ইখলাসের গন্ধও তাতে পাওয়া যায় না। আর উপঢৌকন হিসাবে যা কিছু পেশ করা হয় তা শুধু নিজের ব্যক্তিত্বকে বজায় রাখার নিমিত্তেই পেশ করা হয়।
খতনা আকিকা ও মেয়েদের কর্ন চেদন অনুষ্টানের আমন্ত্রনকারী আয়োজকগন মনে করেন একলাখ টাকা খরছ করলে ৫০ হাজার টাকা নিশ্চয় লাভ হবে, আর যারা খতনা অনুষ্টানে খেতে যায় সেও মনে করে আজ না হয় একহাজার টাকা দিয়ে গেলাম আমার ছেলের খতনা অনুষ্টানে তার ডবল উশুল করে নেব।
আবার অনেক গরীব আত্মীয় টাকা পয়সার অভাবে রেওয়াজ অনুযায়ী টাকা বা উপঢৌকন নিতে নাপারায় ঐসব দাওয়াতে যেতেও পারেনা, প্রায় লোক কেই দেখা যায় এসব অনুষ্টানে বড় লোকদের কেই বেশী নিমন্ত্রন জানানো হয়, গরীব আত্মীয়দের এসবে মূল্যায়ন করা হয়না,
এ জাতীয় লেনদেনের ব্যাপারে পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান।
যারা আল্লাহ কে ভয় করে তারা যেন অনুষ্টানের এসব হাদীয়া গ্রহন না করে এসব লোক দেখানো রসম ও রেওয়াজ মাত্র, যাকে হাদীসে ঘুষের সমতুল্য বলা হয়েছে।
খতনা ও আকিকায় আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশী ও গরীবদের খানা খাওয়ানো সুন্নাত, আর এ সুন্নাত হতে হবে রাসুল সাঃ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রদর্শিত নিয়ম মতো, শির্ক বিদআত নাচ গান ও অপব্যয় করে নয়।
উদারহণ স্বরূপ এখানে আমাদের দেশে বিদ্যমান কিছু বিদ‘আত ও কুসংস্কারের কথা উল্লেখ করা হলো। এমনিভাবে আমাদের অসংখ্য কাজকর্মে আকীদা বিশ্বাসে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঈমান বিধবংসী আরো বহু শির্ক এমনভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যা পরিহার করা আমার আপনার সকলের ঈমানী কর্তব্য।
শেয়ার করে সকল কে পড়ার সুযোগ দিন।
ছাঈদ কোদালাভী ২২-১২-২০১৫ ইং
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন